ওজন কমানোর কথা উঠলেই অনেকের প্রথম পছন্দ হয় ব্যায়াম। নিয়মিত হাঁটা, দৌড়ানো কিংবা জিমে শরীরচর্চা করলে দ্রুত ওজন কমবে-এমন ধারণাও প্রচলিত। তবে বাস্তবে শুধু ব্যায়ামের ওপর নির্ভর করে কাঙ্ক্ষিত ওজন কমানো সব সময় সম্ভব হয় না। ওজন নিয়ন্ত্রণে খাবার, ঘুম, মানসিক চাপ ও দৈনন্দিন জীবনযাপনের অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ওজন কমার ক্ষেত্রে
দীর্ঘমেয়াদে শরীর যত ক্যালরি ব্যয় করে, তার তুলনায় কম ক্যালরি গ্রহণ করা
গুরুত্বপূর্ণ। শরীরচর্চার মাধ্যমে অতিরিক্ত ক্যালরি খরচ হয় ঠিকই, কিন্তু ব্যায়ামের
পর ক্ষুধা বেড়ে গেলে বেশি খাবার খেয়ে ফেলার সম্ভাবনাও থাকে। এতে শরীরচর্চার
মাধ্যমে ব্যয় হওয়া ক্যালরির একটি বড় অংশ আবার পূরণ হয়ে যেতে পারে।
তাই শুধু ব্যায়াম করলেই
ওজন কমবে-এমন ধারণা সঠিক নয়। খাদ্যাভ্যাসের দিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
ওজন নিয়ন্ত্রণে খাবারের
ধরন ও পরিমাণ দুটিই বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। অতিরিক্ত চিনি, মিষ্টি পানীয়, ভাজাপোড়া
ও উচ্চ ক্যালরিযুক্ত খাবার কমিয়ে শাকসবজি, ফল, প্রোটিন ও খাদ্যআঁশসমৃদ্ধ খাবার
খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।
তবে ওজন কমানোর জন্য না
খেয়ে থাকা কিংবা হঠাৎ করে
খাবারের পরিমাণ খুব কমিয়ে দেওয়া স্বাস্থ্যকর পদ্ধতি নয়। এতে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি
থেকে বঞ্চিত হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এমন খাদ্যাভ্যাস স্বাস্থ্যেও নেতিবাচক প্রভাব
ফেলতে পারে।
ওজন কমানো ছাড়াও নিয়মিত
শরীরচর্চার নানা উপকার রয়েছে। এটি পেশি ও শারীরিক সক্ষমতা বাড়াতে, দৈনন্দিন কাজের
কর্মক্ষমতা ধরে রাখতে এবং হৃদ্স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করতে পারে। ওজন কমানোর
পর তা ধরে রাখার ক্ষেত্রেও নিয়মিত শারীরিক কর্মকাণ্ড গুরুত্বপূর্ণ।
হাঁটা, দৌড়ানো,
সাইক্লিং, সাঁতার কিংবা নিজের সক্ষমতা অনুযায়ী অন্য কোনো ব্যায়াম করা যেতে পারে।
এর পাশাপাশি সপ্তাহে কয়েক দিন শক্তিবর্ধক ব্যায়াম করলে পেশির শক্তি ও সক্ষমতা
বাড়াতে সহায়তা করতে পারে।
ওজন নিয়ন্ত্রণের
ক্ষেত্রে খাবার ও ব্যায়ামের পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের
বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ঘুমের ঘাটতি বা অতিরিক্ত মানসিক চাপ ক্ষুধা ও
খাবারের অভ্যাসে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই ওজন কমানোর পরিকল্পনায় নিয়মিত ঘুম এবং
মানসিক সুস্থতার বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
দ্রুত কয়েক কেজি ওজন
কমানোর চেয়ে ধীরে ধীরে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলা বেশি কার্যকর। পরিমিত ও
পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ, নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং দৈনন্দিন জীবনে সক্রিয়
থাকার অভ্যাস-সবকিছুর সমন্বয়েই ওজন নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়।
ব্যায়াম ওজন কমানোর পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও এটিই একমাত্র উপায় নয়। বয়স, শারীরিক সক্ষমতা ও স্বাস্থ্যের অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে খাদ্যাভ্যাস ও শরীরচর্চার পরিকল্পনা করাই সবচেয়ে ভালো।

মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ওজন কমানোর কথা উঠলেই অনেকের প্রথম পছন্দ হয় ব্যায়াম। নিয়মিত হাঁটা, দৌড়ানো কিংবা জিমে শরীরচর্চা করলে দ্রুত ওজন কমবে-এমন ধারণাও প্রচলিত। তবে বাস্তবে শুধু ব্যায়ামের ওপর নির্ভর করে কাঙ্ক্ষিত ওজন কমানো সব সময় সম্ভব হয় না। ওজন নিয়ন্ত্রণে খাবার, ঘুম, মানসিক চাপ ও দৈনন্দিন জীবনযাপনের অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ওজন কমার ক্ষেত্রে
দীর্ঘমেয়াদে শরীর যত ক্যালরি ব্যয় করে, তার তুলনায় কম ক্যালরি গ্রহণ করা
গুরুত্বপূর্ণ। শরীরচর্চার মাধ্যমে অতিরিক্ত ক্যালরি খরচ হয় ঠিকই, কিন্তু ব্যায়ামের
পর ক্ষুধা বেড়ে গেলে বেশি খাবার খেয়ে ফেলার সম্ভাবনাও থাকে। এতে শরীরচর্চার
মাধ্যমে ব্যয় হওয়া ক্যালরির একটি বড় অংশ আবার পূরণ হয়ে যেতে পারে।
তাই শুধু ব্যায়াম করলেই
ওজন কমবে-এমন ধারণা সঠিক নয়। খাদ্যাভ্যাসের দিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
ওজন নিয়ন্ত্রণে খাবারের
ধরন ও পরিমাণ দুটিই বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। অতিরিক্ত চিনি, মিষ্টি পানীয়, ভাজাপোড়া
ও উচ্চ ক্যালরিযুক্ত খাবার কমিয়ে শাকসবজি, ফল, প্রোটিন ও খাদ্যআঁশসমৃদ্ধ খাবার
খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।
তবে ওজন কমানোর জন্য না
খেয়ে থাকা কিংবা হঠাৎ করে
খাবারের পরিমাণ খুব কমিয়ে দেওয়া স্বাস্থ্যকর পদ্ধতি নয়। এতে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি
থেকে বঞ্চিত হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এমন খাদ্যাভ্যাস স্বাস্থ্যেও নেতিবাচক প্রভাব
ফেলতে পারে।
ওজন কমানো ছাড়াও নিয়মিত
শরীরচর্চার নানা উপকার রয়েছে। এটি পেশি ও শারীরিক সক্ষমতা বাড়াতে, দৈনন্দিন কাজের
কর্মক্ষমতা ধরে রাখতে এবং হৃদ্স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করতে পারে। ওজন কমানোর
পর তা ধরে রাখার ক্ষেত্রেও নিয়মিত শারীরিক কর্মকাণ্ড গুরুত্বপূর্ণ।
হাঁটা, দৌড়ানো,
সাইক্লিং, সাঁতার কিংবা নিজের সক্ষমতা অনুযায়ী অন্য কোনো ব্যায়াম করা যেতে পারে।
এর পাশাপাশি সপ্তাহে কয়েক দিন শক্তিবর্ধক ব্যায়াম করলে পেশির শক্তি ও সক্ষমতা
বাড়াতে সহায়তা করতে পারে।
ওজন নিয়ন্ত্রণের
ক্ষেত্রে খাবার ও ব্যায়ামের পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের
বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ঘুমের ঘাটতি বা অতিরিক্ত মানসিক চাপ ক্ষুধা ও
খাবারের অভ্যাসে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই ওজন কমানোর পরিকল্পনায় নিয়মিত ঘুম এবং
মানসিক সুস্থতার বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
দ্রুত কয়েক কেজি ওজন
কমানোর চেয়ে ধীরে ধীরে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলা বেশি কার্যকর। পরিমিত ও
পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ, নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং দৈনন্দিন জীবনে সক্রিয়
থাকার অভ্যাস-সবকিছুর সমন্বয়েই ওজন নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়।
ব্যায়াম ওজন কমানোর পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও এটিই একমাত্র উপায় নয়। বয়স, শারীরিক সক্ষমতা ও স্বাস্থ্যের অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে খাদ্যাভ্যাস ও শরীরচর্চার পরিকল্পনা করাই সবচেয়ে ভালো।

আপনার মতামত লিখুন