সংবাদ

রূপচর্চায় প্লাস্টিক বর্জ্য: বৈশ্বিক পরিবেশের জন্য এক বড় হুমকি


সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৬, ১০:৪১ এএম

রূপচর্চায় প্লাস্টিক বর্জ্য: বৈশ্বিক পরিবেশের জন্য এক বড় হুমকি
ছবি : এ আই

বাথরুমের আলমারি পরিষ্কার করতে গেলে প্রায়ই দেখা যায় অর্ধেক ভরা প্রসাধন সামগ্রীর বোতল, অনেক আগের আইশ্যাডো প্যালেট কিংবা পুরোনো রেজার। আমরা অবলীলায় সেগুলো ডাস্টবিনে ফেলে দিই। পরিসংখ্যান বলছে, প্রসাধনী পণ্যের প্রায় ৯৫ শতাংশ প্যাকেজিংই শেষ পর্যন্ত বর্জ্য হিসেবে ফেলে দেওয়া হয়। এর মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশই প্লাস্টিক, যা রিসাইকেল করা বেশ কঠিন।

পরিবেশবাদীরা বলছেন, প্রসাধন সামগ্রীর প্রায় ৬০ শতাংশ প্যাকেজিং প্লাস্টিকের তৈরি। এর মধ্যে স্প্রে বোতল, পাম্প বা টিউবগুলো বিভিন্ন উপাদানে তৈরি হওয়ায় এগুলো রিসাইকেল বা পুনরুৎপাদন করা অত্যন্ত জটিল। ফলে এসব বর্জ্য সরাসরি নদী বা সমুদ্রে মিশে বাস্তুসংস্থানের ক্ষতি করছে।

 ‘এ জিরো ওয়েস্ট লাইফ: ইন থার্টি ডেইজ’ বইয়ের লেখক ডা. অনিতা ভ্যান্ডাইক বলেন, ‘অপ্রয়োজনে অনেক পণ্য না কিনে পছন্দের একটি পণ্য ব্যবহার করে তা শেষ করা পরিবেশের জন্য অনেক ভালো। সচেতনভাবে পণ্য কেনার অভ্যাস প্লাস্টিক বর্জ্য কমাতে বড় ভূমিকা রাখে।’

প্লাস্টিক দূষণ কমাতে বিশেষজ্ঞরা এখন বোতলজাত পণ্যের বদলে ‘বার’ (Bar) পণ্যে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। তরল সাবান বা শ্যাম্পুর বদলে বার সাবান বা শ্যাম্পু বার ব্যবহার করলে প্লাস্টিকের বোতলের প্রয়োজনীয়তা একদম কমে যায়। এ ছাড়া অ্যালুমিনিয়াম বা কাচের পাত্রে বাজারজাত করা পণ্যগুলো পরিবেশবান্ধব, কারণ এগুলো বারবার ব্যবহার ও রিসাইকেল করা সহজ।

রূপচর্চা বিষয়ক উদ্যোক্তা অ্যাভিগন পাপিটিস বলেন, ‘বার সাবান ব্যবহারের পর তা শুকানোর জন্য পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা আছে এমন স্থানে রাখা জরুরি।’ এ ছাড়া প্লাস্টিক লুফার পরিবর্তে প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি লুফা এবং মেকআপ রিমুভার ওয়াইপসের বদলে সাধারণ তোয়ালে ও পানি ব্যবহার করা যেতে পারে।

প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে কাচ বা অ্যালুমিনিয়ামের পাত্রে থাকা প্রসাধনী বেছে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ এগুলো সহজেই রিসাইকেল করা যায়। বর্তমানে অনেক প্রতিষ্ঠান রিফিল করার সুবিধাও দিচ্ছে, যা প্লাস্টিকের ব্যবহার অনেকাংশে কমিয়ে আনে।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও এখন নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ‘টেরাসাইকেল’ ও ‘ক্লোজ দ্য লুপ’-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবহৃত প্রসাধনীর খালি বোতল রিসাইকেল করার কাজ করছে। তবে পুরোনো মেকআপ বা বডি অয়েল সরাসরি বেসিনে বা ড্রেনে না ফেলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, কারণ এতে পাইপলাইন বন্ধ হয়ে যেতে পারে। পরিবেশ রক্ষায় আমাদের প্রাত্যহিক রূপচর্চায় এমন ছোট ছোট পরিবর্তনই বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬


রূপচর্চায় প্লাস্টিক বর্জ্য: বৈশ্বিক পরিবেশের জন্য এক বড় হুমকি

প্রকাশের তারিখ : ২১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

বাথরুমের আলমারি পরিষ্কার করতে গেলে প্রায়ই দেখা যায় অর্ধেক ভরা প্রসাধন সামগ্রীর বোতল, অনেক আগের আইশ্যাডো প্যালেট কিংবা পুরোনো রেজার। আমরা অবলীলায় সেগুলো ডাস্টবিনে ফেলে দিই। পরিসংখ্যান বলছে, প্রসাধনী পণ্যের প্রায় ৯৫ শতাংশ প্যাকেজিংই শেষ পর্যন্ত বর্জ্য হিসেবে ফেলে দেওয়া হয়। এর মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশই প্লাস্টিক, যা রিসাইকেল করা বেশ কঠিন।

পরিবেশবাদীরা বলছেন, প্রসাধন সামগ্রীর প্রায় ৬০ শতাংশ প্যাকেজিং প্লাস্টিকের তৈরি। এর মধ্যে স্প্রে বোতল, পাম্প বা টিউবগুলো বিভিন্ন উপাদানে তৈরি হওয়ায় এগুলো রিসাইকেল বা পুনরুৎপাদন করা অত্যন্ত জটিল। ফলে এসব বর্জ্য সরাসরি নদী বা সমুদ্রে মিশে বাস্তুসংস্থানের ক্ষতি করছে।

 ‘এ জিরো ওয়েস্ট লাইফ: ইন থার্টি ডেইজ’ বইয়ের লেখক ডা. অনিতা ভ্যান্ডাইক বলেন, ‘অপ্রয়োজনে অনেক পণ্য না কিনে পছন্দের একটি পণ্য ব্যবহার করে তা শেষ করা পরিবেশের জন্য অনেক ভালো। সচেতনভাবে পণ্য কেনার অভ্যাস প্লাস্টিক বর্জ্য কমাতে বড় ভূমিকা রাখে।’

প্লাস্টিক দূষণ কমাতে বিশেষজ্ঞরা এখন বোতলজাত পণ্যের বদলে ‘বার’ (Bar) পণ্যে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। তরল সাবান বা শ্যাম্পুর বদলে বার সাবান বা শ্যাম্পু বার ব্যবহার করলে প্লাস্টিকের বোতলের প্রয়োজনীয়তা একদম কমে যায়। এ ছাড়া অ্যালুমিনিয়াম বা কাচের পাত্রে বাজারজাত করা পণ্যগুলো পরিবেশবান্ধব, কারণ এগুলো বারবার ব্যবহার ও রিসাইকেল করা সহজ।

রূপচর্চা বিষয়ক উদ্যোক্তা অ্যাভিগন পাপিটিস বলেন, ‘বার সাবান ব্যবহারের পর তা শুকানোর জন্য পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা আছে এমন স্থানে রাখা জরুরি।’ এ ছাড়া প্লাস্টিক লুফার পরিবর্তে প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি লুফা এবং মেকআপ রিমুভার ওয়াইপসের বদলে সাধারণ তোয়ালে ও পানি ব্যবহার করা যেতে পারে।

প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে কাচ বা অ্যালুমিনিয়ামের পাত্রে থাকা প্রসাধনী বেছে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ এগুলো সহজেই রিসাইকেল করা যায়। বর্তমানে অনেক প্রতিষ্ঠান রিফিল করার সুবিধাও দিচ্ছে, যা প্লাস্টিকের ব্যবহার অনেকাংশে কমিয়ে আনে।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও এখন নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ‘টেরাসাইকেল’ ও ‘ক্লোজ দ্য লুপ’-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবহৃত প্রসাধনীর খালি বোতল রিসাইকেল করার কাজ করছে। তবে পুরোনো মেকআপ বা বডি অয়েল সরাসরি বেসিনে বা ড্রেনে না ফেলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, কারণ এতে পাইপলাইন বন্ধ হয়ে যেতে পারে। পরিবেশ রক্ষায় আমাদের প্রাত্যহিক রূপচর্চায় এমন ছোট ছোট পরিবর্তনই বড় প্রভাব ফেলতে পারে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত