রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকায় বেওয়ারিশ বিড়ালকে খাবার দেওয়াকে কেন্দ্র করে কয়েকজন আবাসিক বাসিন্দার ওপর নিরাপত্তারক্ষীদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ উঠেছে।
গত ২৭ আগস্ট দিবাগত রাতে ডিওএইচএস পার্কের নিকটবর্তী এলাকায় এই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। এতে এক নারীসহ অন্তত চারজন আহত হয়েছেন বলে ভুক্তভোগীরা দাবি করেছেন। ওই এলাকা থেকে এর আগে ১২টি কুকুর নিখোঁজ হওয়া নিয়ে চলমান তদন্তের মধ্যেই নতুন করে এই সহিংস ঘটনার সৃষ্টি হলো।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ভুক্তভোগী আবাসিক বাসিন্দা আকিবুর রহমান খান জানান, ওই রাতে তিনি, তার স্ত্রী নীলিমা নদী এবং আরও কয়েকজন মিলে পার্কের বিড়ালদের খাবার দিতে যান।
তাদের দাবি, তারা ডিওএইচএস পরিষদের কোনো নিয়ম না ভেঙে রাস্তার নির্দিষ্ট লেনে খাবার দিচ্ছিলেন। কিন্তু সে সময় পরিষদের প্রায় ২০ জন নিরাপত্তারক্ষী এসে তাদের বাধা দেয় এবং ভিডিও ধারণ করার চেষ্টা করলে তাদের ওপর চড়াও হয়।
আকিবুর রহমান আরো বলেন, "নিরাপত্তারক্ষীরা আমার স্ত্রীকে লাঞ্ছিত করে এবং আমাকে মাটিতে ফেলে মুখ ও পিঠে লাথি মারে। এমনকি বুট দিয়ে পা মাড়িয়ে দেওয়ায় আমার পায়ের আঙুল ফ্র্যাকচার হয়েছে।"
ঘটনার সময় তাদের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ও মিলিটারি পুলিশ (এমপি) ঘটনাস্থলে এলেও নিরাপত্তারক্ষীরা ফোন ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং পরিষদের সভাপতির অনুমতি ছাড়া ফোন দেওয়া যাবে না বলে জানায়। পরবর্তীতে পরদিন বিকেলে মোবাইল ফোনগুলো ফেরত পাওয়া যায়।
ভুক্তভোগী বাসিন্দারা এই ঘটনার জন্য বারিধারা ডিওএইচএস পরিষদের বর্তমান সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল এম আব্দুল হাইয়ের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন।
তাদের দাবি, সভাপতির বিভিন্ন উসকানিমূলক মন্তব্যের কারণেই নিরাপত্তারক্ষীরা সাধারণ বাসিন্দাদের ওপর এভাবে চড়াও হওয়ার সাহস পেয়েছে।
এর আগে গত ২ আগস্ট বারিধারা ডিওএইচএস এলাকা থেকে ১২টি কুকুর নিখোঁজ হওয়া নিয়ে বর্তমানে ডিজিএফআই তদন্ত করছে। সে সময় পরিষদ থেকে কুকুরগুলো সিটি কর্পোরেশন নিয়ে গেছে বলে দাবি করা হলেও ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) লিখিতভাবে জানায় তারা কোনো কুকুর অপসারণ করেনি।
পরিষদের এমন অসত্য বক্তব্যের প্রতিবাদ করা এবং এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশ করায় গণমাধ্যমকর্মী ইকবাল খন্দকারকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে, যার পরিপ্রেক্ষিতে ক্যান্টনমেন্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি নং- ৩৭৭) করা হয়েছে।
প্রাণী কল্যাণ আইন ২০১৯ অনুযায়ী, কোনো মুক্ত বিচরণকারী প্রাণীর ক্ষতি করা বা সরিয়ে ফেলা দণ্ডনীয় অপরাধ। এই হামলার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর প্রাণীপ্রেমী সংগঠন 'পিপল ফর অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার' এবং 'এভরিথিং ফর অ্যানিমেলস' ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
ঘটনার পর পরিষদ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করলেও সিসিটিভি ফুটেজ বা তদন্তের অগ্রগতি না পাওয়ায় সাধারণ বাসিন্দারা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এ বিষয়ে বারিধারা ডিওএইচএস পরিষদের সভাপতির সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে ক্যান্টনমেন্ট থানা পুলিশ জানিয়েছে, তারা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছেন এবং সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকায় বেওয়ারিশ বিড়ালকে খাবার দেওয়াকে কেন্দ্র করে কয়েকজন আবাসিক বাসিন্দার ওপর নিরাপত্তারক্ষীদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ উঠেছে।
