সংবাদ

বিহার থেকে বাংলাদেশে অস্ত্রের চালান, তৃণমূল নেতাসহ গ্রেপ্তার ৪


দীপক মুখার্জী
দীপক মুখার্জী প্রতিনিধি, কলকাতা
প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬, ০৮:১৮ পিএম

বিহার থেকে বাংলাদেশে অস্ত্রের চালান, তৃণমূল নেতাসহ গ্রেপ্তার ৪
অস্ত্র চোরাচালানের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার

বিহার থেকে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ হয়ে বাংলাদেশে অস্ত্র পাচারের একটি সম্ভাব্য চক্রের সন্ধান পাওয়ার দাবি করেছে মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশ। 

শনিবার (২২ আগস্ট) মুর্শিদাবাদে সাংবাদিক সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার শচীন মক্কার জানান, বহরমপুর ও জলঙ্গি এলাকায় পরপর অভিযান চালিয়ে মোট ১০টি পিস্তল, ৭টি খালি ম্যাগাজিন এবং ২১০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

অস্ত্র পাচারের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে চারজনকে। তাদের মধ্যে রয়েছেন মুর্শিদাবাদের তৃণমূল কংগ্রেসের যুব নেতা পাপাই ঘোষ।

পুলিশ সুপারের বক্তব্য অনুযায়ী, একাধিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই পলাতক ছিলেন পাপাই ঘোষ। সম্প্রতি তাকে গ্রেপ্তার করে জেলা পুলিশ। এরপর পুলিশ হেফাজতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই শুক্রবার বহরমপুরে অভিযান চালায় থানার পুলিশ। 

পাপাই ঘোষের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হয় সাতটি বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র, পাঁচটি ম্যাগাজিন এবং ১৭০ রাউন্ড গুলি। সেই অভিযানের সূত্র ধরে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদের পর তদন্ত আরও এগিয়ে নিয়ে জলঙ্গি এলাকায় অভিযান চালায় শক্তিপুর থানার পুলিশ। সেখান থেকে উদ্ধার হয় আরও পাঁচটি পিস্তল এবং ৪০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ। সব মিলিয়ে পুলিশের হাতে আসে ১০টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ। এই অস্ত্র উদ্ধারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকটি অবশ্য অস্ত্রের সংখ্যা নয়, বরং এগুলোর সম্ভাব্য উৎস ও গন্তব্য। 

পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে যে অস্ত্রগুলো বিহার থেকে কেনা হয়েছিল। সেগুলো বাংলাদেশে পাচারের উদ্দেশ্য ছিল। অর্থাৎ তদন্তকারীদের সামনে এখন সম্ভাব্য একটি আন্তঃরাজ্য অস্ত্র সরবরাহ চক্রের ছবি তৈরি হচ্ছে- যেখানে বিহার হতে পারে অস্ত্রের উৎস, মুর্শিদাবাদ হতে পারে ট্রানজিট পয়েন্ট এবং সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশ হতে পারে সম্ভাব্য গন্তব্য।

তবে এই মুহূর্তে এটিকে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তের তথ্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে। অস্ত্রগুলো সত্যিই বাংলাদেশে পাঠানোর জন্য কেনা হয়েছিল কি না, তার চূড়ান্ত প্রমাণ তদন্ত ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়াতেই স্পষ্ট হবে।

ঘটনাটিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলছে গত কয়েক সপ্তাহে মুর্শিদাবাদে পরপর অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা। গত ১২ আগস্ট জিয়াগঞ্জ এলাকা থেকে সাতটি ৭ এমএম পিস্তল, ১০টি খালি ম্যাগাজিন এবং ৩৫টি তাজা কার্তুজ উদ্ধার হয়েছিল। ওই ঘটনায় অস্ত্র সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর মাত্র একদিন পর, ১৩ আগস্ট পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্তের কাছ থেকেও একটি ৯ এমএম পিস্তল ও দুটি ম্যাগাজিন উদ্ধারের ঘটনা সামনে আসে।

ফলে প্রশ্ন উঠছে, এগুলো কি বিচ্ছিন্ন কয়েকটি অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা, নাকি এর পিছনে রয়েছে একটি বৃহত্তর সরবরাহ নেটওয়ার্ক?

