সংবাদ

নেপাল ও চীনে মৃত্যু ৭০০ ছুঁইছুঁই


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১০:০৫ এএম

নেপাল ও চীনে মৃত্যু ৭০০ ছুঁইছুঁই
ছবি : সংগৃহীত

নেপাল ও চীনে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৭০০ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে নেপালেই প্রাণ হারিয়েছেন ৬৭৫ জন এবং চীনে অন্তত ১৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। দুই দেশ মিলিয়ে এখনো প্রায় ৩ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের শত শত বিদেশি পর্যটক ও কর্মী রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।

বুধবার চীন সীমান্তের কাছে হিমবাহ ধসে বরফ ও পাথরের স্তূপ নেমে আসার পর সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় নেপালের রাসুয়াসহ মধ্যাঞ্চলীয় জেলাগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নেপাল পুলিশের তথ্যমতে, বন্যায় ওই অঞ্চলের সড়ক, সেতু, ঘরবাড়ি এবং জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, নিখোঁজদের মধ্যে ১৮৩ জন ভারতীয়সহ মোট ৭৫৩ জন পর্যটক রয়েছেন।

এদিকে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, তিব্বত সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ হয়েছে। সেখানে নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ৫৪৬ জন, যাদের মধ্যে ২৬১ জনই বিদেশি নাগরিক। তাদের মধ্যে ১৮ জন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক বলে জানা গেছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় নেপাল কর্তৃপক্ষকে ৩৬ লাখ ডলার মানবিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। নিখোঁজ ও মৃতদের উদ্ধারে ধ্বংসস্তূপ ও কাদার নিচে তল্লাশি চালাচ্ছে সেনাবাহিনী ও উদ্ধারকর্মীরা। তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ৮৮ জন ভারতীয়কে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। মৃতদেহ শনাক্তকরণে সহায়তার জন্য ভারত থেকে একটি ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ দল আজই কাঠমান্ডু পৌঁছানোর কথা রয়েছে। তারা মূলত ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের মাধ্যমে পরিচয়হীন মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করতে কাজ করবে।

এদিকে ভোতেকোশি ও ত্রিশূলী নদীর পানি বাড়ার আশঙ্কায় নতুন করে বন্যার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নদী তীরের বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিরূপণের কাজ এখনো চলছে, তাই নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬


নেপাল ও চীনে মৃত্যু ৭০০ ছুঁইছুঁই

প্রকাশের তারিখ : ৩০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

নেপাল ও চীনে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৭০০ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে নেপালেই প্রাণ হারিয়েছেন ৬৭৫ জন এবং চীনে অন্তত ১৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। দুই দেশ মিলিয়ে এখনো প্রায় ৩ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের শত শত বিদেশি পর্যটক ও কর্মী রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।

বুধবার চীন সীমান্তের কাছে হিমবাহ ধসে বরফ ও পাথরের স্তূপ নেমে আসার পর সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় নেপালের রাসুয়াসহ মধ্যাঞ্চলীয় জেলাগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নেপাল পুলিশের তথ্যমতে, বন্যায় ওই অঞ্চলের সড়ক, সেতু, ঘরবাড়ি এবং জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, নিখোঁজদের মধ্যে ১৮৩ জন ভারতীয়সহ মোট ৭৫৩ জন পর্যটক রয়েছেন।

এদিকে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, তিব্বত সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ হয়েছে। সেখানে নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ৫৪৬ জন, যাদের মধ্যে ২৬১ জনই বিদেশি নাগরিক। তাদের মধ্যে ১৮ জন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক বলে জানা গেছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় নেপাল কর্তৃপক্ষকে ৩৬ লাখ ডলার মানবিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। নিখোঁজ ও মৃতদের উদ্ধারে ধ্বংসস্তূপ ও কাদার নিচে তল্লাশি চালাচ্ছে সেনাবাহিনী ও উদ্ধারকর্মীরা। তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ৮৮ জন ভারতীয়কে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। মৃতদেহ শনাক্তকরণে সহায়তার জন্য ভারত থেকে একটি ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ দল আজই কাঠমান্ডু পৌঁছানোর কথা রয়েছে। তারা মূলত ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের মাধ্যমে পরিচয়হীন মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করতে কাজ করবে।

এদিকে ভোতেকোশি ও ত্রিশূলী নদীর পানি বাড়ার আশঙ্কায় নতুন করে বন্যার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নদী তীরের বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিরূপণের কাজ এখনো চলছে, তাই নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত