দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সামষ্টিক স্থায়িত্ব বজায় রাখতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, সুদের হার হ্রাস এবং শিল্পখাতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। একই সঙ্গে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি আশঙ্কাজনকভাবে নেমে যাওয়ার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ব্যবসায়ী সংগঠনটি।
শনিবার রাজধানীর মতিঝিলে ডিসিসিআই অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক সেমিনারে মূল প্রবন্ধে সংস্থাটির সভাপতি তাসকীন আহমেদ জ্বালানি নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর জোর দেন।
প্রধান অতিথি অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর উপস্থিতিতে তিনি বলেন, "মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ধীরে ধীরে সুদের হার কমিয়ে সহনীয় পর্যায়ে আনতে হবে। জ্বালানি নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে শিল্পখাতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।"
সিএমএসএমই খাতের দুর্দশা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, "ঘোষিত সিএমএসএমই সহায়তা প্যাকেজের ৫ হাজার কোটি টাকার কার্যকর বাস্তবায়ন ও প্রকৃত উৎপাদনমুখী উদ্যোক্তাদের কাছে সহজে অর্থ পৌঁছানো নিশ্চিত করা প্রয়োজন। ব্যাংক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, খেলাপি ঋণ হ্রাস এবং আর্থিক খাতের প্রতি জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে।"
শিল্পের চলমান সংকট ও বৈশ্বিক কাঠামোর বৈরী পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরে ব্যবসায়ী নেতারা জানান, দেশের বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি বর্তমানে মাত্র ৫ শতাংশে নেমে এসেছে, যা দেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতির জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই চাপ সামলাতে ও রপ্তানি সক্ষমতা অক্ষুণ্ণ রাখতে কর ব্যবস্থাপনার পূর্ণ ডিজিটালাইজেশন, কাস্টমস প্রক্রিয়ার আধুনিকায়ন এবং আঞ্চলিক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ ও এফটিএ) তরান্বিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত করার পাশাপাশি সিএমএসএমই খাতের জন্য জামানতমুক্ত ডিজিটাল ক্রেডিট স্কোরিং চালু এবং কৃষকদের জন্য সৌরচালিত সেচব্যবস্থায় স্বল্পসুদের ঋণের প্রস্তাব দেওয়া হয় সেমিনারে।
একই সাথে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তিগুলো পুনর্বিবেচনা করে অপ্রয়োজনীয় ভর্তুকি কমানো এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক যৌথ উদ্যোগে অফশোর গ্যাস অনুসন্ধানে জোর দেওয়ার দাবি জানান ডিসিসিআই সভাপতি।
সেমিনারে উপস্থিত অর্থনীতিবিদ ও নীতি-নির্ধারকরা একমত পোষণ করেন, সরকারি-বেসরকারি যৌথ প্রয়াস এবং সময়োপযোগী সংস্কারই পারে বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলোকে নতুন সম্ভাবনায় রূপান্তর করতে।

শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ আগস্ট ২০২৬
দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সামষ্টিক স্থায়িত্ব বজায় রাখতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, সুদের হার হ্রাস এবং শিল্পখাতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। একই সঙ্গে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি আশঙ্কাজনকভাবে নেমে যাওয়ার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ব্যবসায়ী সংগঠনটি।
শনিবার রাজধানীর মতিঝিলে ডিসিসিআই অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক সেমিনারে মূল প্রবন্ধে সংস্থাটির সভাপতি তাসকীন আহমেদ জ্বালানি নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর জোর দেন।
প্রধান অতিথি অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর উপস্থিতিতে তিনি বলেন, "মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ধীরে ধীরে সুদের হার কমিয়ে সহনীয় পর্যায়ে আনতে হবে। জ্বালানি নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে শিল্পখাতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।"
সিএমএসএমই খাতের দুর্দশা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, "ঘোষিত সিএমএসএমই সহায়তা প্যাকেজের ৫ হাজার কোটি টাকার কার্যকর বাস্তবায়ন ও প্রকৃত উৎপাদনমুখী উদ্যোক্তাদের কাছে সহজে অর্থ পৌঁছানো নিশ্চিত করা প্রয়োজন। ব্যাংক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, খেলাপি ঋণ হ্রাস এবং আর্থিক খাতের প্রতি জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে।"
শিল্পের চলমান সংকট ও বৈশ্বিক কাঠামোর বৈরী পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরে ব্যবসায়ী নেতারা জানান, দেশের বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি বর্তমানে মাত্র ৫ শতাংশে নেমে এসেছে, যা দেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতির জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই চাপ সামলাতে ও রপ্তানি সক্ষমতা অক্ষুণ্ণ রাখতে কর ব্যবস্থাপনার পূর্ণ ডিজিটালাইজেশন, কাস্টমস প্রক্রিয়ার আধুনিকায়ন এবং আঞ্চলিক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ ও এফটিএ) তরান্বিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত করার পাশাপাশি সিএমএসএমই খাতের জন্য জামানতমুক্ত ডিজিটাল ক্রেডিট স্কোরিং চালু এবং কৃষকদের জন্য সৌরচালিত সেচব্যবস্থায় স্বল্পসুদের ঋণের প্রস্তাব দেওয়া হয় সেমিনারে।
একই সাথে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তিগুলো পুনর্বিবেচনা করে অপ্রয়োজনীয় ভর্তুকি কমানো এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক যৌথ উদ্যোগে অফশোর গ্যাস অনুসন্ধানে জোর দেওয়ার দাবি জানান ডিসিসিআই সভাপতি।
সেমিনারে উপস্থিত অর্থনীতিবিদ ও নীতি-নির্ধারকরা একমত পোষণ করেন, সরকারি-বেসরকারি যৌথ প্রয়াস এবং সময়োপযোগী সংস্কারই পারে বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলোকে নতুন সম্ভাবনায় রূপান্তর করতে।

আপনার মতামত লিখুন