মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার পঞ্চসার ইউনিয়নে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ‘এআর ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’কে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় প্রতিষ্ঠানটির ফার্মেসি ও এক্স-রে কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারজানা আক্তারের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় মুন্সিগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. সাজেদা বেগমসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযান সূত্রে জানা গেছে, ক্লিনিকটির মাত্র ১০টি শয্যার (বেড) অনুমোদন থাকলেও সেখানে ১৭ জন রোগী ভর্তি পাওয়া যায়। এ ছাড়া কোনো ফার্মাসিস্ট বা লাইসেন্স ছাড়াই ক্লিনিকের ভেতরে ফার্মেসি পরিচালনা করা হচ্ছিল এবং সেখানে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পাওয়া যায়। অন্যদিকে, দক্ষ টেকনিশিয়ান ও রেডিওলজিস্ট ছাড়াই এক্স-রে কার্যক্রম চালানো হচ্ছিল।
ভ্রাম্যমাণ আদালত আরও দেখতে পান, প্রতিষ্ঠানটির ল্যাবরেটরি লাইসেন্স ‘সি’ ক্যাটাগরির হলেও সেখানে ‘বি’ ক্যাটাগরির পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছিল। এ ছাড়া ক্লিনিকের লাইসেন্সের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়া এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনায় চরম অসংগতি ধরা পড়ে।
সিভিল সার্জন ডা. সাজেদা বেগম বলেন, ‘অনুমোদনের চেয়ে অতিরিক্ত রোগী ভর্তি রাখা এবং প্রয়োজনীয় জনবল ছাড়া বিভিন্ন বিভাগ চালানো বড় ধরনের অনিয়ম। জনবল নিয়োগ ও লাইসেন্স নবায়ন না করা পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির ফার্মেসি ও এক্স-রে কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে নতুন করে অতিরিক্ত রোগী ভর্তি না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
এর আগে প্রতিষ্ঠানটিকে সতর্ক করা হলেও তারা শোধরায়নি। এ কারণে ভোক্তা অধিকার ও স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের দায়ে দুটি ধারায় মোট ৮০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
আপনার মতামত লিখুন