ভারতের কলকাতার একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তসহ তার পরিবারের চার সদস্যের শেষকৃত্য ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। মৃত্যুর ৯২ ঘণ্টা পর শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে তাদের মরদেহ কুষ্টিয়ার বাড়িতে পৌঁছালে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্বজন ও সহকর্মীদের অশ্রুসিক্ত বিদায়ের মধ্য দিয়ে তাদের চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।
শনিবার (২২ আগস্ট) দিবাগত রাত দেড়টায় কুষ্টিয়া কেন্দ্রীয় মহাশ্মশানে সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত ও তার শিশুসন্তান শর্ণশীষ দত্তের সৎকার সম্পন্ন হয়। অন্যদিকে, দেবাশীষের স্ত্রী আফসানা শারমিন ও শ্বশুর আকরাম হোসেনের জানাজা দিবাগত রাত আড়াইটায় কুষ্টিয়া সদর উপজেলা মডেল মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাদের কুষ্টিয়া পৌর গোরস্থানে দাফন করা হয়।
এর আগে রাত সাড়ে ১০টায় মরদেহবাহী গাড়িগুলো কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়া এলাকায় পৌঁছালে কয়েক হাজার মানুষের ভিড় জমে। গত কয়েক দিন ধরে মা-বাবার ফেরার অপেক্ষায় থাকা সাংবাদিক দম্পতির একমাত্র কন্যাসন্তান পাখি তাদের নিথর দেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়ে। মরদেহগুলোর অবস্থা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে স্বজনদের অনেকেই শেষবারের মতো মুখ দেখার সুযোগ পাননি।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ আগস্ট চিকিৎসার জন্য ভারতের বেঙ্গালুরুতে যান দেবাশীষ দত্ত, তার স্ত্রী ও সন্তান। চিকিৎসা শেষে ১৮ আগস্ট কলকাতায় ফিরে নিউমার্কেট এলাকার ‘শিখা ইন’ হোটেলে ওঠেন তারা। ১৯ আগস্ট তাদের দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু ১৮ আগস্ট দিবাগত রাতে হোটেলটিতে এসি বিস্ফোরণ থেকে লাগা আগুনে তারা সবাই প্রাণ হারান।
নিহত দেবাশীষ দত্ত চ্যানেল নাইন ও দৈনিক আজকের কাগজের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি এবং দৈনিক আজকের আলো পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ছিলেন। তার শ্বশুর আকরাম হোসেন ওজোপাডিকোর অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ছিলেন।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হারুন-অর-রশিদ নিহতদের পরিবারের হাতে দাফন ও সৎকারের জন্য জনপ্রতি ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।
আপনার মতামত লিখুন