একটি ফৌজদারী মামলার জয়-পরাজয় কেবল অভিযোগের সত্যতার ওপর নির্ভর করে না; বরং তা নির্ভর করে বিচারিক আদালতে উভয় পক্ষের সাক্ষ্য উপস্থাপন, আলামত প্রমাণ এবং আইনি কৌশল প্রয়োগের দক্ষতার ওপর। অনেক সময় সুস্পষ্ট অপরাধীও প্রসিকিউশনের সামান্য ত্রুাটর কারণে খালাস পেয়ে যায়, আবার অনেক সময় আসামির আইনজীবীর কৌশলগত ভুলের কারণে আসামি শাস্তির মুখে পড়ে। একটি মাদক মামলার রায় বিশ্লেষণ করে বিচারক, প্রসিকিউশন, আসামীপক্ষের আইনজীবী এবং আইন শিক্ষার্থীদের জন্য কয়েকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষামূলক দিক নিচে তুলে ধরা হলো।
আসামিপক্ষের আইনজীবীর কৌশলগত ত্রুটি
মাদকের মামলায় আসামীকে আইনি সুরক্ষা দিতে গিয়ে আইনজীবীরা প্রায়শই কিছু সাধারণ ভুল করে থাকেন। উক্ত মামলায় আসামীপক্ষের যে সমস্ত দুর্বলতা ফুটে উঠেছে তার মধ্যে অন্যতম স্বতন্ত্র সাক্ষীর বৈরী হওয়ার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা হওয়া। প্রসিকিউশনের পাবলিক সাক্ষী বৈরী হওয়ায় আসামীপক্ষ ধরে নিয়েছিল মামলা দুর্বল হয়ে গেছে। কিন্তু এটি একটি মারাত্মক ভুল কৌশল। উচ্চ আদালতের সুপ্রতিষ্ঠিত সিদ্ধান্ত হচ্ছে পাবলিক সাক্ষী সাক্ষ্য না দিলেও বা বৈরী হলেও, সরকারি/অফিসিয়াল সাক্ষীদের যেমন: র্যাব বা পুলিশ সদস্য বস্তুনিষ্ঠ ও সামঞ্জস্যপূর্ণ সাক্ষ্যের ভিত্তিতে সাজা দেয়া সম্পূর্ণ আইনসম্মত। (৮ বি.এল.টি ৩৫২, ১৫ এম.এল.আর (এ.ডি) ৭৭)
অফিসিয়াল সাক্ষীদের জেরা করতে ব্যর্থতা
ডিএডি, এস.আই এবং সার্জেন্ট এই তিন সরকারি সাক্ষীর সাক্ষ্য অত্যন্ত সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। আসামীপক্ষ তাদের বিস্তারিত জেরা করলেও এমন কোনো অসঙ্গতি উদঘাটন করতে পারেনি যা এজাহারের ঘটনাকে মিথ্যা প্রমাণ করে।
টেন্ডার সাক্ষীদের জেরা না করা
রাষ্ট্রপক্ষ যখন কেবল ‘টেন্ডার’ করেছিল, তখন আসামীপক্ষ তাদের জেরা করতে অস্বীকৃতি জানায়। এটি আসামীপক্ষের একটি বড় ভুল। টেন্ডার সাক্ষীদের জেরা করে ঘটনার স্থান, আলামত জব্দ বা সময় সংক্রান্ত অসঙ্গতি বের করার একটি সুযোগ আসামীপক্ষ হাতছাড়া করেছে।
প্রসিকিউশন ও তদন্তকারী কর্মকর্তার ত্রুটি
অপরাধী পার পেয়ে যাওয়ার ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্রসমূহ যদিও এই মামলায় আসামিরা বদলি হয়েছে, তথাপি তদন্ত ও প্রসিকিউশনের কিছু পদ্ধতিগত ত্রুটি এখানে স্পষ্ট, যা একটু বিচক্ষণ বিচারে আসামীকে খালাসের সুযোগ করে দিতে পারত। যেমন ঘটনাস্থলে আলামত সীলগালা না করা। সাক্ষীদের জবানবন্দিতে প্রকাশ পায় যে, আলামত অর্থাৎ ইয়াবা ঘটনাস্থলে কেমিক্যাল পরীক্ষার জন্য আলাদাভাবে সীলগালা বা বিশেষ মার্কিং করা হয়নি। মাদকের মামলায় আলামতের ‘চেইন অব কাস্টডি’ অক্ষুণ্ন রাখা বাধ্যতামূলক। আলামত সীলগালা না করা প্রসিকিউশনের একটি মারাত্মক গাফিলতি।
স্থানীয় ও নিরপেক্ষ সাক্ষী না নেয়া
ঘটনাস্থলটি ছিল কুমারখালী বাসস্ট্যান্ডের মতো একটি জনবহুল এলাকা। সেখানে বহু বাস কাউন্টার, যাত্রী ও ব্যবসায়ী থাকা সত্ত্বেও তদন্তকারী কর্মকর্তা কোনো বাস কাউন্টারের লোক বা স্থানীয় নিরপেক্ষ কাউকে সাক্ষী করেননি। রাসায়নিক পরীক্ষককেও সাক্ষী করা হয়নি। অভিযোগপত্রে যে ৩ জন পাবলিক সাক্ষীকে রাখা হয়েছিল, তারা আদালতে গিয়ে মামলা সমর্থন করেননি। তদন্তকালে সাক্ষীদের স্থায়ী ঠিকানা সঠিকভাবে নিশ্চিত না করা এবং তাদের মানসিকভাবে প্রস্তুত না করার কারণে প্রসিকিউশন কেবল সরকারি সাক্ষীর ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হয়।
অফিসিয়াল বনাম প্রাইভেট সাক্ষীর সাক্ষ্যগত মূল্য
উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত অনুসরণ করে বিজ্ঞ আদালত সঠিকভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন যে ‘সাক্ষীরা সরকারি কর্মচারী বা ইন্টারেস্টেড হলেই তাদের সাক্ষ্য বাতিল করা যায় না, যদি তারা সত্যবাদী হন।’ স্থানীয় সাক্ষীরা ভয়ে বা প্রভাবে পড়ে নিরপেক্ষ নাও থাকতে পারে, কিন্তু অফিশিয়াল সাক্ষীদের বক্তব্য পরস্পর সামঞ্জস্যপূর্ণ হলে তা গ্রহণের আইনি ভিত্তি রয়েছে।
রাসায়নিক পরীক্ষা ও ওজনের সঠিক হিসাব
মাদকের ধরণ ও সাজা নির্ধারণে রাসায়নিক পরীক্ষার রিপোর্ট মুখ্য ভূমিকা পালন করে। জব্দকৃত আলামতে ‘মিথাইল অ্যাম্ফিটামিন’ পাওয়া গেছে এবং প্রতি ট্যাবলেটের গড় ওজন ০.১ গ্রাম ধরে আসামী রাশেদের ক্ষেত্রে ২০০ গ্রাম এবং মালেকের ক্ষেত্রে ১২০ গ্রাম অ্যাম্ফিটামিন হিসাব করে আইন অনুযায়ী কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
শিক্ষণীয় সার সংক্ষেপ:
১। আসামীপক্ষ অফিশিয়াল সাক্ষীদের মধ্যে সময়ের ব্যবধান, ঘটনাস্থলের দূরত্ব ও আলামতের ধরণ নিয়ে জবানবন্দীতে অসঙ্গতি ফুটিয়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছে।।
২। কেবল পাবলিক সাক্ষী বৈরী হয়েছে এই যুক্তির ওপর ভরসা করে অফিশিয়াল সাক্ষীদের জেরা শিথিল করা মোটেও ঠিক হয়নি।
৩। প্রসিকিউশন ও ঘটনাস্থলেই জব্দকৃত আলামত নিরপেক্ষ সাক্ষীদের উপস্থিতিতে সীলগালা করা ও মার্কিং করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
৪। জনবহুল স্থানে অভিযান চালিয়ে স্থানীয় নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের সাক্ষী করা থেকে বিরত থাকাও পেশাদারিত্বের পরিচয় নয়।
৫। ৮ বি.এল.টি ৩৫২ পৃষ্ঠায় উল্লেখিত বিল্লাল মিয়া বনাম রাষ্ট্রের মামলায় মাননীয় হাইকোর্ট বিভাগ এর সিদ্ধান্ত হতে জানা যায় যে, স্থানীয় সাক্ষীরা প্রভাবশালী আসামীদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে চাননা। সেকারনে রাষ্ট্রপক্ষের সরকারী সাক্ষীদের অবিশ্বাস করার কোন কারন নেই বরং ১৫ এম.এল.আর (এ.ডি) ৭৭ পৃষ্ঠায় উল্লেখিত জায়েদুল ইসলাম জাবেদ বনাম রাষ্ট্রের মামলায় দেয়া মাননীয় আপীল বিভাগের সিদ্ধান্ত হতে জানা যায় যে, জব্দতালিকার সাক্ষীরা রাষ্ট্রপক্ষের মামলা সমর্থন করে সাক্ষ্য না দিলেও কেবলমাত্র সরকারী সাক্ষীদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে আসামীকে দোষী সাব্যস্থ করা আইনসম্মত। অনুরূপ মনোভাব ব্যক্ত করা হয়েছে ৫ বি.এল.সি (এ.ডি) ৪১ পৃষ্ঠায় উল্লেখ রাষ্ট্র বনাম ফুলমিয়া মামলায়।
ফৌজদারী বিচারে কেবল সন্দেহের বশে কাউকে সাজা দেওয়া যায় না, আবার পদ্ধতিগত ছোটখাটো ত্রুটির সুযোগ নিয়ে অপরাধীকে পার পেতে দেয়াও ন্যায় বিচারের পরিপন্থী। রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামীপক্ষ উভয় পক্ষই যদি নিজ নিজ পেশাদারিত্ব ও আইনি সচেতনতা বৃদ্ধি করে, তবেই ফৌজদারী বিচারব্যবস্থায় প্রকৃত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
[লেখক: আইনজীবী, সুপ্রিম কোর্ট]

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
একটি ফৌজদারী মামলার জয়-পরাজয় কেবল অভিযোগের সত্যতার ওপর নির্ভর করে না; বরং তা নির্ভর করে বিচারিক আদালতে উভয় পক্ষের সাক্ষ্য উপস্থাপন, আলামত প্রমাণ এবং আইনি কৌশল প্রয়োগের দক্ষতার ওপর। অনেক সময় সুস্পষ্ট অপরাধীও প্রসিকিউশনের সামান্য ত্রুাটর কারণে খালাস পেয়ে যায়, আবার অনেক সময় আসামির আইনজীবীর কৌশলগত ভুলের কারণে আসামি শাস্তির মুখে পড়ে। একটি মাদক মামলার রায় বিশ্লেষণ করে বিচারক, প্রসিকিউশন, আসামীপক্ষের আইনজীবী এবং আইন শিক্ষার্থীদের জন্য কয়েকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষামূলক দিক নিচে তুলে ধরা হলো।
আসামিপক্ষের আইনজীবীর কৌশলগত ত্রুটি
মাদকের মামলায় আসামীকে আইনি সুরক্ষা দিতে গিয়ে আইনজীবীরা প্রায়শই কিছু সাধারণ ভুল করে থাকেন। উক্ত মামলায় আসামীপক্ষের যে সমস্ত দুর্বলতা ফুটে উঠেছে তার মধ্যে অন্যতম স্বতন্ত্র সাক্ষীর বৈরী হওয়ার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা হওয়া। প্রসিকিউশনের পাবলিক সাক্ষী বৈরী হওয়ায় আসামীপক্ষ ধরে নিয়েছিল মামলা দুর্বল হয়ে গেছে। কিন্তু এটি একটি মারাত্মক ভুল কৌশল। উচ্চ আদালতের সুপ্রতিষ্ঠিত সিদ্ধান্ত হচ্ছে পাবলিক সাক্ষী সাক্ষ্য না দিলেও বা বৈরী হলেও, সরকারি/অফিসিয়াল সাক্ষীদের যেমন: র্যাব বা পুলিশ সদস্য বস্তুনিষ্ঠ ও সামঞ্জস্যপূর্ণ সাক্ষ্যের ভিত্তিতে সাজা দেয়া সম্পূর্ণ আইনসম্মত। (৮ বি.এল.টি ৩৫২, ১৫ এম.এল.আর (এ.ডি) ৭৭)
অফিসিয়াল সাক্ষীদের জেরা করতে ব্যর্থতা
ডিএডি, এস.আই এবং সার্জেন্ট এই তিন সরকারি সাক্ষীর সাক্ষ্য অত্যন্ত সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। আসামীপক্ষ তাদের বিস্তারিত জেরা করলেও এমন কোনো অসঙ্গতি উদঘাটন করতে পারেনি যা এজাহারের ঘটনাকে মিথ্যা প্রমাণ করে।
টেন্ডার সাক্ষীদের জেরা না করা
রাষ্ট্রপক্ষ যখন কেবল ‘টেন্ডার’ করেছিল, তখন আসামীপক্ষ তাদের জেরা করতে অস্বীকৃতি জানায়। এটি আসামীপক্ষের একটি বড় ভুল। টেন্ডার সাক্ষীদের জেরা করে ঘটনার স্থান, আলামত জব্দ বা সময় সংক্রান্ত অসঙ্গতি বের করার একটি সুযোগ আসামীপক্ষ হাতছাড়া করেছে।
প্রসিকিউশন ও তদন্তকারী কর্মকর্তার ত্রুটি
অপরাধী পার পেয়ে যাওয়ার ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্রসমূহ যদিও এই মামলায় আসামিরা বদলি হয়েছে, তথাপি তদন্ত ও প্রসিকিউশনের কিছু পদ্ধতিগত ত্রুটি এখানে স্পষ্ট, যা একটু বিচক্ষণ বিচারে আসামীকে খালাসের সুযোগ করে দিতে পারত। যেমন ঘটনাস্থলে আলামত সীলগালা না করা। সাক্ষীদের জবানবন্দিতে প্রকাশ পায় যে, আলামত অর্থাৎ ইয়াবা ঘটনাস্থলে কেমিক্যাল পরীক্ষার জন্য আলাদাভাবে সীলগালা বা বিশেষ মার্কিং করা হয়নি। মাদকের মামলায় আলামতের ‘চেইন অব কাস্টডি’ অক্ষুণ্ন রাখা বাধ্যতামূলক। আলামত সীলগালা না করা প্রসিকিউশনের একটি মারাত্মক গাফিলতি।
স্থানীয় ও নিরপেক্ষ সাক্ষী না নেয়া
ঘটনাস্থলটি ছিল কুমারখালী বাসস্ট্যান্ডের মতো একটি জনবহুল এলাকা। সেখানে বহু বাস কাউন্টার, যাত্রী ও ব্যবসায়ী থাকা সত্ত্বেও তদন্তকারী কর্মকর্তা কোনো বাস কাউন্টারের লোক বা স্থানীয় নিরপেক্ষ কাউকে সাক্ষী করেননি। রাসায়নিক পরীক্ষককেও সাক্ষী করা হয়নি। অভিযোগপত্রে যে ৩ জন পাবলিক সাক্ষীকে রাখা হয়েছিল, তারা আদালতে গিয়ে মামলা সমর্থন করেননি। তদন্তকালে সাক্ষীদের স্থায়ী ঠিকানা সঠিকভাবে নিশ্চিত না করা এবং তাদের মানসিকভাবে প্রস্তুত না করার কারণে প্রসিকিউশন কেবল সরকারি সাক্ষীর ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হয়।
অফিসিয়াল বনাম প্রাইভেট সাক্ষীর সাক্ষ্যগত মূল্য
উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত অনুসরণ করে বিজ্ঞ আদালত সঠিকভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন যে ‘সাক্ষীরা সরকারি কর্মচারী বা ইন্টারেস্টেড হলেই তাদের সাক্ষ্য বাতিল করা যায় না, যদি তারা সত্যবাদী হন।’ স্থানীয় সাক্ষীরা ভয়ে বা প্রভাবে পড়ে নিরপেক্ষ নাও থাকতে পারে, কিন্তু অফিশিয়াল সাক্ষীদের বক্তব্য পরস্পর সামঞ্জস্যপূর্ণ হলে তা গ্রহণের আইনি ভিত্তি রয়েছে।
রাসায়নিক পরীক্ষা ও ওজনের সঠিক হিসাব
মাদকের ধরণ ও সাজা নির্ধারণে রাসায়নিক পরীক্ষার রিপোর্ট মুখ্য ভূমিকা পালন করে। জব্দকৃত আলামতে ‘মিথাইল অ্যাম্ফিটামিন’ পাওয়া গেছে এবং প্রতি ট্যাবলেটের গড় ওজন ০.১ গ্রাম ধরে আসামী রাশেদের ক্ষেত্রে ২০০ গ্রাম এবং মালেকের ক্ষেত্রে ১২০ গ্রাম অ্যাম্ফিটামিন হিসাব করে আইন অনুযায়ী কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
শিক্ষণীয় সার সংক্ষেপ:
১। আসামীপক্ষ অফিশিয়াল সাক্ষীদের মধ্যে সময়ের ব্যবধান, ঘটনাস্থলের দূরত্ব ও আলামতের ধরণ নিয়ে জবানবন্দীতে অসঙ্গতি ফুটিয়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছে।।
২। কেবল পাবলিক সাক্ষী বৈরী হয়েছে এই যুক্তির ওপর ভরসা করে অফিশিয়াল সাক্ষীদের জেরা শিথিল করা মোটেও ঠিক হয়নি।
৩। প্রসিকিউশন ও ঘটনাস্থলেই জব্দকৃত আলামত নিরপেক্ষ সাক্ষীদের উপস্থিতিতে সীলগালা করা ও মার্কিং করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
৪। জনবহুল স্থানে অভিযান চালিয়ে স্থানীয় নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের সাক্ষী করা থেকে বিরত থাকাও পেশাদারিত্বের পরিচয় নয়।
৫। ৮ বি.এল.টি ৩৫২ পৃষ্ঠায় উল্লেখিত বিল্লাল মিয়া বনাম রাষ্ট্রের মামলায় মাননীয় হাইকোর্ট বিভাগ এর সিদ্ধান্ত হতে জানা যায় যে, স্থানীয় সাক্ষীরা প্রভাবশালী আসামীদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে চাননা। সেকারনে রাষ্ট্রপক্ষের সরকারী সাক্ষীদের অবিশ্বাস করার কোন কারন নেই বরং ১৫ এম.এল.আর (এ.ডি) ৭৭ পৃষ্ঠায় উল্লেখিত জায়েদুল ইসলাম জাবেদ বনাম রাষ্ট্রের মামলায় দেয়া মাননীয় আপীল বিভাগের সিদ্ধান্ত হতে জানা যায় যে, জব্দতালিকার সাক্ষীরা রাষ্ট্রপক্ষের মামলা সমর্থন করে সাক্ষ্য না দিলেও কেবলমাত্র সরকারী সাক্ষীদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে আসামীকে দোষী সাব্যস্থ করা আইনসম্মত। অনুরূপ মনোভাব ব্যক্ত করা হয়েছে ৫ বি.এল.সি (এ.ডি) ৪১ পৃষ্ঠায় উল্লেখ রাষ্ট্র বনাম ফুলমিয়া মামলায়।
ফৌজদারী বিচারে কেবল সন্দেহের বশে কাউকে সাজা দেওয়া যায় না, আবার পদ্ধতিগত ছোটখাটো ত্রুটির সুযোগ নিয়ে অপরাধীকে পার পেতে দেয়াও ন্যায় বিচারের পরিপন্থী। রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামীপক্ষ উভয় পক্ষই যদি নিজ নিজ পেশাদারিত্ব ও আইনি সচেতনতা বৃদ্ধি করে, তবেই ফৌজদারী বিচারব্যবস্থায় প্রকৃত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
[লেখক: আইনজীবী, সুপ্রিম কোর্ট]

আপনার মতামত লিখুন