বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনে এই সময়ের পরিচিত গীতিকার ও সুরকার রোহান রাজ। নিজের লেখা ও সুর করা গান অন্য শিল্পীদের কণ্ঠে তুলে দিতে পারাতেই যেন সবচেয়ে বেশি আনন্দ খুঁজে পান তিনি। মাঝে মাঝে নিজেও গান করেন। তবে গীতিকার ও সুরকার হিসেবেই নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করতে চান এই সংগীতস্রষ্টা।
ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের
পাইথল গ্রামের সন্তান রোহান রাজের লেখা ও সুর করা সুকুমার বাউলের কণ্ঠে ‘মানুষ বড়ই
স্বার্থপর’ গানটি ২০২২ সালে ইউটিউবে প্রকাশের পর ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। এখন পর্যন্ত
গানটি ১৪ কোটিরও বেশি ভিউ অর্জন করেছে। গানটির জনপ্রিয়তার সঙ্গে সুকুমার বাউল আলোচনায়
এলেও এর নেপথ্যের স্রষ্টা রোহান রাজ অনেকটাই ছিলেন আড়ালে।
‘মানুষ বড়ই স্বার্থপর’
ছাড়াও রোহান রাজের লেখা ও সুর করা বেশ কিছু গান শ্রোতাদের কাছে জনপ্রিয় হয়েছে। এর মধ্যে
রয়েছে—‘আমার সোনার ময়না পাখি’, ‘আমার মায়ায় পইড়া যাইবা’, ‘তোমায় ছেড়ে’, ‘এমন একটা রাত
দাও আল্লাহ’, ‘মনে মনে মিলে গেছে মন’, ‘বাড়ির পাশে বন্ধুর বাড়ি’, ‘বন্ধুরে তোর প্রেমানলে’
ও ‘মনে বড় জ্বালা’সহ আরও বেশ কিছু গান।
এখন পর্যন্ত সাত
শতাধিক গান করেছেন রোহান রাজ। তার লেখা ও সুর করা গানে কণ্ঠ দিয়েছেন দেশের জনপ্রিয়
শিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন, মনির খান, আসিফ আকবর, ইমরান, এফ এ সুমন, কাজী শুভ, মাহতিম,
সামজ’সহ অনেকে। নিজে গান গাইতে পারলেও গান লেখা ও সুর সৃষ্টিতেই বেশি মনোযোগী তিনি।
ময়মনসিংহের সঞ্চিতা
পালিতের কাছে এক বছর গানের তালিম নিয়েছেন রোহান রাজ। পাশাপাশি বাণিজ্যিক সংগীতের বিষয়ে
পলাশ ফারুকীর কাছ থেকেও তালিম নিয়েছেন তিনি।
গানের প্রতি তার
আগ্রহ তৈরি হয় বড় ভাই রফিককে গান শুনতে দেখে। পরবর্তী সময়ে ঢাকায় এসে ব্যবসা শুরু করেছিলেন।
তবে ব্যবসায় ক্ষতির মুখে পড়ার পর ধীরে ধীরে গানের জগতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার পথে
এগিয়ে যান তিনি।
বর্তমানে রোহান
রাজ এমন এক অবস্থানে পৌঁছেছেন, যেখানে বিশেষ করে এই প্রজন্মের অনেক শিল্পী তার লেখা
ও সুরের গান গাওয়ার স্বপ্ন দেখেন। তিনিও চেষ্টা করেন, যে গানের জন্য যে শিল্পীর কণ্ঠ
সবচেয়ে উপযুক্ত, সেই শিল্পীর কণ্ঠেই গানটি তুলে দিতে।
নিজের সংগীতভাবনা
ও ভবিষ্যৎ স্বপ্ন প্রসঙ্গে রোহান রাজ বলেন, ‘অনেক বড় স্বপ্ন যে আমার তা নয়। গানটা আমি
নিয়মিত করে যেতে চাই। আমি অনুভব করতে পারি যে মানুষ আমার লেখা-সুর করা গান শোনেন। আমার
গানের প্রতি সবার ভালোবাসাও আছে। আমি আমার নিজস্ব ধারাতেই বাংলা গানকে আরও সমৃদ্ধ করতে
চাই। আমার নিজস্ব একটা সিগনেচার তৈরি করে রেখে যেতে চাই বাংলা গানে।’
রোহান রাজের পুরো
নাম হেদায়তুল ইসলাম রাজু। অডিওর যুগে তার কণ্ঠে প্রকাশিত প্রথম অ্যালবাম ছিল ‘বন্ধু
তুমি কেমন আছো’। তার বাবা লোকমান শেখ ও মা রাহিমা শেখ। স্ত্রী রোজিনা হাওলাদার একজন
শিক্ষিকা। তিন মেয়ে পূর্ণতা, নূরানা ও রুফিয়াতকে ঘিরেই তার স্বপ্ন।

মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনে এই সময়ের পরিচিত গীতিকার ও সুরকার রোহান রাজ। নিজের লেখা ও সুর করা গান অন্য শিল্পীদের কণ্ঠে তুলে দিতে পারাতেই যেন সবচেয়ে বেশি আনন্দ খুঁজে পান তিনি। মাঝে মাঝে নিজেও গান করেন। তবে গীতিকার ও সুরকার হিসেবেই নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করতে চান এই সংগীতস্রষ্টা।
ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের
পাইথল গ্রামের সন্তান রোহান রাজের লেখা ও সুর করা সুকুমার বাউলের কণ্ঠে ‘মানুষ বড়ই
স্বার্থপর’ গানটি ২০২২ সালে ইউটিউবে প্রকাশের পর ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। এখন পর্যন্ত
গানটি ১৪ কোটিরও বেশি ভিউ অর্জন করেছে। গানটির জনপ্রিয়তার সঙ্গে সুকুমার বাউল আলোচনায়
এলেও এর নেপথ্যের স্রষ্টা রোহান রাজ অনেকটাই ছিলেন আড়ালে।
‘মানুষ বড়ই স্বার্থপর’
ছাড়াও রোহান রাজের লেখা ও সুর করা বেশ কিছু গান শ্রোতাদের কাছে জনপ্রিয় হয়েছে। এর মধ্যে
রয়েছে—‘আমার সোনার ময়না পাখি’, ‘আমার মায়ায় পইড়া যাইবা’, ‘তোমায় ছেড়ে’, ‘এমন একটা রাত
দাও আল্লাহ’, ‘মনে মনে মিলে গেছে মন’, ‘বাড়ির পাশে বন্ধুর বাড়ি’, ‘বন্ধুরে তোর প্রেমানলে’
ও ‘মনে বড় জ্বালা’সহ আরও বেশ কিছু গান।
এখন পর্যন্ত সাত
শতাধিক গান করেছেন রোহান রাজ। তার লেখা ও সুর করা গানে কণ্ঠ দিয়েছেন দেশের জনপ্রিয়
শিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন, মনির খান, আসিফ আকবর, ইমরান, এফ এ সুমন, কাজী শুভ, মাহতিম,
সামজ’সহ অনেকে। নিজে গান গাইতে পারলেও গান লেখা ও সুর সৃষ্টিতেই বেশি মনোযোগী তিনি।
ময়মনসিংহের সঞ্চিতা
পালিতের কাছে এক বছর গানের তালিম নিয়েছেন রোহান রাজ। পাশাপাশি বাণিজ্যিক সংগীতের বিষয়ে
পলাশ ফারুকীর কাছ থেকেও তালিম নিয়েছেন তিনি।
গানের প্রতি তার
আগ্রহ তৈরি হয় বড় ভাই রফিককে গান শুনতে দেখে। পরবর্তী সময়ে ঢাকায় এসে ব্যবসা শুরু করেছিলেন।
তবে ব্যবসায় ক্ষতির মুখে পড়ার পর ধীরে ধীরে গানের জগতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার পথে
এগিয়ে যান তিনি।
বর্তমানে রোহান
রাজ এমন এক অবস্থানে পৌঁছেছেন, যেখানে বিশেষ করে এই প্রজন্মের অনেক শিল্পী তার লেখা
ও সুরের গান গাওয়ার স্বপ্ন দেখেন। তিনিও চেষ্টা করেন, যে গানের জন্য যে শিল্পীর কণ্ঠ
সবচেয়ে উপযুক্ত, সেই শিল্পীর কণ্ঠেই গানটি তুলে দিতে।
নিজের সংগীতভাবনা
ও ভবিষ্যৎ স্বপ্ন প্রসঙ্গে রোহান রাজ বলেন, ‘অনেক বড় স্বপ্ন যে আমার তা নয়। গানটা আমি
নিয়মিত করে যেতে চাই। আমি অনুভব করতে পারি যে মানুষ আমার লেখা-সুর করা গান শোনেন। আমার
গানের প্রতি সবার ভালোবাসাও আছে। আমি আমার নিজস্ব ধারাতেই বাংলা গানকে আরও সমৃদ্ধ করতে
চাই। আমার নিজস্ব একটা সিগনেচার তৈরি করে রেখে যেতে চাই বাংলা গানে।’
রোহান রাজের পুরো
নাম হেদায়তুল ইসলাম রাজু। অডিওর যুগে তার কণ্ঠে প্রকাশিত প্রথম অ্যালবাম ছিল ‘বন্ধু
তুমি কেমন আছো’। তার বাবা লোকমান শেখ ও মা রাহিমা শেখ। স্ত্রী রোজিনা হাওলাদার একজন
শিক্ষিকা। তিন মেয়ে পূর্ণতা, নূরানা ও রুফিয়াতকে ঘিরেই তার স্বপ্ন।

আপনার মতামত লিখুন