অনলাইন মার্কেটপ্লেস দারাজে বিজ্ঞাপন দিয়ে নিষিদ্ধ মাদক বিক্রির অভিযোগে রাজধানীর বাড্ডা থেকে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। গ্রেপ্তার মোহাম্মদ আনিসুর রহমানের বয়স ৪০ বছর। তিনি পেশায় কেমিস্ট বলে জানিয়েছে তদন্ত–সংশ্লিষ্ট সূত্র।
ডিএনসি সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, অনলাইনে ‘সিবিডি তেল’ নামে বিক্রি করা একটি তরল পদার্থের বিষয়ে তথ্য পাওয়ার পর কর্মকর্তারা ক্রেতা সেজে সেটি সংগ্রহ করেন। পরে রাসায়নিক পরীক্ষায় ওই তরলে টেট্রাহাইড্রোক্যানাবিনল (টিএইচসি) নামের মাদকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়। এরপর ডিএনসির কর্মকর্তারা আরও তিন বোতল মাদকের ফরমাশ দেন। গত ১৬ আগস্ট ওই পার্সেল পৌঁছে দিতে গিয়ে দারাজের এক ডেলিভারিম্যান ধরা পড়েন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাড্ডার সাঁতারকুল এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে আনিসুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযানে তার কাছ থেকে ৬২০ মিলিলিটার টিএইচসি উদ্ধার করা হয়েছে। ডিএনসির হিসাবে, উদ্ধার করা মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৬০ লাখ টাকা। এ ছাড়া মাদক প্রস্তুত ও প্যাকেটজাত করার সরঞ্জাম, ৫০টি ছোট কাচের বোতল, দারাজের লোগোযুক্ত পলিথিন, কম্পিউটার ও মুঠোফোন জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় সোমবার বাড্ডা থানায় মামলা হয়েছে। মামলায় আনিসুর রহমানের পাশাপাশি দারাজ বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালককেও আসামি করা হয়েছে।
তদন্ত–সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, গত পাঁচ বছর ধরে দারাজের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে প্রায় ৪০৫ বোতল টিএইচসি বিক্রি করা হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তে আরও জানা গেছে, টিএইচসিকে ‘সিবিডি তেল’ বা অন্য নামে বাজারজাত করা হতো। গাঁজা প্রক্রিয়াজাত করে তৈরি তরল নির্যাস বিভিন্নভাবে ব্যবহার করা হয়। ডিএনসির কর্মকর্তারা প্রথমে অনলাইনে পণ্যটির বিজ্ঞাপন দেখতে পান। এরপর নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার মাধ্যমে সেটিতে মাদক থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
তদন্ত–সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, আনিসুর রহমান রসায়ন বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন এবং জাপান থেকে দেশে ফিরে হাতে তৈরি সাবানের ব্যবসা শুরু করেছিলেন। পরে ওই ব্যবসার আড়ালে তিনি মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়েন বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন।
তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এসব মাদক অবৈধ পথে ভারত থেকে দেশে আনা হতো। পরে ছোট বোতলে ভরে বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিক্রি করা হতো। ডিএনসির অভিযানে মাদক প্রস্তুত ও প্যাকেটজাত করার সরঞ্জামও উদ্ধার করা হয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট পণ্যটি প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দারাজ বাংলাদেশ। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট বিক্রেতার বিরুদ্ধে নীতিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের আরও কোনো পণ্য রয়েছে কি না, তা শনাক্ত ও অপসারণে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে দারাজের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে মাদক কেনাবেচা বন্ধে নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
\

মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ আগস্ট ২০২৬
অনলাইন মার্কেটপ্লেস দারাজে বিজ্ঞাপন দিয়ে নিষিদ্ধ মাদক বিক্রির অভিযোগে রাজধানীর বাড্ডা থেকে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। গ্রেপ্তার মোহাম্মদ আনিসুর রহমানের বয়স ৪০ বছর। তিনি পেশায় কেমিস্ট বলে জানিয়েছে তদন্ত–সংশ্লিষ্ট সূত্র।
ডিএনসি সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, অনলাইনে ‘সিবিডি তেল’ নামে বিক্রি করা একটি তরল পদার্থের বিষয়ে তথ্য পাওয়ার পর কর্মকর্তারা ক্রেতা সেজে সেটি সংগ্রহ করেন। পরে রাসায়নিক পরীক্ষায় ওই তরলে টেট্রাহাইড্রোক্যানাবিনল (টিএইচসি) নামের মাদকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়। এরপর ডিএনসির কর্মকর্তারা আরও তিন বোতল মাদকের ফরমাশ দেন। গত ১৬ আগস্ট ওই পার্সেল পৌঁছে দিতে গিয়ে দারাজের এক ডেলিভারিম্যান ধরা পড়েন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাড্ডার সাঁতারকুল এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে আনিসুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযানে তার কাছ থেকে ৬২০ মিলিলিটার টিএইচসি উদ্ধার করা হয়েছে। ডিএনসির হিসাবে, উদ্ধার করা মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৬০ লাখ টাকা। এ ছাড়া মাদক প্রস্তুত ও প্যাকেটজাত করার সরঞ্জাম, ৫০টি ছোট কাচের বোতল, দারাজের লোগোযুক্ত পলিথিন, কম্পিউটার ও মুঠোফোন জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় সোমবার বাড্ডা থানায় মামলা হয়েছে। মামলায় আনিসুর রহমানের পাশাপাশি দারাজ বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালককেও আসামি করা হয়েছে।
তদন্ত–সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, গত পাঁচ বছর ধরে দারাজের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে প্রায় ৪০৫ বোতল টিএইচসি বিক্রি করা হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তে আরও জানা গেছে, টিএইচসিকে ‘সিবিডি তেল’ বা অন্য নামে বাজারজাত করা হতো। গাঁজা প্রক্রিয়াজাত করে তৈরি তরল নির্যাস বিভিন্নভাবে ব্যবহার করা হয়। ডিএনসির কর্মকর্তারা প্রথমে অনলাইনে পণ্যটির বিজ্ঞাপন দেখতে পান। এরপর নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার মাধ্যমে সেটিতে মাদক থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
তদন্ত–সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, আনিসুর রহমান রসায়ন বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন এবং জাপান থেকে দেশে ফিরে হাতে তৈরি সাবানের ব্যবসা শুরু করেছিলেন। পরে ওই ব্যবসার আড়ালে তিনি মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়েন বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন।
তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এসব মাদক অবৈধ পথে ভারত থেকে দেশে আনা হতো। পরে ছোট বোতলে ভরে বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিক্রি করা হতো। ডিএনসির অভিযানে মাদক প্রস্তুত ও প্যাকেটজাত করার সরঞ্জামও উদ্ধার করা হয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট পণ্যটি প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দারাজ বাংলাদেশ। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট বিক্রেতার বিরুদ্ধে নীতিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের আরও কোনো পণ্য রয়েছে কি না, তা শনাক্ত ও অপসারণে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে দারাজের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে মাদক কেনাবেচা বন্ধে নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
\

আপনার মতামত লিখুন