বিশেষ করে মুর্শিদাবাদের ভৌগোলিক অবস্থান এই প্রশ্নকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। জেলার বিস্তীর্ণ অংশ বাংলাদেশ সীমান্তের কাছাকাছি। ফলে অন্য রাজ্য থেকে অস্ত্র এনে সীমান্তবর্তী এলাকায় মজুত করে সেগুলো পাচারের কোনও সংগঠিত চক্র সক্রিয় রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা এখন তদন্তকারীদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

এখানেই এবারের অভিযানে তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতার নাম উঠে আসায় রাজনৈতিক মাত্রাও যুক্ত হয়েছে। তবে কোনও রাজনৈতিক দলের সামগ্রিকভাবে এই অস্ত্র পাচারের সঙ্গে যুক্ত থাকার দাবি করার মতো তথ্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। 

তদন্তে পাপাই ঘোষের ব্যক্তিগত ভূমিকা কী ছিল, তিনি অস্ত্রের মালিক, সরবরাহকারী নাকি বৃহত্তর কোনও নেটওয়ার্কের অংশ—তা এখনও তদন্তসাপেক্ষ।

পুলিশের তদন্ত এখন তাই কয়েকটি স্তরে এগোতে পারে। প্রথমত, বিহারে অস্ত্রগুলোর উৎস কোথায় এবং কার কাছ থেকে সেগুলো কেনা হয়েছিল। দ্বিতীয়ত, বিহার থেকে মুর্শিদাবাদ পর্যন্ত অস্ত্র পরিবহণে কারা যুক্ত ছিল। তৃতীয়ত, মুর্শিদাবাদে অস্ত্র মজুত ও সরবরাহের সঙ্গে আর কারা জড়িত। এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে, সীমান্তের ওপারে কোনও যোগাযোগ বা ক্রেতা ছিল কি না।

এই জায়গাতেই স্থানীয় পুলিশ ছাড়াও সীমান্ত নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত সংস্থাগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। অস্ত্রগুলো যদি সত্যিই বাংলাদেশে পাচারের জন্য সংগ্রহ করা হয়ে থাকে, তাহলে শুধু মুর্শিদাবাদে গ্রেপ্তার করলেই তদন্ত শেষ হওয়ার কথা নয়। অস্ত্রের উৎস থেকে সম্ভাব্য গন্তব্য পর্যন্ত পুরো চেইন ভাঙতে হবে। প্রয়োজন হলে আন্তঃরাজ্য ও সীমান্ত-সংক্রান্ত তদন্তকারী সংস্থাগুলোর সমন্বয়ও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

আরও একটি প্রশ্ন সামনে আসছে- আগস্ট মাসেই মুর্শিদাবাদ ও সীমান্তবর্তী এলাকায় পরপর অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা সামনে এল কেন? একই ধরনের অস্ত্র, ম্যাগাজিন এবং গোলাবারুদ বিভিন্ন ঘটনায় ধরা পড়ার ফলে কোনও অভিন্ন সরবরাহকারীর উপস্থিতি রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের বিষয় হতে পারে।

তবে এখনই এই ঘটনাগুলোকে একই চক্রের সঙ্গে যুক্ত বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক হবে না। কারণ ১২ আগস্টের জিয়াগঞ্জের ঘটনা, ১৩ আগস্ট পেট্রাপোলের উদ্ধার এবং ২২ আগস্টের বহরমপুর-জলঙ্গি অভিযানের মধ্যে সরাসরি যোগসূত্রের কোনও নিশ্চিত প্রমাণ এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।

তবু পরপর ঘটনাগুলোর সময়কাল এবং মুর্শিদাবাদের সীমান্তবর্তী অবস্থান একটি বিষয় স্পষ্ট করছে- এই জেলার মধ্য দিয়ে অবৈধ অস্ত্রের চলাচল নিয়ে নজরদারি ও তদন্ত আরও বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে অস্ত্রের উৎস, অর্থের লেনদেন, পরিবহণের পথ এবং সম্ভাব্য সীমান্তপারের যোগাযোগের তথ্য সামনে এলে এই মামলার প্রকৃত চিত্র আরও পরিষ্কার হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬


বিহার থেকে বাংলাদেশে অস্ত্রের চালান, তৃণমূল নেতাসহ গ্রেপ্তার ৪

প্রকাশের তারিখ : ২২ আগস্ট ২০২৬

featured Image

বিহার থেকে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ হয়ে বাংলাদেশে অস্ত্র পাচারের একটি সম্ভাব্য চক্রের সন্ধান পাওয়ার দাবি করেছে মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশ। 

শনিবার (২২ আগস্ট) মুর্শিদাবাদে সাংবাদিক সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার শচীন মক্কার জানান, বহরমপুর ও জলঙ্গি এলাকায় পরপর অভিযান চালিয়ে মোট ১০টি পিস্তল, ৭টি খালি ম্যাগাজিন এবং ২১০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

অস্ত্র পাচারের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে চারজনকে। তাদের মধ্যে রয়েছেন মুর্শিদাবাদের তৃণমূল কংগ্রেসের যুব নেতা পাপাই ঘোষ।

পুলিশ সুপারের বক্তব্য অনুযায়ী, একাধিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই পলাতক ছিলেন পাপাই ঘোষ। সম্প্রতি তাকে গ্রেপ্তার করে জেলা পুলিশ। এরপর পুলিশ হেফাজতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই শুক্রবার বহরমপুরে অভিযান চালায় থানার পুলিশ। 

পাপাই ঘোষের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হয় সাতটি বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র, পাঁচটি ম্যাগাজিন এবং ১৭০ রাউন্ড গুলি। সেই অভিযানের সূত্র ধরে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদের পর তদন্ত আরও এগিয়ে নিয়ে জলঙ্গি এলাকায় অভিযান চালায় শক্তিপুর থানার পুলিশ। সেখান থেকে উদ্ধার হয় আরও পাঁচটি পিস্তল এবং ৪০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ। সব মিলিয়ে পুলিশের হাতে আসে ১০টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ। এই অস্ত্র উদ্ধারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকটি অবশ্য অস্ত্রের সংখ্যা নয়, বরং এগুলোর সম্ভাব্য উৎস ও গন্তব্য। 

পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে যে অস্ত্রগুলো বিহার থেকে কেনা হয়েছিল। সেগুলো বাংলাদেশে পাচারের উদ্দেশ্য ছিল। অর্থাৎ তদন্তকারীদের সামনে এখন সম্ভাব্য একটি আন্তঃরাজ্য অস্ত্র সরবরাহ চক্রের ছবি তৈরি হচ্ছে- যেখানে বিহার হতে পারে অস্ত্রের উৎস, মুর্শিদাবাদ হতে পারে ট্রানজিট পয়েন্ট এবং সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশ হতে পারে সম্ভাব্য গন্তব্য।

তবে এই মুহূর্তে এটিকে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তের তথ্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে। অস্ত্রগুলো সত্যিই বাংলাদেশে পাঠানোর জন্য কেনা হয়েছিল কি না, তার চূড়ান্ত প্রমাণ তদন্ত ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়াতেই স্পষ্ট হবে।

ঘটনাটিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলছে গত কয়েক সপ্তাহে মুর্শিদাবাদে পরপর অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা। গত ১২ আগস্ট জিয়াগঞ্জ এলাকা থেকে সাতটি ৭ এমএম পিস্তল, ১০টি খালি ম্যাগাজিন এবং ৩৫টি তাজা কার্তুজ উদ্ধার হয়েছিল। ওই ঘটনায় অস্ত্র সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর মাত্র একদিন পর, ১৩ আগস্ট পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্তের কাছ থেকেও একটি ৯ এমএম পিস্তল ও দুটি ম্যাগাজিন উদ্ধারের ঘটনা সামনে আসে।

ফলে প্রশ্ন উঠছে, এগুলো কি বিচ্ছিন্ন কয়েকটি অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা, নাকি এর পিছনে রয়েছে একটি বৃহত্তর সরবরাহ নেটওয়ার্ক?

বিশেষ করে মুর্শিদাবাদের ভৌগোলিক অবস্থান এই প্রশ্নকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। জেলার বিস্তীর্ণ অংশ বাংলাদেশ সীমান্তের কাছাকাছি। ফলে অন্য রাজ্য থেকে অস্ত্র এনে সীমান্তবর্তী এলাকায় মজুত করে সেগুলো পাচারের কোনও সংগঠিত চক্র সক্রিয় রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা এখন তদন্তকারীদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

এখানেই এবারের অভিযানে তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতার নাম উঠে আসায় রাজনৈতিক মাত্রাও যুক্ত হয়েছে। তবে কোনও রাজনৈতিক দলের সামগ্রিকভাবে এই অস্ত্র পাচারের সঙ্গে যুক্ত থাকার দাবি করার মতো তথ্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। 

তদন্তে পাপাই ঘোষের ব্যক্তিগত ভূমিকা কী ছিল, তিনি অস্ত্রের মালিক, সরবরাহকারী নাকি বৃহত্তর কোনও নেটওয়ার্কের অংশ—তা এখনও তদন্তসাপেক্ষ।

পুলিশের তদন্ত এখন তাই কয়েকটি স্তরে এগোতে পারে। প্রথমত, বিহারে অস্ত্রগুলোর উৎস কোথায় এবং কার কাছ থেকে সেগুলো কেনা হয়েছিল। দ্বিতীয়ত, বিহার থেকে মুর্শিদাবাদ পর্যন্ত অস্ত্র পরিবহণে কারা যুক্ত ছিল। তৃতীয়ত, মুর্শিদাবাদে অস্ত্র মজুত ও সরবরাহের সঙ্গে আর কারা জড়িত। এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে, সীমান্তের ওপারে কোনও যোগাযোগ বা ক্রেতা ছিল কি না।

এই জায়গাতেই স্থানীয় পুলিশ ছাড়াও সীমান্ত নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত সংস্থাগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। অস্ত্রগুলো যদি সত্যিই বাংলাদেশে পাচারের জন্য সংগ্রহ করা হয়ে থাকে, তাহলে শুধু মুর্শিদাবাদে গ্রেপ্তার করলেই তদন্ত শেষ হওয়ার কথা নয়। অস্ত্রের উৎস থেকে সম্ভাব্য গন্তব্য পর্যন্ত পুরো চেইন ভাঙতে হবে। প্রয়োজন হলে আন্তঃরাজ্য ও সীমান্ত-সংক্রান্ত তদন্তকারী সংস্থাগুলোর সমন্বয়ও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

আরও একটি প্রশ্ন সামনে আসছে- আগস্ট মাসেই মুর্শিদাবাদ ও সীমান্তবর্তী এলাকায় পরপর অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা সামনে এল কেন? একই ধরনের অস্ত্র, ম্যাগাজিন এবং গোলাবারুদ বিভিন্ন ঘটনায় ধরা পড়ার ফলে কোনও অভিন্ন সরবরাহকারীর উপস্থিতি রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের বিষয় হতে পারে।

তবে এখনই এই ঘটনাগুলোকে একই চক্রের সঙ্গে যুক্ত বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক হবে না। কারণ ১২ আগস্টের জিয়াগঞ্জের ঘটনা, ১৩ আগস্ট পেট্রাপোলের উদ্ধার এবং ২২ আগস্টের বহরমপুর-জলঙ্গি অভিযানের মধ্যে সরাসরি যোগসূত্রের কোনও নিশ্চিত প্রমাণ এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।

তবু পরপর ঘটনাগুলোর সময়কাল এবং মুর্শিদাবাদের সীমান্তবর্তী অবস্থান একটি বিষয় স্পষ্ট করছে- এই জেলার মধ্য দিয়ে অবৈধ অস্ত্রের চলাচল নিয়ে নজরদারি ও তদন্ত আরও বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে অস্ত্রের উৎস, অর্থের লেনদেন, পরিবহণের পথ এবং সম্ভাব্য সীমান্তপারের যোগাযোগের তথ্য সামনে এলে এই মামলার প্রকৃত চিত্র আরও পরিষ্কার হবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত