নওগাঁর বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিকভাবে পরিদর্শন করলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো সাখাওয়াত হোসেন।
রোববার (২৩ আগষ্ট) দুপুরে হঠাৎ হাসপাতালে গিয়ে টয়েলেট, চিকিৎসাসেবা, ওষুধের মজুত, রোগীদের খাবার ও হাসপাতালের পরিবেশের খোঁজখবর নেন তিনি।
পরিদর্শনকালে একটি নয়তলা নতুন ভবন নির্মাণ এবং হাসপাতালটি ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দেন মন্ত্রী। সেটি তিনি প্রথম বদলগাছী উপজেলায় করবেন বলেও জানান।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, সরকার গঠনের পর থেকেই স্বাস্থ্যসেবাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেবার মান উন্নত করতে নিয়মিত বিভিন্ন হাসপাতাল পরিদর্শন করা হচ্ছে। প্রতিটি নাগরিকের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরো বলেন, সরকার চলতি বছরেই আড়াই হাজার নার্স নিয়োগ করা হবে। পাশাপাশি এ বছর ৪১ হাজার ৩৯০ জন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। তারা গ্রামে গ্রামে গিয়ে মানুষের স্বাস্থ্যসেবা দেবেন। প্রতিটি ইউনিয়নে স্বাস্থ্য হাব তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন মন্ত্রী। চিকিৎসাসেবা নিয়ে তাদের অভিজ্ঞতা জানতে চান। পরে তিনি বলেন, ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে রোগীদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তারা ভালো সেবা পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। তবে হাসপাতালের টয়লেট ও বাথরুম অপরিষ্কার বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রোগীদের খাবারের মান দেখতে হাসপাতালের রান্নাঘরে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সেখানে রোগীদের জন্য রান্না করা খাবার নিজে পরীক্ষা করেন। তিনি বলেন, রোগীদের কী খাবার দেওয়া হচ্ছে, তা দেখতেই তিনি রান্নাঘরে গিয়ে নিজেই খাবার পরীক্ষা করেছেন।
উপজেলা পর্যায়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশেষ করে গাইনি ও অ্যানেস্থেশিয়া চিকিৎসকের সংকট রয়েছে। এ সংকট কাটিয়ে উপজেলা পর্যায়ে মানুষের চিকিৎসাসেবা আরও সহজলভ্য করতে সরকার কাজ করছে।
এদিকে হাসপাতালের ওষুধ সরবরাহ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় অ্যাজিথ্রোমাইসিন ওষুধ এক মাস ২৩ দিন ধরে দেওয়া হচ্ছে না। অথচ হাসপাতালের স্টোরে ওই ওষুধ মজুত রয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “স্টকে ওষুধ থাকার পরও কেন রোগীরা এক মাস ২৩ দিন ওষুধ পেল না, তা খতিয়ে দেখা হবে।’’ এ ঘটনায় হাসপাতালের স্টোরকিপারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, ঢাকায় গিয়ে বিষয়টি পর্যালোচনা করে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা সাংবাদিকদের জানানো হবে।
পুরোনো ভবন ভেঙে নতুন নয়তলা ভবন নির্মাণ এবং হাসপাতালটি ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণায় স্থানীয়দের মধ্যে আশার সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে মজুত থাকা ওষুধ রোগীদের না দেওয়ার ঘটনায় মন্ত্রীর কঠোর অবস্থানকেও ইতিবাচকভাবে দেখছেন রোগী ও স্বজনেরা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সিভিল সার্জন ডা. মো. আমিনুল ইসলাম ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়ব্রত পাল,উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইসরাত জাহান ছনি, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা. কানিজ ফারহানা, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি জাকির হোসেন চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল হাসানসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা।

রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ আগস্ট ২০২৬
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিকভাবে পরিদর্শন করলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো সাখাওয়াত হোসেন।
রোববার (২৩ আগষ্ট) দুপুরে হঠাৎ হাসপাতালে গিয়ে টয়েলেট, চিকিৎসাসেবা, ওষুধের মজুত, রোগীদের খাবার ও হাসপাতালের পরিবেশের খোঁজখবর নেন তিনি।
পরিদর্শনকালে একটি নয়তলা নতুন ভবন নির্মাণ এবং হাসপাতালটি ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দেন মন্ত্রী। সেটি তিনি প্রথম বদলগাছী উপজেলায় করবেন বলেও জানান।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, সরকার গঠনের পর থেকেই স্বাস্থ্যসেবাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেবার মান উন্নত করতে নিয়মিত বিভিন্ন হাসপাতাল পরিদর্শন করা হচ্ছে। প্রতিটি নাগরিকের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরো বলেন, সরকার চলতি বছরেই আড়াই হাজার নার্স নিয়োগ করা হবে। পাশাপাশি এ বছর ৪১ হাজার ৩৯০ জন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। তারা গ্রামে গ্রামে গিয়ে মানুষের স্বাস্থ্যসেবা দেবেন। প্রতিটি ইউনিয়নে স্বাস্থ্য হাব তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন মন্ত্রী। চিকিৎসাসেবা নিয়ে তাদের অভিজ্ঞতা জানতে চান। পরে তিনি বলেন, ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে রোগীদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তারা ভালো সেবা পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। তবে হাসপাতালের টয়লেট ও বাথরুম অপরিষ্কার বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রোগীদের খাবারের মান দেখতে হাসপাতালের রান্নাঘরে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সেখানে রোগীদের জন্য রান্না করা খাবার নিজে পরীক্ষা করেন। তিনি বলেন, রোগীদের কী খাবার দেওয়া হচ্ছে, তা দেখতেই তিনি রান্নাঘরে গিয়ে নিজেই খাবার পরীক্ষা করেছেন।
উপজেলা পর্যায়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশেষ করে গাইনি ও অ্যানেস্থেশিয়া চিকিৎসকের সংকট রয়েছে। এ সংকট কাটিয়ে উপজেলা পর্যায়ে মানুষের চিকিৎসাসেবা আরও সহজলভ্য করতে সরকার কাজ করছে।
এদিকে হাসপাতালের ওষুধ সরবরাহ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় অ্যাজিথ্রোমাইসিন ওষুধ এক মাস ২৩ দিন ধরে দেওয়া হচ্ছে না। অথচ হাসপাতালের স্টোরে ওই ওষুধ মজুত রয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “স্টকে ওষুধ থাকার পরও কেন রোগীরা এক মাস ২৩ দিন ওষুধ পেল না, তা খতিয়ে দেখা হবে।’’ এ ঘটনায় হাসপাতালের স্টোরকিপারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, ঢাকায় গিয়ে বিষয়টি পর্যালোচনা করে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা সাংবাদিকদের জানানো হবে।
পুরোনো ভবন ভেঙে নতুন নয়তলা ভবন নির্মাণ এবং হাসপাতালটি ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণায় স্থানীয়দের মধ্যে আশার সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে মজুত থাকা ওষুধ রোগীদের না দেওয়ার ঘটনায় মন্ত্রীর কঠোর অবস্থানকেও ইতিবাচকভাবে দেখছেন রোগী ও স্বজনেরা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সিভিল সার্জন ডা. মো. আমিনুল ইসলাম ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়ব্রত পাল,উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইসরাত জাহান ছনি, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা. কানিজ ফারহানা, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি জাকির হোসেন চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল হাসানসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা।

আপনার মতামত লিখুন