ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোয় (ডিআরসি) ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেশটির ইতিহাসে ভয়াবহতম রূপ নিয়েছে। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে এ পর্যন্ত দেশটিতে ২ হাজার ৩২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা ২০১৮-২০২০ সালের প্রাদুর্ভাবের মৃত্যুসংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে। ওই সময় কঙ্গোয় ইবোলায় ২ হাজার ২৯৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল।
দেশটির জাতীয় জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ১০১ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এতে ইবোলায় মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৯৪৫ জনে।
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা প্রধান টম ফ্লেচার এক বিবৃতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘ভাইরাসটি আমাদের সাড়াদানের চেয়েও দ্রুত গতিতে ছড়াচ্ছে। এটি অত্যন্ত দ্রুত বর্ধনশীল একটি প্রাদুর্ভাব। ভাইরাসটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আগেই আমাদের গতি ও সংহতি বাড়াতে হবে।’
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মহাপরিচালক তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস সতর্ক করে বলেছেন, ভাইরাসের বর্তমান বিস্তার অব্যাহত থাকলে এটি ২০১৪-১৬ সালের পশ্চিম আফ্রিকার ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। উল্লেখ্য, সেই সময় পশ্চিম আফ্রিকায় ইবোলায় ১১ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এবারের প্রাদুর্ভাবের মূল কারণ ইবোলার ‘বুন্দিবুগিও’ (Bundibugyo) প্রজাতি। এই নির্দিষ্ট প্রজাতির জন্য এখন পর্যন্ত স্বীকৃত কোনো টিকা বা চিকিৎসা পদ্ধতি নেই। জুন মাসের শুরুতে মৃত্যুর হার ২০ শতাংশ থাকলেও বর্তমানে তা বেড়ে ৪৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ, প্রতি দুইজন আক্রান্তের মধ্যে একজন মৃত্যুবরণ করছেন।
চিকিৎসা সেবামূলক সংস্থা ‘ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্স’ (এমএসএফ)-এর জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ থমাস পারিশ জানান, সাধারণত সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যুর হার কমে আসার কথা থাকলেও এখানে ঘটছে উল্টো। অনেক রোগী একেবারে শেষ পর্যায়ে শনাক্ত হচ্ছেন অথবা মারা যাওয়ার পর খবর পাওয়া যাচ্ছে। দক্ষিণ সুদান, উগান্ডা ও রুয়ান্ডা সীমান্তের নিকটবর্তী অঞ্চলগুলোতে চলমান সংঘাত ও দুর্বল স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর কারণে চিকিৎসাসেবা পৌঁছাতে চরম বেগ পেতে হচ্ছে।
\

মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ আগস্ট ২০২৬
ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোয় (ডিআরসি) ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেশটির ইতিহাসে ভয়াবহতম রূপ নিয়েছে। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে এ পর্যন্ত দেশটিতে ২ হাজার ৩২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা ২০১৮-২০২০ সালের প্রাদুর্ভাবের মৃত্যুসংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে। ওই সময় কঙ্গোয় ইবোলায় ২ হাজার ২৯৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল।
দেশটির জাতীয় জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ১০১ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এতে ইবোলায় মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৯৪৫ জনে।
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা প্রধান টম ফ্লেচার এক বিবৃতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘ভাইরাসটি আমাদের সাড়াদানের চেয়েও দ্রুত গতিতে ছড়াচ্ছে। এটি অত্যন্ত দ্রুত বর্ধনশীল একটি প্রাদুর্ভাব। ভাইরাসটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আগেই আমাদের গতি ও সংহতি বাড়াতে হবে।’
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মহাপরিচালক তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস সতর্ক করে বলেছেন, ভাইরাসের বর্তমান বিস্তার অব্যাহত থাকলে এটি ২০১৪-১৬ সালের পশ্চিম আফ্রিকার ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। উল্লেখ্য, সেই সময় পশ্চিম আফ্রিকায় ইবোলায় ১১ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এবারের প্রাদুর্ভাবের মূল কারণ ইবোলার ‘বুন্দিবুগিও’ (Bundibugyo) প্রজাতি। এই নির্দিষ্ট প্রজাতির জন্য এখন পর্যন্ত স্বীকৃত কোনো টিকা বা চিকিৎসা পদ্ধতি নেই। জুন মাসের শুরুতে মৃত্যুর হার ২০ শতাংশ থাকলেও বর্তমানে তা বেড়ে ৪৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ, প্রতি দুইজন আক্রান্তের মধ্যে একজন মৃত্যুবরণ করছেন।
চিকিৎসা সেবামূলক সংস্থা ‘ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্স’ (এমএসএফ)-এর জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ থমাস পারিশ জানান, সাধারণত সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যুর হার কমে আসার কথা থাকলেও এখানে ঘটছে উল্টো। অনেক রোগী একেবারে শেষ পর্যায়ে শনাক্ত হচ্ছেন অথবা মারা যাওয়ার পর খবর পাওয়া যাচ্ছে। দক্ষিণ সুদান, উগান্ডা ও রুয়ান্ডা সীমান্তের নিকটবর্তী অঞ্চলগুলোতে চলমান সংঘাত ও দুর্বল স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর কারণে চিকিৎসাসেবা পৌঁছাতে চরম বেগ পেতে হচ্ছে।
\

আপনার মতামত লিখুন