মাথার ওপর ভাঙা টিনের চাল। বৃষ্টি এলেই টপটপ করে পানি পড়ে ঘরের ভেতর। সেই পানির মধ্যেই নির্ঘুম রাত কাটে বৃদ্ধা সমেলা খাতুনের (৬৫)। বয়সের ভারে ন্যুব্জ সমেলা নিজে অসুস্থ থাকলেও এই বয়সে তাকে আগলে রাখতে হচ্ছে এতিম নাতনি আর শতবর্ষী বৃদ্ধা শাশুড়িকে। ময়মনসিংহের ত্রিশাল পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কেরানিবাড়ি মোড় এলাকায় এক জরাজীর্ণ ঘরে এভাবেই মানবেতর দিন কাটছে তার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৩০ বছর আগে সমেলা খাতুনের স্বামী সুরুজ আলী মারা যান। স্বামীর মৃত্যুর পর তিন ছেলে ও দুই মেয়েকে নিয়ে চরম অভাবের মধ্যে জীবনযুদ্ধ শুরু করেন তিনি। ১০ বছর আগে বড় ছেলে সবুজ মিয়ার মৃত্যু হলে সমেলার কষ্ট আরও বাড়ে। অন্য ছেলে-মেয়েরা বেঁচে থাকলেও তাদের নিজেদের সংসার চালাতেই হিমশিম খেতে হয়। ফলে বৃদ্ধা মায়ের ভরণপোষণের দায়িত্ব নেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমানে সমেলা খাতুনকে শুধু নিজের নয়, বড় ছেলের রেখে যাওয়া এতিম মেয়ে এবং তার শতবর্ষী শাশুড়ির দেখভালের ভারও বইতে হচ্ছে।
সমেলা খাতুন অভিযোগ করেন, বয়স্ক ভাতা বা বিধবা ভাতার জন্য আবেদন করেও এখন পর্যন্ত কোনো সুফল পাননি। তার সামান্য কিছু ভিটেমাটি থাকায় অনেক সময় সরকারি বা বেসরকারি সহায়তা থেকেও বঞ্চিত হতে হচ্ছে তাকে। অথচ জরাজীর্ণ এই ঘরে বসবাসের কোনো পরিবেশ নেই।
আক্ষেপ করে সমেলা খাতুন বলেন, ‘বৃষ্টি আইলেই চাল দিয়া বুকের ওপর পানি পড়ে, রাইতে ঘুমাইতে পারি না। শরীরটা ভালো থাকে না, ওষুধ কিনার টাকাও নাই। আমি যদি একটা ফ্যামিলি কার্ড আর একটা থাকার ঘর পাইতাম, তবে শেষ বয়সে নাতনিদের নিয়া একটু শান্তিতে থাকতে পারতাম।’
প্রতিবেশীরা জানান, ভিটেমাটি থাকার অজুহাতে এমন একটি অসচ্ছল পরিবারকে সাহায্য থেকে বঞ্চিত করা ঠিক নয়। এতিম নাতনি ও বৃদ্ধা শাশুড়িকে নিয়ে সমেলা যে কষ্ট করছেন, তা অত্যন্ত অমানবিক। তারা দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে সরকারি ঘর ও ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
আপনার মতামত লিখুন