সংবাদ

ঘুষ বাণিজ্য ও পলায়ন

কঠোর পদক্ষেপে চাকরি হারালেন পুলিশের তিন কর্মকর্তা


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২৫ এএম

কঠোর পদক্ষেপে চাকরি হারালেন পুলিশের তিন কর্মকর্তা
ছবি : সংগৃহীত

পুলিশ বাহিনীতে শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এবং দুর্নীতির দায়ে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে সরকার। ঘুষ নিয়ে পুলিশে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করা, দীর্ঘদিন অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা এবং কর্তৃপক্ষের চোখ ফাঁকি দিয়ে বিদেশে পাড়ি জমানোর গুরুতর অভিযোগে পুলিশের তিন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে অপসারণ ও বরখাস্ত করা হয়েছে।

বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-২ শাখা থেকে জারি করা পৃথক তিনটি প্রজ্ঞাপনে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কথা জানানো হয়। মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী প্রজ্ঞাপনগুলোতে সই করেছেন।

অভিযুক্তদের মধ্যে নেত্রকোনা ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও রাজশাহী মহানগর পুলিশের সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ রোকনুজ্জামানকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, তিনি আরএমপিতে কর্মরত থাকাকালীন জনৈক কামরুজ্জামানকে সাব-ইন্সপেক্টর পদে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার শর্তে ১৭ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। এর অংশ হিসেবে বিভিন্ন ব্যাংকিং ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে তিনি ধাপে ধাপে মোট সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন। পরবর্তীতে চাকরি না হওয়ায় ভুক্তভোগী টাকা ফেরত চাইলে তিনি আংশিক অর্থ পরিশোধ করেন। তদন্তে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হয় এবং পিএসসির মতামতের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে তাকে এই গুরুদণ্ড দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, পুলিশ স্টাফ কলেজের এএসপি মো. হাবিবুল্লাহ দালাল এবং বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. রাশেদুল ইসলামকে কর্মস্থলে পলায়ন ও দীর্ঘ অনুপস্থিতির অভিযোগে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

সরকারি আদেশ অনুযায়ী, হাবিবুল্লাহ দালাল ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে ছুটি শেষ করে কর্মস্থলে যোগ না দিয়ে কর্তৃপক্ষের বিনা অনুমতিতে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী স্ত্রীর কাছে চলে যান। টানা অনুপস্থিতির কারণে বিভাগীয় তদন্তে তার বিরুদ্ধে পলায়ন ও অসদাচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হয়।

একইভাবে, মো. রাশেদুল ইসলাম ২০২৫ সালের মার্চ মাস থেকে বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। তার স্থায়ী ঠিকানায় নোটিশ পাঠানোসহ বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি। পরবর্তীতে দুই কর্মকর্তার ক্ষেত্রেই বিভাগীয় মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এবং পিএসসির অনুমোদন সাপেক্ষে পলায়নের তারিখ থেকে তাদের বরখাস্তের আদেশ কার্যকর করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


কঠোর পদক্ষেপে চাকরি হারালেন পুলিশের তিন কর্মকর্তা

প্রকাশের তারিখ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

পুলিশ বাহিনীতে শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এবং দুর্নীতির দায়ে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে সরকার। ঘুষ নিয়ে পুলিশে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করা, দীর্ঘদিন অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা এবং কর্তৃপক্ষের চোখ ফাঁকি দিয়ে বিদেশে পাড়ি জমানোর গুরুতর অভিযোগে পুলিশের তিন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে অপসারণ ও বরখাস্ত করা হয়েছে।

বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-২ শাখা থেকে জারি করা পৃথক তিনটি প্রজ্ঞাপনে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কথা জানানো হয়। মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী প্রজ্ঞাপনগুলোতে সই করেছেন।

অভিযুক্তদের মধ্যে নেত্রকোনা ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও রাজশাহী মহানগর পুলিশের সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ রোকনুজ্জামানকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, তিনি আরএমপিতে কর্মরত থাকাকালীন জনৈক কামরুজ্জামানকে সাব-ইন্সপেক্টর পদে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার শর্তে ১৭ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। এর অংশ হিসেবে বিভিন্ন ব্যাংকিং ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে তিনি ধাপে ধাপে মোট সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন। পরবর্তীতে চাকরি না হওয়ায় ভুক্তভোগী টাকা ফেরত চাইলে তিনি আংশিক অর্থ পরিশোধ করেন। তদন্তে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হয় এবং পিএসসির মতামতের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে তাকে এই গুরুদণ্ড দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, পুলিশ স্টাফ কলেজের এএসপি মো. হাবিবুল্লাহ দালাল এবং বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. রাশেদুল ইসলামকে কর্মস্থলে পলায়ন ও দীর্ঘ অনুপস্থিতির অভিযোগে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

সরকারি আদেশ অনুযায়ী, হাবিবুল্লাহ দালাল ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে ছুটি শেষ করে কর্মস্থলে যোগ না দিয়ে কর্তৃপক্ষের বিনা অনুমতিতে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী স্ত্রীর কাছে চলে যান। টানা অনুপস্থিতির কারণে বিভাগীয় তদন্তে তার বিরুদ্ধে পলায়ন ও অসদাচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হয়।

একইভাবে, মো. রাশেদুল ইসলাম ২০২৫ সালের মার্চ মাস থেকে বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। তার স্থায়ী ঠিকানায় নোটিশ পাঠানোসহ বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি। পরবর্তীতে দুই কর্মকর্তার ক্ষেত্রেই বিভাগীয় মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এবং পিএসসির অনুমোদন সাপেক্ষে পলায়নের তারিখ থেকে তাদের বরখাস্তের আদেশ কার্যকর করা হয়েছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত