মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যেই বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করার লক্ষ্যে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। ইরান এই পথে স্বাভাবিক নৌ-চলাচল নিশ্চিত করতে একগুচ্ছ শর্ত তৈরির বিষয়ে একমত হয়েছে। কাতার ও ওমানের মধ্যস্থতায় এই প্রক্রিয়ায় ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে তেহরান।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুল রহমান আল থানি তেহরানে শীর্ষ ইরানি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে তিনি আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি আলোচনায় অংশ না নিয়ে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধির কৌশল নিলেও কাতার ও পাকিস্তানের মতো মধ্যস্থতাকারীরা জুন মাসের যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে ভিত্তি করে নতুন করে কাজ শুরু করেছে।
উল্লেখ্য, ছয় মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু করার পর ইরান হুমকি দিয়েছিল যে, তাদের অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ এই প্রণালি অতিক্রম করতে পারবে না। বিশ্বের মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে সরবরাহ করা হয়। যুদ্ধের ফলে এই পথে জাহাজ চলাচল কমে দাঁড়িয়েছে স্বাভাবিকের মাত্র ৫ থেকে ১৫ শতাংশে।
ইরানের শর্ত ও নৌ-করিডোর
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মহসেন রেজাই জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারীদের অনুরোধে তারা হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় শর্তাবলি প্রস্তুত করছেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরান ও ওমান যৌথভাবে একটি নৌ-করিডোর তৈরির বিষয়ে একমত হয়েছে। এই পথে আন্তর্জাতিক জাহাজগুলো একটি নির্দিষ্ট চ্যানেল ব্যবহার করতে পারবে, যদি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শর্তগুলো মেনে নেয়।
ইরানের সম্ভাব্য শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি বাবদ ক্ষতিপূরণ এবং সব ধরনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া। তবে এই শর্তগুলো ওয়াশিংটন মেনে নেবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ও নিরাপত্তা ঝুঁকি
এদিকে, মার্কিন সামরিক বাহিনী দাবি করেছে যে তারা হরমুজ প্রণালি থেকে ইরানের পেতে রাখা মাইনগুলো পরিষ্কার করেছে। ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার এক ভিডিও বার্তায় বলেন, "আন্তর্জাতিক নৌপথ এখন উন্মুক্ত এবং পরিস্থিতি উন্নতির দিকে।" মার্কিন বাহিনীর সহায়তায় গত কয়েক মাসে বেশ কিছু বাণিজ্যিক জাহাজ তেল নিয়ে এই পথ অতিক্রম করেছে বলেও তিনি জানান।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন যে প্রণালিটি উন্মুক্ত রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমা বিষয়ক সংস্থা আইএমও (IMO) জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে অন্তত ৭০টি নাশকতামূলক ঘটনা ঘটেছে, যাতে ১৯ জন নাবিক প্রাণ হারিয়েছেন। এই নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে বেশির ভাগ কোম্পানিই বিকল্প পথ ব্যবহারের চেষ্টা করছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কাতারের এই সফর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দীর্ঘদিনের অচলায়তন ভাঙতে সাহায্য করতে পারে। তবে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি সচল হওয়া নির্ভর করছে তেহরানের দেওয়া শর্তাবলি এবং তার প্রতি ওয়াশিংটনের প্রতিক্রিয়ার ওপর।
/

শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ আগস্ট ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যেই বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করার লক্ষ্যে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। ইরান এই পথে স্বাভাবিক নৌ-চলাচল নিশ্চিত করতে একগুচ্ছ শর্ত তৈরির বিষয়ে একমত হয়েছে। কাতার ও ওমানের মধ্যস্থতায় এই প্রক্রিয়ায় ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে তেহরান।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুল রহমান আল থানি তেহরানে শীর্ষ ইরানি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে তিনি আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি আলোচনায় অংশ না নিয়ে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধির কৌশল নিলেও কাতার ও পাকিস্তানের মতো মধ্যস্থতাকারীরা জুন মাসের যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে ভিত্তি করে নতুন করে কাজ শুরু করেছে।
উল্লেখ্য, ছয় মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু করার পর ইরান হুমকি দিয়েছিল যে, তাদের অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ এই প্রণালি অতিক্রম করতে পারবে না। বিশ্বের মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে সরবরাহ করা হয়। যুদ্ধের ফলে এই পথে জাহাজ চলাচল কমে দাঁড়িয়েছে স্বাভাবিকের মাত্র ৫ থেকে ১৫ শতাংশে।
ইরানের শর্ত ও নৌ-করিডোর
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মহসেন রেজাই জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারীদের অনুরোধে তারা হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় শর্তাবলি প্রস্তুত করছেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরান ও ওমান যৌথভাবে একটি নৌ-করিডোর তৈরির বিষয়ে একমত হয়েছে। এই পথে আন্তর্জাতিক জাহাজগুলো একটি নির্দিষ্ট চ্যানেল ব্যবহার করতে পারবে, যদি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শর্তগুলো মেনে নেয়।
ইরানের সম্ভাব্য শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি বাবদ ক্ষতিপূরণ এবং সব ধরনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া। তবে এই শর্তগুলো ওয়াশিংটন মেনে নেবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ও নিরাপত্তা ঝুঁকি
এদিকে, মার্কিন সামরিক বাহিনী দাবি করেছে যে তারা হরমুজ প্রণালি থেকে ইরানের পেতে রাখা মাইনগুলো পরিষ্কার করেছে। ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার এক ভিডিও বার্তায় বলেন, "আন্তর্জাতিক নৌপথ এখন উন্মুক্ত এবং পরিস্থিতি উন্নতির দিকে।" মার্কিন বাহিনীর সহায়তায় গত কয়েক মাসে বেশ কিছু বাণিজ্যিক জাহাজ তেল নিয়ে এই পথ অতিক্রম করেছে বলেও তিনি জানান।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন যে প্রণালিটি উন্মুক্ত রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমা বিষয়ক সংস্থা আইএমও (IMO) জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে অন্তত ৭০টি নাশকতামূলক ঘটনা ঘটেছে, যাতে ১৯ জন নাবিক প্রাণ হারিয়েছেন। এই নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে বেশির ভাগ কোম্পানিই বিকল্প পথ ব্যবহারের চেষ্টা করছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কাতারের এই সফর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দীর্ঘদিনের অচলায়তন ভাঙতে সাহায্য করতে পারে। তবে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি সচল হওয়া নির্ভর করছে তেহরানের দেওয়া শর্তাবলি এবং তার প্রতি ওয়াশিংটনের প্রতিক্রিয়ার ওপর।
/

আপনার মতামত লিখুন