অতিবৃষ্টিতে বীজতলা নষ্ট হওয়া এবং আউশ ও পাট কাটার পর জমি ফাঁকা হওয়ায় নওগাঁর বদলগাছীতে আমন ধানের চারার চাহিদা বেড়েছে। উপজেলার বিভিন্ন হাটে এখন ধানের চারা বিক্রির ধুম পড়েছে। চাহিদা বেশি থাকায় বিক্রেতারাও ভালো দাম পাচ্ছেন।
বুধবার (১৯ আগস্ট) ও বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বদলগাছী ও ভান্ডারপুর হাট ঘুরে দেখা যায়, ভোর থেকেই কৃষকেরা হাটে চারা নিয়ে আসছেন। কেউ আসছেন চারা বিক্রি করতে, আবার কেউ নিজের শূন্য জমি ভরাট করতে চারা কিনতে। বিশেষ করে যারা নিচু জমি বা পাটের জমিতে আমন রোপণ করবেন, তাদের ভিড় সবচেয়ে বেশি।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি আমন মৌসুমে উপজেলায় ১৪ হাজার ৪৯৪ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে ১২ হাজার ২১০ হেক্টর জমিতে চারা রোপণ শেষ হয়েছে। বর্তমানে আউশ ও পাট কাটার পর বাকি জমিতেও পুরোদমে রোপণ কাজ চলছে।
বাজারে জাতভেদে চারার দামে ভিন্নতা দেখা গেছে। প্রতি পণ (৮০টি) চিনি আতব ও গোল্ডেন আতবের চারা ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা, স্বর্ণা-৫ জাতের চারা ২৫০ থেকে ৪০০ টাকা এবং ৯০ জাতের চারা ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
বদলগাছী হাটের খাস আদায়কারী আল আশারি জানান, প্রতিটি হাটে প্রতিদিন গড়ে ৬০ থেকে ১০০ পণ চারা বিক্রি হচ্ছে। ঝাড়ঘরিয়া গ্রামের চারা বিক্রেতা জিল্লু বলেন, নিজের জমিতে লাগানোর পর অতিরিক্ত চারাগুলো তিনি বাজারে বিক্রি করতে এনেছেন।
জিধিরপুর গ্রামের কৃষক রশিদ জানান, পাটের জমিতে রোপণের জন্য তিনি ৯০ জাতের চারা কিনতে এসেছেন। অন্যদিকে কার্তিকাহার গ্রামের কৃষক ইমরান বলেন, ‘বৃষ্টিতে বীজতলা ডুবে চারা পচে গেছে, তাই বাধ্য হয়ে বাজার থেকে চারা কিনছি।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাবাব ফারহান বলেন, আউশ ও পাট কাটার পর জমিগুলোতে এখন আমন রোপণ চলছে, ফলে বাজারে চারার চাহিদা বেড়েছে। তিনি কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে বলেন, ২৫ থেকে ৩০ দিন বয়সের চারা রোপণ করলে ফলন ভালো হয়। বেশি বয়সের চারা রোপণে ফলন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
আপনার মতামত লিখুন