সড়কজুড়ে পিচ-খোয়া উঠে তৈরি হয়েছে শত শত ছোট-বড় গর্ত। কোথাও গর্তগুলো এতই গভীর যে মনে হয় কোনো ডোবা। চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার জনগুরুত্বপূর্ণ দরবেশহাট ডিসি সড়কের এখন এই করুণ দশা। দীর্ঘদিনের সংস্কারহীন এই সড়কে চলতে গিয়ে প্রতিদিন সীমাহীন ভোগান্তি পোহাচ্ছেন শিক্ষার্থী, রোগীসহ হাজারো মানুষ।
সরেজমিনে দেখা যায়, দরবেশহাট তাজমহল কমিউনিটি সেন্টার এলাকায় সড়কের কার্পেটিং উঠে গিয়ে বিশাল খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়ভাবে ইট ও কংক্রিট দিয়ে গর্তগুলো ভরাট করার চেষ্টা করা হলেও তা হিতে বিপরীত হয়েছে। উঁচু-নিচু খোয়া আর ইটের কারণে যাতায়াত এখন আরও বিপজ্জনক হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বৃষ্টি হলে এসব গর্তে পানি জমে মরণফাঁদে পরিণত হয়। প্রতিদিন সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেল ও রিকশার মতো ছোট যানবাহনগুলো গর্ত এড়াতে গিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী নুরুল আলম আক্ষেপ করে বলেন, 'এই সড়ক দিয়ে দিন-রাত শত শত মানুষ আর ভারী ট্রাক চলে। আশপাশের ইটভাটার মাটি ও ইটবাহী ট্রাকগুলো ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি লোড নেওয়ায় সড়কের এই দশা। এখন প্রতিদিন দুর্ঘটনার আতঙ্ক নিয়ে আমাদের চলতে হচ্ছে।'
সড়কটির বেহাল দশার কারণে সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছেন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। গৌড়স্থান উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক কবি সোলাইমান বলেন, 'এমচরহাট বাজার থেকে হাসনা ভিটা পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পথ এখন খানাখন্দে ভরা। মাস্টারপাড়া টার্নিং কিংবা নয়াবাজার এলাকার রাস্তা এতই খারাপ যে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানো দায় হয়ে পড়েছে।'
কেন সংস্কার হচ্ছে না–এমন প্রশ্নে লোহাগাড়া উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাহাদ বিন মাহমুদ জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সড়কটি সংস্কারের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছিল। কিন্তু নির্মাণসামগ্রীর দাম বেড়ে যাওয়ায় ঠিকাদার কাজ করতে অপারগতা জানান। ফলে ওই টেন্ডার বাতিল করতে হয়। তবে নতুন আশার কথা শুনিয়ে তিনি বলেন, '২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য আমরা দরবেশহাট থেকে এমচরহাট পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার সড়ক মেরামতের নতুন প্রাক্কলন তৈরি করেছি। আগামী মাসে অনুমোদন পেলে এটি পুনরায় টেন্ডার প্রক্রিয়ায় যাবে।'

মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সড়কজুড়ে পিচ-খোয়া উঠে তৈরি হয়েছে শত শত ছোট-বড় গর্ত। কোথাও গর্তগুলো এতই গভীর যে মনে হয় কোনো ডোবা। চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার জনগুরুত্বপূর্ণ দরবেশহাট ডিসি সড়কের এখন এই করুণ দশা। দীর্ঘদিনের সংস্কারহীন এই সড়কে চলতে গিয়ে প্রতিদিন সীমাহীন ভোগান্তি পোহাচ্ছেন শিক্ষার্থী, রোগীসহ হাজারো মানুষ।
সরেজমিনে দেখা যায়, দরবেশহাট তাজমহল কমিউনিটি সেন্টার এলাকায় সড়কের কার্পেটিং উঠে গিয়ে বিশাল খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়ভাবে ইট ও কংক্রিট দিয়ে গর্তগুলো ভরাট করার চেষ্টা করা হলেও তা হিতে বিপরীত হয়েছে। উঁচু-নিচু খোয়া আর ইটের কারণে যাতায়াত এখন আরও বিপজ্জনক হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বৃষ্টি হলে এসব গর্তে পানি জমে মরণফাঁদে পরিণত হয়। প্রতিদিন সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেল ও রিকশার মতো ছোট যানবাহনগুলো গর্ত এড়াতে গিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী নুরুল আলম আক্ষেপ করে বলেন, 'এই সড়ক দিয়ে দিন-রাত শত শত মানুষ আর ভারী ট্রাক চলে। আশপাশের ইটভাটার মাটি ও ইটবাহী ট্রাকগুলো ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি লোড নেওয়ায় সড়কের এই দশা। এখন প্রতিদিন দুর্ঘটনার আতঙ্ক নিয়ে আমাদের চলতে হচ্ছে।'
সড়কটির বেহাল দশার কারণে সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছেন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। গৌড়স্থান উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক কবি সোলাইমান বলেন, 'এমচরহাট বাজার থেকে হাসনা ভিটা পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পথ এখন খানাখন্দে ভরা। মাস্টারপাড়া টার্নিং কিংবা নয়াবাজার এলাকার রাস্তা এতই খারাপ যে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানো দায় হয়ে পড়েছে।'
কেন সংস্কার হচ্ছে না–এমন প্রশ্নে লোহাগাড়া উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাহাদ বিন মাহমুদ জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সড়কটি সংস্কারের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছিল। কিন্তু নির্মাণসামগ্রীর দাম বেড়ে যাওয়ায় ঠিকাদার কাজ করতে অপারগতা জানান। ফলে ওই টেন্ডার বাতিল করতে হয়। তবে নতুন আশার কথা শুনিয়ে তিনি বলেন, '২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য আমরা দরবেশহাট থেকে এমচরহাট পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার সড়ক মেরামতের নতুন প্রাক্কলন তৈরি করেছি। আগামী মাসে অনুমোদন পেলে এটি পুনরায় টেন্ডার প্রক্রিয়ায় যাবে।'

আপনার মতামত লিখুন