বগুড়ার শেরপুর উপজেলার মির্জাপুর-জোরগাছা আঞ্চলিক সড়কটি এখন খানাখন্দে একাকার। সংস্কারের অভাবে ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এতে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন দুই ইউনিয়নের অন্তত লক্ষাধিক মানুষ। সড়কে বড় বড় গর্ত তৈরি হওয়ায় অটোরিকশা, ভ্যান ও ট্রাক চলাচলের সময় প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
১২ ফুট প্রস্থের এই সড়কটির অধিকাংশ স্থানেই এখন আর পিচ নেই। কোথাও কোথাও বড় গর্ত তৈরি হয়েছে, আবার কোথাও সড়কের অস্তিত্বই বিলীন হওয়ার পথে। স্থানীয়রা জানান, মির্জাপুর বাজার থেকে সুঘাট ইউনিয়নের জয়লা জুয়ান হয়ে সড়কটি ধুনট উপজেলায় প্রবেশ করেছে। শেরপুর শহরের সঙ্গে যোগাযোগের এটিই একমাত্র মাধ্যম। এই পথ দিয়ে সুঘাট ও মির্জাপুর ইউনিয়নের মানুষের পাশাপাশি ধুনট উপজেলার দুটি ইউনিয়নের বাসিন্দারাও নিয়মিত যাতায়াত করেন।
সড়কটি দিয়ে নিয়মিত যাতায়াত করেন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রে এই সড়কটি এখন ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হয়েছে। কৃষিপ্রধান এই অঞ্চলে পণ্য পরিবহনে খরচ বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকরাও।
স্থানীয় অটোরিকশা চালক বেলাল শেখ বলেন, ‘প্রতিদিন প্রাণ হাতে নিয়ে গাড়ি চালাতে হয়। গর্তে পড়ে গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে, আয়ও কমে গেছে। আগে দিনে ১০-১২ বার যাতায়াত করা যেত, এখন ৫ বার যাওয়াই কঠিন।’
সুঘাট ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু হাসান ও মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম জানান, সড়কটি দ্রুত সংস্কারের জন্য একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষ এবার সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছে।
শেরপুর উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল মজিদ বলেন, ‘মানুষের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে জরুরি ভিত্তিতে সড়কটি সংস্কারের জন্য অর্থ বরাদ্দ চাওয়া হয়েছিল। এরই মধ্যে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেছে। খুব দ্রুতই দরপত্র (টেন্ডার) আহ্বান করা হবে।’
আপনার মতামত লিখুন