সংবাদ

জলিল টেক্সটাইলে হবে অস্ত্র কারখানা


মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, চট্টগ্রাম
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০৩:০১ পিএম

জলিল টেক্সটাইলে হবে অস্ত্র কারখানা
ছবি : সংবাদ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাটে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা জলিল টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের জমিতে এবার অস্ত্র কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের (বিটিএমসি) নিয়ন্ত্রণাধীন এই মিলের ৫৪ দশমিক ৯৯ একর জমি বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানার (বিওএফ) সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল ১১টায় ফৌজদারহাটে মিল প্রাঙ্গণে জমি হস্তান্তর ও চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি, প্রতিমন্ত্রী মো. শরিফুল আলম এমপি, সচিব শরাফ উদ্দিন আহমেদ এবং সেনাপ্রধানসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সমরাস্ত্র উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে এই জমি ব্যবহার করা হবে। সেখানে উচ্চপ্রযুক্তির আধুনিক অস্ত্র ও গোলাবারুদ উৎপাদনের জন্য প্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি সামরিক লজিস্টিকস ও সংবেদনশীল সরঞ্জাম সংরক্ষণের জন্য বিশেষায়িত সংরক্ষণাগার ও অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।

২০২৪ সাল থেকে জমিটি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়। ওই বছরের জুনে তৎকালীন সেনাপ্রধানের নেতৃত্বে একটি দল মিলটি পরিদর্শন করেন। চলতি বছরের ১ জুলাই অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে প্রতিরক্ষা খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতীকী মূল্যে এই জমি বিওএফ-এর কাছে হস্তান্তরের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।

এদিকে মিলটি হস্তান্তরের সময় পাওনা আদায়ের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন সাবেক শ্রমিক-কর্মচারীরা। ২০০৪ সালে মিলটি বন্ধ হওয়ার পর থেকে ১ হাজার ৭৩ জন শ্রমিক ও কর্মকর্তা তাদের বকেয়া বেতনের অপেক্ষায় আছেন। শ্রমিক ইউনিয়নের দাবি, অডিট অনুযায়ী গ্র্যাচুইটি ও প্রভিডেন্ট ফান্ডসহ তাদের পাওনার পরিমাণ ২০ কোটি ৫৭ লাখ টাকা।

জলিল টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড সিবিএ সভাপতি মসিউদ্দৌলা বলেন, ‘আমাদের পাওনা টাকা পরিশোধ না করেই কারখানাটি হস্তান্তর করা হচ্ছে। আমরা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করে এই সমস্যার সমাধান চাইছি।’

পাকিস্তান আমলে ব্যক্তিগত মালিকানায় প্রতিষ্ঠিত এই মিলটি ১৯৭২ সালে জাতীয়করণ করা হয়। একসময় মানসম্মত সুতা ও কাপড় উৎপাদনের জন্য প্রতিষ্ঠানটি তিনবার জাতীয় স্বর্ণপদক পেয়েছিল। তবে লোকসান ও অব্যবস্থাপনার কারণে ২০০৪ সালে এটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬


জলিল টেক্সটাইলে হবে অস্ত্র কারখানা

প্রকাশের তারিখ : ২৭ আগস্ট ২০২৬

featured Image

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাটে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা জলিল টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের জমিতে এবার অস্ত্র কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের (বিটিএমসি) নিয়ন্ত্রণাধীন এই মিলের ৫৪ দশমিক ৯৯ একর জমি বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানার (বিওএফ) সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল ১১টায় ফৌজদারহাটে মিল প্রাঙ্গণে জমি হস্তান্তর ও চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি, প্রতিমন্ত্রী মো. শরিফুল আলম এমপি, সচিব শরাফ উদ্দিন আহমেদ এবং সেনাপ্রধানসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সমরাস্ত্র উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে এই জমি ব্যবহার করা হবে। সেখানে উচ্চপ্রযুক্তির আধুনিক অস্ত্র ও গোলাবারুদ উৎপাদনের জন্য প্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি সামরিক লজিস্টিকস ও সংবেদনশীল সরঞ্জাম সংরক্ষণের জন্য বিশেষায়িত সংরক্ষণাগার ও অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।

২০২৪ সাল থেকে জমিটি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়। ওই বছরের জুনে তৎকালীন সেনাপ্রধানের নেতৃত্বে একটি দল মিলটি পরিদর্শন করেন। চলতি বছরের ১ জুলাই অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে প্রতিরক্ষা খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতীকী মূল্যে এই জমি বিওএফ-এর কাছে হস্তান্তরের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।

এদিকে মিলটি হস্তান্তরের সময় পাওনা আদায়ের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন সাবেক শ্রমিক-কর্মচারীরা। ২০০৪ সালে মিলটি বন্ধ হওয়ার পর থেকে ১ হাজার ৭৩ জন শ্রমিক ও কর্মকর্তা তাদের বকেয়া বেতনের অপেক্ষায় আছেন। শ্রমিক ইউনিয়নের দাবি, অডিট অনুযায়ী গ্র্যাচুইটি ও প্রভিডেন্ট ফান্ডসহ তাদের পাওনার পরিমাণ ২০ কোটি ৫৭ লাখ টাকা।

জলিল টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড সিবিএ সভাপতি মসিউদ্দৌলা বলেন, ‘আমাদের পাওনা টাকা পরিশোধ না করেই কারখানাটি হস্তান্তর করা হচ্ছে। আমরা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করে এই সমস্যার সমাধান চাইছি।’

পাকিস্তান আমলে ব্যক্তিগত মালিকানায় প্রতিষ্ঠিত এই মিলটি ১৯৭২ সালে জাতীয়করণ করা হয়। একসময় মানসম্মত সুতা ও কাপড় উৎপাদনের জন্য প্রতিষ্ঠানটি তিনবার জাতীয় স্বর্ণপদক পেয়েছিল। তবে লোকসান ও অব্যবস্থাপনার কারণে ২০০৪ সালে এটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত