সংবাদ

বিপদে ফোন ঝাঁকালেই আসবে সাহায্য, নারী সুরক্ষায় অ্যাপ ‘রামিসা’


সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০২:৪৪ পিএম

বিপদে ফোন ঝাঁকালেই আসবে সাহায্য, নারী সুরক্ষায় অ্যাপ ‘রামিসা’
ছবি : সংগৃহীত

নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নতুন মোবাইল অ্যাপ ‘রামিসা’ (Ramisa) চালু হতে যাচ্ছে। কোনো নারী বিপদে পড়লে ফোনটি মাত্র তিনবার ঝাঁকালেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে জরুরি সাহায্য পাঠানোর ব্যবস্থা রয়েছে এই অ্যাপে।

অ্যাপটির নির্মাতা সূত্রে জানা গেছে, জরুরি অবস্থায় ফোন ঝাঁকানোর সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহারকারীর পূর্বনির্ধারিত তিন-চারজন নিকটজনের কাছে অ্যালার্ট চলে যাবে। সেই সঙ্গে ভুক্তভোগীর লাইভ লোকেশন, ফোনের চার্জের পরিমাণ এবং বর্তমান অবস্থানের প্রয়োজনীয় তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে পৌঁছে যাবে।

রামিসা অ্যাপের অন্যতম বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এর ‘কমিউনিটি অ্যালার্ট’ সিস্টেম। কোনো নারী বিপদে পড়লে তার আশপাশে থাকা রামিসা ব্যবহারকারীদের ফোনেও সংকেত পৌঁছে যাবে। এতে স্থানীয় লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে সাহায্য করতে পারবেন। এ ছাড়া অ্যাপটি থেকে সরাসরি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করার সুবিধাও রাখা হয়েছে।

অ্যাপটির প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল্লাহ আল রাফি মাহমুদ জানান, বাস্তব জীবনে শতভাগ কার্যকর সুরক্ষা নিশ্চিত করাই তাদের লক্ষ্য। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই রামিসা যেন কেবল একটি অ্যাপ না হয়ে বিপদে মানুষের প্রকৃত বন্ধু হয়ে ওঠে। এই প্রচেষ্টাকে সফল করতে আমরা নেতিবাচকতা এড়িয়ে সবার মূল্যবান পরামর্শ ও সহযোগিতা কামনা করছি।’

নির্মাতারা আরও জানিয়েছেন, শুধুমাত্র মোবাইল অ্যাপেই সীমাবদ্ধ থাকছে না এই সুরক্ষা ব্যবস্থা। খুব শিগগির তারা একটি ছোট হার্ডওয়্যার ডিভাইস বাজারে আনবেন, যা আংটি বা কিচেইনের মতো ব্যবহার করা যাবে। বিপদে পড়লে ওই ডিভাইসে একটি ক্লিক করলেই সক্রিয় হয়ে উঠবে ইমার্জেন্সি অ্যালার্ট সিস্টেম।

অ্যাপটির প্রধান ফিচারসমূহ:
১. তাৎক্ষণিক সংকেত (SOS Alert): কোনো বিপদে পড়লে ফোনটি তিনবার ঝাঁকালেই পূর্বনির্ধারিত ঘনিষ্ঠজনদের কাছে জরুরি সংকেত পৌঁছে যাবে।
২. তথ্য আদান-প্রদান: সংকেতের সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহারকারীর লাইভ লোকেশন, ফোনের ব্যাটারির অবস্থা এবং প্রয়োজনীয় তথ্য নিকটজনের কাছে চলে যাবে।
৩. কমিউনিটি অ্যালার্ট: ব্যবহারকারীর আশপাশে থাকা অন্য রামিসা ব্যবহারকারীদের ফোনেও ইমার্জেন্সি অ্যালার্ট দেখা যাবে, যাতে স্থানীয় লোকজন দ্রুত সাহায্য করতে পারেন।
৪. জরুরি নম্বর: সরাসরি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নম্বরে দ্রুত কলের সুবিধা।
৫. আইনি ও চিকিৎসা সহায়তা: অ্যাপটিতে রয়েছে লিগ্যাল গাইড, অধিকার সচেতনতা, বিনা মূল্যে আইনি সহায়তা ও জিডির খসড়া করার সুবিধা। পাশাপাশি প্রাথমিক চিকিৎসা ও অফলাইন মেডিকেল ইমার্জেন্সি গাইড।
৬. মানসিক স্বাস্থ্যের সুরক্ষা: ওয়েলনেস ও কাউন্সিলিং সাপোর্টও মিলবে এই অ্যাপে।
৭. স্মার্ট ট্র্যাকিং: রিকশা বা রাইড শেয়ারিংয়ের ক্ষেত্রে ভেহিকেল প্লেট ও রুট ট্র্যাকিংয়ের জন্য থাকছে ‘রাইড গার্ড’। এ ছাড়া সেফটি টাইমার ও অটো চেক-ইন সুবিধা।
৮. উন্নত প্রযুক্তি: এআই থ্রেট গার্ডের মাধ্যমে শব্দ শুনে বিপদ শনাক্তকরণ (Acoustic Threat Detection) এবং নিরাপদ স্থানের মানচিত্র দেখার সুযোগ।
৯. অফলাইন সুবিধা: ইন্টারনেট ছাড়াই ‘অফলাইন মেশ নেটওয়ার্ক’-এর মাধ্যমে এসওএস সংকেত পাঠানো সম্ভব। এমনকি ফোনের চার্জ খুব কমে গেলেও লোকেশন অটো-ব্রডকাস্ট হবে।
১০. তথ্য সংরক্ষণ: এনক্রিপ্টেড অডিও এভিডেন্সের জন্য রয়েছে সেফটি ভল্ট এবং টাইমস্ট্যাম্পসহ ইনসিডেন্ট হিস্ট্রি।

আবদুল্লাহ আল রাফি মাহমুদ আরও জানান, খুব শীঘ্রই তারা একটি হার্ডওয়্যার ডিভাইস বা স্মার্ট ব্যান্ড বাজারে আনবেন। যা আংটি বা কিচেইনের মতো ব্যবহার করা যাবে এবং কেবল একটি ক্লিকেই ইমার্জেন্সি অ্যালার্ট সিস্টেম চালু হয়ে যাবে।

দেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপদ থাকার অধিকার নিশ্চিত করতে ‘রামিসা’ অ্যাপটি একটি বড় মাইলফলক হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬


বিপদে ফোন ঝাঁকালেই আসবে সাহায্য, নারী সুরক্ষায় অ্যাপ ‘রামিসা’

প্রকাশের তারিখ : ৩০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নতুন মোবাইল অ্যাপ ‘রামিসা’ (Ramisa) চালু হতে যাচ্ছে। কোনো নারী বিপদে পড়লে ফোনটি মাত্র তিনবার ঝাঁকালেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে জরুরি সাহায্য পাঠানোর ব্যবস্থা রয়েছে এই অ্যাপে।

অ্যাপটির নির্মাতা সূত্রে জানা গেছে, জরুরি অবস্থায় ফোন ঝাঁকানোর সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহারকারীর পূর্বনির্ধারিত তিন-চারজন নিকটজনের কাছে অ্যালার্ট চলে যাবে। সেই সঙ্গে ভুক্তভোগীর লাইভ লোকেশন, ফোনের চার্জের পরিমাণ এবং বর্তমান অবস্থানের প্রয়োজনীয় তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে পৌঁছে যাবে।

রামিসা অ্যাপের অন্যতম বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এর ‘কমিউনিটি অ্যালার্ট’ সিস্টেম। কোনো নারী বিপদে পড়লে তার আশপাশে থাকা রামিসা ব্যবহারকারীদের ফোনেও সংকেত পৌঁছে যাবে। এতে স্থানীয় লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে সাহায্য করতে পারবেন। এ ছাড়া অ্যাপটি থেকে সরাসরি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করার সুবিধাও রাখা হয়েছে।

অ্যাপটির প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল্লাহ আল রাফি মাহমুদ জানান, বাস্তব জীবনে শতভাগ কার্যকর সুরক্ষা নিশ্চিত করাই তাদের লক্ষ্য। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই রামিসা যেন কেবল একটি অ্যাপ না হয়ে বিপদে মানুষের প্রকৃত বন্ধু হয়ে ওঠে। এই প্রচেষ্টাকে সফল করতে আমরা নেতিবাচকতা এড়িয়ে সবার মূল্যবান পরামর্শ ও সহযোগিতা কামনা করছি।’

নির্মাতারা আরও জানিয়েছেন, শুধুমাত্র মোবাইল অ্যাপেই সীমাবদ্ধ থাকছে না এই সুরক্ষা ব্যবস্থা। খুব শিগগির তারা একটি ছোট হার্ডওয়্যার ডিভাইস বাজারে আনবেন, যা আংটি বা কিচেইনের মতো ব্যবহার করা যাবে। বিপদে পড়লে ওই ডিভাইসে একটি ক্লিক করলেই সক্রিয় হয়ে উঠবে ইমার্জেন্সি অ্যালার্ট সিস্টেম।

অ্যাপটির প্রধান ফিচারসমূহ:
১. তাৎক্ষণিক সংকেত (SOS Alert): কোনো বিপদে পড়লে ফোনটি তিনবার ঝাঁকালেই পূর্বনির্ধারিত ঘনিষ্ঠজনদের কাছে জরুরি সংকেত পৌঁছে যাবে।
২. তথ্য আদান-প্রদান: সংকেতের সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহারকারীর লাইভ লোকেশন, ফোনের ব্যাটারির অবস্থা এবং প্রয়োজনীয় তথ্য নিকটজনের কাছে চলে যাবে।
৩. কমিউনিটি অ্যালার্ট: ব্যবহারকারীর আশপাশে থাকা অন্য রামিসা ব্যবহারকারীদের ফোনেও ইমার্জেন্সি অ্যালার্ট দেখা যাবে, যাতে স্থানীয় লোকজন দ্রুত সাহায্য করতে পারেন।
৪. জরুরি নম্বর: সরাসরি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নম্বরে দ্রুত কলের সুবিধা।
৫. আইনি ও চিকিৎসা সহায়তা: অ্যাপটিতে রয়েছে লিগ্যাল গাইড, অধিকার সচেতনতা, বিনা মূল্যে আইনি সহায়তা ও জিডির খসড়া করার সুবিধা। পাশাপাশি প্রাথমিক চিকিৎসা ও অফলাইন মেডিকেল ইমার্জেন্সি গাইড।
৬. মানসিক স্বাস্থ্যের সুরক্ষা: ওয়েলনেস ও কাউন্সিলিং সাপোর্টও মিলবে এই অ্যাপে।
৭. স্মার্ট ট্র্যাকিং: রিকশা বা রাইড শেয়ারিংয়ের ক্ষেত্রে ভেহিকেল প্লেট ও রুট ট্র্যাকিংয়ের জন্য থাকছে ‘রাইড গার্ড’। এ ছাড়া সেফটি টাইমার ও অটো চেক-ইন সুবিধা।
৮. উন্নত প্রযুক্তি: এআই থ্রেট গার্ডের মাধ্যমে শব্দ শুনে বিপদ শনাক্তকরণ (Acoustic Threat Detection) এবং নিরাপদ স্থানের মানচিত্র দেখার সুযোগ।
৯. অফলাইন সুবিধা: ইন্টারনেট ছাড়াই ‘অফলাইন মেশ নেটওয়ার্ক’-এর মাধ্যমে এসওএস সংকেত পাঠানো সম্ভব। এমনকি ফোনের চার্জ খুব কমে গেলেও লোকেশন অটো-ব্রডকাস্ট হবে।
১০. তথ্য সংরক্ষণ: এনক্রিপ্টেড অডিও এভিডেন্সের জন্য রয়েছে সেফটি ভল্ট এবং টাইমস্ট্যাম্পসহ ইনসিডেন্ট হিস্ট্রি।

আবদুল্লাহ আল রাফি মাহমুদ আরও জানান, খুব শীঘ্রই তারা একটি হার্ডওয়্যার ডিভাইস বা স্মার্ট ব্যান্ড বাজারে আনবেন। যা আংটি বা কিচেইনের মতো ব্যবহার করা যাবে এবং কেবল একটি ক্লিকেই ইমার্জেন্সি অ্যালার্ট সিস্টেম চালু হয়ে যাবে।

দেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপদ থাকার অধিকার নিশ্চিত করতে ‘রামিসা’ অ্যাপটি একটি বড় মাইলফলক হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত