মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে জমিজমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে আপন বড় ভাইয়ের পা কেটে পঙ্গু করে দেওয়ার এক বছর পর আরেক ভাইয়ের ছেলে ও প্রবাসী ইলিয়াস মোল্লাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নিহতের স্ত্রী লিপি বেগম এই মর্মান্তিক অভিযোগ উত্থাপন করেন। এ সময় হামলায় পঙ্গু হয়ে যাওয়া ইলিয়াসের চাচা ইসহাক মোল্লাসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে লিপি বেগম জানান, সিরাজদিখান থানার কোলা ইউনিয়নের পূর্ব কোলাগ্রামের বাসিন্দা সিদ্দিক মোল্লার সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। অভিযুক্ত সিদ্দিক মোল্লা জুলাই আন্দোলন-সংক্রান্ত এক মামলার আসামি হয়ে কারাগারে গেলেও পরবর্তীতে জামিনে মুক্ত হয়ে আসেন। এর জের ধরে ২০২৫ সালের ৮ মার্চ সিদ্দিক ও তার পরিবারের সদস্যরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ইসহাক মোল্লার ওপর নৃশংস হামলা চালায়। ওই সময় ইসহাকের ডান পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে তাকে চিরতরে পঙ্গু করে দেওয়া হয়। সে সময় থানায় মামলা দায়ের করা হলেও মূল আসামিদের পুলিশ গ্রেপ্তার করেনি এবং অর্থের বিনিময়ে চার্জশিট থেকে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে লিপি বেগম বলেন, ওই হামলার প্রায় এক বছর পর গত ১৯ জুন একই বিরোধের শিকার হন মালয়েশিয়া প্রবাসী ইলিয়াস মোল্লা। ঘটনার দিন ইলিয়াস তার পঙ্গু চাচা ইসহাক মোল্লাকে হুইলচেয়ারে করে রাস্তায় নিয়ে যাওয়ার সময় সিদ্দিক মোল্লা, তার স্ত্রী রওশন আরা এবং দুই ছেলে বিপ্লব ও বিদ্যুৎ মোল্লা অতর্কিত হামলা চালান। রামদার এলোপাতাড়ি কোপে ইলিয়াসের হাতের রগ ও শরীরের বিভিন্ন অংশ ক্ষতবিক্ষত হয় এবং হুইলচেয়ারে থাকা ইসহাকের ডান হাতের দুটি আঙুল কেটে ফেলা হয়। স্থানীয়রা এগিয়ে আসতে চাইলে হামলাকারীরা অস্ত্র উঁচিয়ে তাদের ভয়ভীতি দেখান। পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ জুন ইলিয়াসের মৃত্যু হয়।
নিহতের পরিবার আরও অভিযোগ করে জানায়, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সিরাজদিখান থানায় মামলা হওয়ার পর চার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হলেও রওশন আরা জামিনে মুক্ত হয়ে বর্তমানে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য পরিবারটিকে ক্রমাগত হুমকি দিচ্ছেন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এর আগে গৃহকর্মী হত্যা এবং আসিফ নামের আরেক যুবককে হত্যার মতো গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলন থেকে অবিলম্বে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে নিরপেক্ষ চার্জশিট দাখিল এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে জমিজমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে আপন বড় ভাইয়ের পা কেটে পঙ্গু করে দেওয়ার এক বছর পর আরেক ভাইয়ের ছেলে ও প্রবাসী ইলিয়াস মোল্লাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নিহতের স্ত্রী লিপি বেগম এই মর্মান্তিক অভিযোগ উত্থাপন করেন। এ সময় হামলায় পঙ্গু হয়ে যাওয়া ইলিয়াসের চাচা ইসহাক মোল্লাসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে লিপি বেগম জানান, সিরাজদিখান থানার কোলা ইউনিয়নের পূর্ব কোলাগ্রামের বাসিন্দা সিদ্দিক মোল্লার সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। অভিযুক্ত সিদ্দিক মোল্লা জুলাই আন্দোলন-সংক্রান্ত এক মামলার আসামি হয়ে কারাগারে গেলেও পরবর্তীতে জামিনে মুক্ত হয়ে আসেন। এর জের ধরে ২০২৫ সালের ৮ মার্চ সিদ্দিক ও তার পরিবারের সদস্যরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ইসহাক মোল্লার ওপর নৃশংস হামলা চালায়। ওই সময় ইসহাকের ডান পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে তাকে চিরতরে পঙ্গু করে দেওয়া হয়। সে সময় থানায় মামলা দায়ের করা হলেও মূল আসামিদের পুলিশ গ্রেপ্তার করেনি এবং অর্থের বিনিময়ে চার্জশিট থেকে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে লিপি বেগম বলেন, ওই হামলার প্রায় এক বছর পর গত ১৯ জুন একই বিরোধের শিকার হন মালয়েশিয়া প্রবাসী ইলিয়াস মোল্লা। ঘটনার দিন ইলিয়াস তার পঙ্গু চাচা ইসহাক মোল্লাকে হুইলচেয়ারে করে রাস্তায় নিয়ে যাওয়ার সময় সিদ্দিক মোল্লা, তার স্ত্রী রওশন আরা এবং দুই ছেলে বিপ্লব ও বিদ্যুৎ মোল্লা অতর্কিত হামলা চালান। রামদার এলোপাতাড়ি কোপে ইলিয়াসের হাতের রগ ও শরীরের বিভিন্ন অংশ ক্ষতবিক্ষত হয় এবং হুইলচেয়ারে থাকা ইসহাকের ডান হাতের দুটি আঙুল কেটে ফেলা হয়। স্থানীয়রা এগিয়ে আসতে চাইলে হামলাকারীরা অস্ত্র উঁচিয়ে তাদের ভয়ভীতি দেখান। পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ জুন ইলিয়াসের মৃত্যু হয়।
নিহতের পরিবার আরও অভিযোগ করে জানায়, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সিরাজদিখান থানায় মামলা হওয়ার পর চার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হলেও রওশন আরা জামিনে মুক্ত হয়ে বর্তমানে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য পরিবারটিকে ক্রমাগত হুমকি দিচ্ছেন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এর আগে গৃহকর্মী হত্যা এবং আসিফ নামের আরেক যুবককে হত্যার মতো গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলন থেকে অবিলম্বে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে নিরপেক্ষ চার্জশিট দাখিল এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন