সাড়ে চার মাসের প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতা শেষে অবশেষে নিজ দেশে ফিরছে আফগান নাগরিক হাসমত মোহাম্মদীর মরদেহ। ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসন মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঝিনাইদহ পৌর কেন্দ্রীয় কবরস্থান থেকে মরদেহটি উত্তোলন করে তার লন্ডন প্রবাসী ভাই ইমাল মোহাম্মদীর কাছে হস্তান্তর করেছে।
মরদেহ উত্তোলনের সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান, ঝিনাইদহ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের চিকিৎসক ফারহানা তাসনিম, মহেশপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) টিপু সুলতান এবং নিহতের আইনজীবী মাহমুদুল হাসান মাসুম। এ ছাড়া সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধি ও আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামের সদস্যরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
আফগান নাগরিক হাসমত মোহাম্মদীর পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মরদেহ হস্তান্তরের বিষয়ে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসনকে নির্দেশনা দেয়। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি কবর থেকে উত্তোলন করা হয়।
মরদেহ বুঝে পাওয়ার পর কান্নায় ভেঙে পড়েন নিহতের ভাই ইমাল মোহাম্মদী। তিনি বলেন, ‘অসুস্থ মায়ের শেষ ইচ্ছা ছিল ভাইয়ের নিথর দেহটি অন্তত দেশের মাটিতে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা। সেই ইচ্ছা পূরণের জন্য লাশটি নিয়ে যাচ্ছি। বাংলাদেশ সরকার ও ঝিনাইদহ প্রশাসন আমাদের যেভাবে সহযোগিতা করেছে, তার জন্য আমরা চিরকৃতজ্ঞ।’
নিহতের আইনজীবী মাহমুদুল হাসান মাসুম জানান, সরকারি চূড়ান্ত অনুমোদন ও আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে আজ মরদেহ উত্তোলন সম্ভব হয়েছে। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান বলেন, যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই মরদেহটি স্বজনদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ১৩ এপ্রিল ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার পলিয়ানপুর সীমান্তের ইচ্ছামতী নদী থেকে অজ্ঞাত হিসেবে হাসমত মোহাম্মদীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে তাকে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়। পরে ফেসবুকে তার ছবি ছড়িয়ে পড়লে স্বজনেরা তাকে শনাক্ত করেন এবং মরদেহ ফিরিয়ে নিতে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেন।
আপনার মতামত লিখুন