গত ২৭ আগস্ট দিবাগত রাতে ডিওএইচএস পার্কের নিকটবর্তী এলাকায় এই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। এতে এক নারীসহ অন্তত চারজন আহত হয়েছেন বলে ভুক্তভোগীরা দাবি করেছেন। ওই এলাকা থেকে এর আগে ১২টি কুকুর নিখোঁজ হওয়া নিয়ে চলমান তদন্তের মধ্যেই নতুন করে এই সহিংস ঘটনার সৃষ্টি হলো।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ভুক্তভোগী আবাসিক বাসিন্দা আকিবুর রহমান খান জানান, ওই রাতে তিনি, তার স্ত্রী নীলিমা নদী এবং আরও কয়েকজন মিলে পার্কের বিড়ালদের খাবার দিতে যান।
তাদের দাবি, তারা ডিওএইচএস পরিষদের কোনো নিয়ম না ভেঙে রাস্তার নির্দিষ্ট লেনে খাবার দিচ্ছিলেন। কিন্তু সে সময় পরিষদের প্রায় ২০ জন নিরাপত্তারক্ষী এসে তাদের বাধা দেয় এবং ভিডিও ধারণ করার চেষ্টা করলে তাদের ওপর চড়াও হয়।
আকিবুর রহমান আরো বলেন, "নিরাপত্তারক্ষীরা আমার স্ত্রীকে লাঞ্ছিত করে এবং আমাকে মাটিতে ফেলে মুখ ও পিঠে লাথি মারে। এমনকি বুট দিয়ে পা মাড়িয়ে দেওয়ায় আমার পায়ের আঙুল ফ্র্যাকচার হয়েছে।"
ঘটনার সময় তাদের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ও মিলিটারি পুলিশ (এমপি) ঘটনাস্থলে এলেও নিরাপত্তারক্ষীরা ফোন ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং পরিষদের সভাপতির অনুমতি ছাড়া ফোন দেওয়া যাবে না বলে জানায়। পরবর্তীতে পরদিন বিকেলে মোবাইল ফোনগুলো ফেরত পাওয়া যায়।
ভুক্তভোগী বাসিন্দারা এই ঘটনার জন্য বারিধারা ডিওএইচএস পরিষদের বর্তমান সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল এম আব্দুল হাইয়ের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন।
তাদের দাবি, সভাপতির বিভিন্ন উসকানিমূলক মন্তব্যের কারণেই নিরাপত্তারক্ষীরা সাধারণ বাসিন্দাদের ওপর এভাবে চড়াও হওয়ার সাহস পেয়েছে।
এর আগে গত ২ আগস্ট বারিধারা ডিওএইচএস এলাকা থেকে ১২টি কুকুর নিখোঁজ হওয়া নিয়ে বর্তমানে ডিজিএফআই তদন্ত করছে। সে সময় পরিষদ থেকে কুকুরগুলো সিটি কর্পোরেশন নিয়ে গেছে বলে দাবি করা হলেও ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) লিখিতভাবে জানায় তারা কোনো কুকুর অপসারণ করেনি।
পরিষদের এমন অসত্য বক্তব্যের প্রতিবাদ করা এবং এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশ করায় গণমাধ্যমকর্মী ইকবাল খন্দকারকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে, যার পরিপ্রেক্ষিতে ক্যান্টনমেন্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি নং- ৩৭৭) করা হয়েছে।
প্রাণী কল্যাণ আইন ২০১৯ অনুযায়ী, কোনো মুক্ত বিচরণকারী প্রাণীর ক্ষতি করা বা সরিয়ে ফেলা দণ্ডনীয় অপরাধ। এই হামলার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর প্রাণীপ্রেমী সংগঠন 'পিপল ফর অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার' এবং 'এভরিথিং ফর অ্যানিমেলস' ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
ঘটনার পর পরিষদ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করলেও সিসিটিভি ফুটেজ বা তদন্তের অগ্রগতি না পাওয়ায় সাধারণ বাসিন্দারা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এ বিষয়ে বারিধারা ডিওএইচএস পরিষদের সভাপতির সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে ক্যান্টনমেন্ট থানা পুলিশ জানিয়েছে, তারা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছেন এবং সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন