সংবাদ

জলবায়ু পরিবর্তন কি ডেঙ্গুকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে?


আল শাহারিয়া
আল শাহারিয়া
প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৬, ০১:০৫ পিএম

জলবায়ু পরিবর্তন কি ডেঙ্গুকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে?

ডেঙ্গু এখন আর কোনোভাবেই কেবল ‘বর্ষার রোগ’ নেই। ডেঙ্গু এখন বছরজুড়ে থাকা এক সমস্যা। সমস্যার স্বরূপ এখন অনেকটাই বদলে গেছে। ডেঙ্গুর ভৌগোলিক বিস্তার এখন আর শুধু রাজধানী ঢাকা বা বড় শহরগুলোর অভিজাত এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষকের মডেল অনুযায়ী বরিশাল, বরগুনা, পিরোজপুর, পটুয়াখালী, বাগেরহাট এবং খুলনা জেলা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত করা হয়েছিল। বাস্তবেও তাই ঘটছে। ঢাকায় সংক্রমণের সুযোগ কমে এলেও উপকূলীয় ও প্রান্তিক জেলাগুলোয় রোগী বাড়ছে। শেষ কয়েক বছরের প্রতি মৌসুমে ডেঙ্গু ছড়িয়েছে দেশের প্রায় প্রতিটি জেলায়। ২০২৬ সালের জুনের একটি প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, বর্ষা পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই ৫৮টি জেলায় ডেঙ্গু রোগী পাওয়া গেছে। আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে তা ৬৪ জেলাতেই ছড়িয়ে পড়েছে। এর অর্থ হলো, ডেঙ্গু এখন একেবারে প্রান্তিক পর্যায়ে এবং প্রত্যন্ত গ্রামেগঞ্জে পর্যন্ত ভয়াবহভাবে বিস্তার লাভ করেছে।


এই বদলে যাওয়া চিত্রের পেছনে জলবায়ু পরিবর্তনের ভূমিকা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। মশা এক্টোথার্ম বা শীতল রক্তের প্রাণী। তার দেহের তাপমাত্রা সরাসরি পরিবেশের তাপমাত্রার সাথে বাঁধা। তাই তাপমাত্রা বাড়লে তার শরীরের ভেতরের সব রাসায়নিক প্রক্রিয়াই দ্রুত চলতে শুরু করে। জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধির সম্পর্ক খুব নিবিড়। গবেষণা বলছে, তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লে মশার কামড়ের মধ্যবর্তী সময় প্রায় অর্ধেক হয়ে আসে, সংক্রমণ বেড়ে যায় অন্তত ২.৪ গুণ। ২৮ ডিগ্রির কাছাকাছি তাপমাত্রায় কামড়ানো ও সংক্রমণ দুটোই সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। বিপাকক্রিয়া দ্রুত হওয়ায় ডিম পাকার চক্রও ছোট হয়ে আসে, ফলে স্ত্রী মশাকে বেশি ঘন ঘন রক্ত খুঁজতে হয়। একই সঙ্গে মশার দেহে ভাইরাসের বংশবৃদ্ধির গতিও বহুগুণ বেড়ে যায়। ২৫ থেকে ৩০ ডিগ্রিতে উঠলেই ভাইরাসের ইনকিউবেশন সময় ১৫ দিন থেকে নেমে আসে ৬-৭ দিনে।


জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বৃষ্টির ধরনও বদলেছে। আগের মতো টানা কয়েক দিনের হালকা বর্ষণের বদলে এখন হুট করে তীব্র বৃষ্টি হচ্ছে, তারপর দীর্ঘ বিরতি। এই অনিয়মিত কিন্তু তীব্র বৃষ্টিপাত শহর-গ্রাম দুই জায়গাতেই দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা তৈরি করছে, আর এডিস মশা পাচ্ছে অগণিত নতুন প্রজননক্ষেত্র। জলবায়ু পরিবর্তনের কথা উঠলে আমাদের চোখে সাধারণত ভাসে উপকূলে বাঁধ ভাঙার দৃশ্য বা কৃষিজমিতে লবণাক্ততা বাড়ার চিত্র। ডেঙ্গুর এই বিস্তারও যে একই সংকটের অংশ, সেটা আমরা প্রায়ই ভুলে যাই।


মশার আচরণেও এসেছে বড় পরিবর্তন। আগে জানা ছিল, এডিস শুধু পরিষ্কার জমা পানিতে ডিম পাড়ে। এখন দেখা যাচ্ছে, নোংরা-ড্রেনের পানিতেও দিব্যি বংশবিস্তার করছে। জুলাইয়ে ঢাকায় মাঠপর্যায়ে কাজ করা এক জাপানি গবেষক দল নাকি এই দৃশ্য দেখে রীতিমতো অবাক হয়ে গিয়েছিলেন, এমন অভিজ্ঞতা তাঁদের কারও কখনো হয়নি। ২০২৩ সালে দেশে ডেঙ্গুর সর্বোচ্চ প্রাদুর্ভাব দেখা গিয়েছিল, প্রায় সাড়ে তিন লাখ আক্রান্ত। এরপর ভাবা হয়েছিল পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। কিন্তু ২০২৫ সালেও লাখের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন, মারা গেছেন ৪১৩ জন। প্রবণতাটা নিম্নমুখী নয়, বরং জটিল হচ্ছে ক্রমশ।


এখানেই আসল সমস্যা। আমাদের নীতি এই বদলে যাওয়া বাস্তবতার সাথে তাল মেলাতে পারছে না। প্রতি বছর একই চক্র দেখা যায়। বর্ষা এলে ফগার মেশিনের ধোঁয়া, সংবাদ সম্মেলন, আশ্বাসবাণী আর তারপর বর্ষা শেষে বিস্মৃতি। এর সাথে যুক্ত হয়েছে আরও একটা নির্দিষ্ট সমস্যা। সিটি করপোরেশনের মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম মূলত লক্ষ্য করে কিউলেক্স মশাকে, যেটা ড্রেন-নর্দমার পচা পানিতে জন্মায়। অথচ ডেঙ্গু ছড়ায় এডিস মশা, যার প্রজনন হয় বাড়ির ভেতরে-আশপাশে জমা পরিষ্কার পানিতে। বছরের পর বছর যে ফগিং চলছে, সেটা আসলে ভুল মশাকে টার্গেট করছে। যোগ হয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়হীনতাও। রোগ নজরদারির দায়িত্ব স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের, কিন্তু মশার উৎস নিয়ন্ত্রণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা স্থানীয় সরকারের অধীনে। দুইয়ের মাঝে সমন্বয় প্রায়ই দুর্বল থাকে। 


স্বাস্থ্য খাতের জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা ২০২৬-৩১ চালু হয়েছে বটে, কিন্তু কাগুজে পরিকল্পনা আর মাঠের বাস্তবায়নের মধ্যে ফারাক থেকেই যাচ্ছে। তবে আশার জায়গাও আছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের তৈরি “ডেন-এক্স ট্র্যাপ” বিদ্যুৎ ছাড়াই চলা, দেশীয় উদ্ভিদ-উপাদান দিয়ে তৈরি একটা মশার ফাঁদ, যা স্ত্রী এডিসকে ডিম পাড়তে প্রলুব্ধ করে কিন্তু সেই ডিম নষ্ট করে দেয়। এখন এটি কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রায় তিন হাজার স্থাপন করা হয়েছে। এমন কম খরচের, স্থানীয় সমাধান বাড়ানোর সুযোগ আছে সারা দেশে।


সমাধানের রাস্তাটা তাই স্পষ্ট। মশা নিয়ন্ত্রণকে ঋতুভিত্তিক না রেখে সারা বছরের কর্মসূচি করতে হবে, শুষ্ক মৌসুম থেকেই প্রজননস্থল ধ্বংসের কাজ জোরদার করে। আবহাওয়া ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য একত্র করে পূর্বাভাসভিত্তিক সতর্কতা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। আর ঢাকার বাইরে, বিশেষত উপকূলীয় জেলাগুলোতে পৌরসভা-ইউনিয়ন পর্যায়ে হাসপাতাল ও রোগ-নির্ণয়ের সক্ষমতা বাড়াতে হবে, কারণ ঝুঁকিটা এখন সেখানেই বেশি।


লেখার শুরুতে যে সংখ্যাগুলোর কথা বলেছিলাম, সেখানেই ফিরি। ৬৫ জনের মৃত্যুর আড়ালে লুকিয়ে থাকা ক্রমবর্ধমান প্যাটার্নটাই আসল সংকেত। জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে পাল্লা দিয়ে ডেঙ্গু তার রূপ বদলাচ্ছে প্রতিনিয়ত, আমরা এখনো পড়ে আছি পুরোনো ধাঁচের প্রস্তুতি নিয়ে। এই ফারাকটা যত দ্রুত ঘোচানো যাবে, ততই মঙ্গল।

[লেখক: শিক্ষার্থী, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়]


আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬


জলবায়ু পরিবর্তন কি ডেঙ্গুকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে?

প্রকাশের তারিখ : ২৬ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ডেঙ্গু এখন আর কোনোভাবেই কেবল ‘বর্ষার রোগ’ নেই। ডেঙ্গু এখন বছরজুড়ে থাকা এক সমস্যা। সমস্যার স্বরূপ এখন অনেকটাই বদলে গেছে। ডেঙ্গুর ভৌগোলিক বিস্তার এখন আর শুধু রাজধানী ঢাকা বা বড় শহরগুলোর অভিজাত এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষকের মডেল অনুযায়ী বরিশাল, বরগুনা, পিরোজপুর, পটুয়াখালী, বাগেরহাট এবং খুলনা জেলা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত করা হয়েছিল। বাস্তবেও তাই ঘটছে। ঢাকায় সংক্রমণের সুযোগ কমে এলেও উপকূলীয় ও প্রান্তিক জেলাগুলোয় রোগী বাড়ছে। শেষ কয়েক বছরের প্রতি মৌসুমে ডেঙ্গু ছড়িয়েছে দেশের প্রায় প্রতিটি জেলায়। ২০২৬ সালের জুনের একটি প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, বর্ষা পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই ৫৮টি জেলায় ডেঙ্গু রোগী পাওয়া গেছে। আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে তা ৬৪ জেলাতেই ছড়িয়ে পড়েছে। এর অর্থ হলো, ডেঙ্গু এখন একেবারে প্রান্তিক পর্যায়ে এবং প্রত্যন্ত গ্রামেগঞ্জে পর্যন্ত ভয়াবহভাবে বিস্তার লাভ করেছে।


এই বদলে যাওয়া চিত্রের পেছনে জলবায়ু পরিবর্তনের ভূমিকা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। মশা এক্টোথার্ম বা শীতল রক্তের প্রাণী। তার দেহের তাপমাত্রা সরাসরি পরিবেশের তাপমাত্রার সাথে বাঁধা। তাই তাপমাত্রা বাড়লে তার শরীরের ভেতরের সব রাসায়নিক প্রক্রিয়াই দ্রুত চলতে শুরু করে। জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধির সম্পর্ক খুব নিবিড়। গবেষণা বলছে, তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লে মশার কামড়ের মধ্যবর্তী সময় প্রায় অর্ধেক হয়ে আসে, সংক্রমণ বেড়ে যায় অন্তত ২.৪ গুণ। ২৮ ডিগ্রির কাছাকাছি তাপমাত্রায় কামড়ানো ও সংক্রমণ দুটোই সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। বিপাকক্রিয়া দ্রুত হওয়ায় ডিম পাকার চক্রও ছোট হয়ে আসে, ফলে স্ত্রী মশাকে বেশি ঘন ঘন রক্ত খুঁজতে হয়। একই সঙ্গে মশার দেহে ভাইরাসের বংশবৃদ্ধির গতিও বহুগুণ বেড়ে যায়। ২৫ থেকে ৩০ ডিগ্রিতে উঠলেই ভাইরাসের ইনকিউবেশন সময় ১৫ দিন থেকে নেমে আসে ৬-৭ দিনে।


জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বৃষ্টির ধরনও বদলেছে। আগের মতো টানা কয়েক দিনের হালকা বর্ষণের বদলে এখন হুট করে তীব্র বৃষ্টি হচ্ছে, তারপর দীর্ঘ বিরতি। এই অনিয়মিত কিন্তু তীব্র বৃষ্টিপাত শহর-গ্রাম দুই জায়গাতেই দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা তৈরি করছে, আর এডিস মশা পাচ্ছে অগণিত নতুন প্রজননক্ষেত্র। জলবায়ু পরিবর্তনের কথা উঠলে আমাদের চোখে সাধারণত ভাসে উপকূলে বাঁধ ভাঙার দৃশ্য বা কৃষিজমিতে লবণাক্ততা বাড়ার চিত্র। ডেঙ্গুর এই বিস্তারও যে একই সংকটের অংশ, সেটা আমরা প্রায়ই ভুলে যাই।


মশার আচরণেও এসেছে বড় পরিবর্তন। আগে জানা ছিল, এডিস শুধু পরিষ্কার জমা পানিতে ডিম পাড়ে। এখন দেখা যাচ্ছে, নোংরা-ড্রেনের পানিতেও দিব্যি বংশবিস্তার করছে। জুলাইয়ে ঢাকায় মাঠপর্যায়ে কাজ করা এক জাপানি গবেষক দল নাকি এই দৃশ্য দেখে রীতিমতো অবাক হয়ে গিয়েছিলেন, এমন অভিজ্ঞতা তাঁদের কারও কখনো হয়নি। ২০২৩ সালে দেশে ডেঙ্গুর সর্বোচ্চ প্রাদুর্ভাব দেখা গিয়েছিল, প্রায় সাড়ে তিন লাখ আক্রান্ত। এরপর ভাবা হয়েছিল পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। কিন্তু ২০২৫ সালেও লাখের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন, মারা গেছেন ৪১৩ জন। প্রবণতাটা নিম্নমুখী নয়, বরং জটিল হচ্ছে ক্রমশ।


এখানেই আসল সমস্যা। আমাদের নীতি এই বদলে যাওয়া বাস্তবতার সাথে তাল মেলাতে পারছে না। প্রতি বছর একই চক্র দেখা যায়। বর্ষা এলে ফগার মেশিনের ধোঁয়া, সংবাদ সম্মেলন, আশ্বাসবাণী আর তারপর বর্ষা শেষে বিস্মৃতি। এর সাথে যুক্ত হয়েছে আরও একটা নির্দিষ্ট সমস্যা। সিটি করপোরেশনের মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম মূলত লক্ষ্য করে কিউলেক্স মশাকে, যেটা ড্রেন-নর্দমার পচা পানিতে জন্মায়। অথচ ডেঙ্গু ছড়ায় এডিস মশা, যার প্রজনন হয় বাড়ির ভেতরে-আশপাশে জমা পরিষ্কার পানিতে। বছরের পর বছর যে ফগিং চলছে, সেটা আসলে ভুল মশাকে টার্গেট করছে। যোগ হয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়হীনতাও। রোগ নজরদারির দায়িত্ব স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের, কিন্তু মশার উৎস নিয়ন্ত্রণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা স্থানীয় সরকারের অধীনে। দুইয়ের মাঝে সমন্বয় প্রায়ই দুর্বল থাকে। 


স্বাস্থ্য খাতের জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা ২০২৬-৩১ চালু হয়েছে বটে, কিন্তু কাগুজে পরিকল্পনা আর মাঠের বাস্তবায়নের মধ্যে ফারাক থেকেই যাচ্ছে। তবে আশার জায়গাও আছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের তৈরি “ডেন-এক্স ট্র্যাপ” বিদ্যুৎ ছাড়াই চলা, দেশীয় উদ্ভিদ-উপাদান দিয়ে তৈরি একটা মশার ফাঁদ, যা স্ত্রী এডিসকে ডিম পাড়তে প্রলুব্ধ করে কিন্তু সেই ডিম নষ্ট করে দেয়। এখন এটি কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রায় তিন হাজার স্থাপন করা হয়েছে। এমন কম খরচের, স্থানীয় সমাধান বাড়ানোর সুযোগ আছে সারা দেশে।


সমাধানের রাস্তাটা তাই স্পষ্ট। মশা নিয়ন্ত্রণকে ঋতুভিত্তিক না রেখে সারা বছরের কর্মসূচি করতে হবে, শুষ্ক মৌসুম থেকেই প্রজননস্থল ধ্বংসের কাজ জোরদার করে। আবহাওয়া ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য একত্র করে পূর্বাভাসভিত্তিক সতর্কতা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। আর ঢাকার বাইরে, বিশেষত উপকূলীয় জেলাগুলোতে পৌরসভা-ইউনিয়ন পর্যায়ে হাসপাতাল ও রোগ-নির্ণয়ের সক্ষমতা বাড়াতে হবে, কারণ ঝুঁকিটা এখন সেখানেই বেশি।


লেখার শুরুতে যে সংখ্যাগুলোর কথা বলেছিলাম, সেখানেই ফিরি। ৬৫ জনের মৃত্যুর আড়ালে লুকিয়ে থাকা ক্রমবর্ধমান প্যাটার্নটাই আসল সংকেত। জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে পাল্লা দিয়ে ডেঙ্গু তার রূপ বদলাচ্ছে প্রতিনিয়ত, আমরা এখনো পড়ে আছি পুরোনো ধাঁচের প্রস্তুতি নিয়ে। এই ফারাকটা যত দ্রুত ঘোচানো যাবে, ততই মঙ্গল।

[লেখক: শিক্ষার্থী, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়]



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত