একসময় চুল পড়াকে বয়স বাড়ার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবেই মনে করা হতো। কিন্তু এখন চিত্রটা বদলেছে। কৈশোর পেরোনোর পরপরই অনেক তরুণ-তরুণীর চুল পাতলা হয়ে যাওয়া, অতিরিক্ত ঝরে পড়া কিংবা সহজে ভেঙে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে। ফলে অল্প বয়সেই চুলের যত্ন নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছেন অনেকে।
চুলের পরিবর্তন চোখে পড়লেই শ্যাম্পু, তেল, সিরাম বা নানা ধরনের হেয়ার কেয়ার পণ্য ব্যবহারের প্রবণতা রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সব ক্ষেত্রে প্রসাধনী বদলালেই সমস্যার সমাধান হয় না। চুল পড়ার পেছনে মানসিক চাপ, খাদ্যাভ্যাস, জীবনযাপন, হরমোনের পরিবর্তন কিংবা বংশগত কারণও থাকতে পারে।
মানসিক চাপের
প্রভাব
পড়াশোনা, চাকরি, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও ব্যক্তিগত নানা দুশ্চিন্তার কারণে তরুণদের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে। এর সঙ্গে ঘুমের ঘাটতি ও দীর্ঘ সময় অনলাইনে থাকার অভ্যাস যুক্ত হলে শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমেও প্রভাব পড়তে পারে।
তীব্র মানসিক চাপের পর কারও কারও ‘টেলোজেন এফ্লুভিয়াম’ হতে পারে। এতে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি চুলের ফলিকল বিশ্রাম পর্যায়ে চলে যায়। কিছু সময় পর এসব চুল ঝরে পড়ার পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। তাই হঠাৎ চুল পড়া বেড়ে গেলে সাম্প্রতিক সময়ে মানসিক চাপ বা জীবনযাপনে বড় কোনো পরিবর্তন হয়েছে কি না, সেটিও বিবেচনায় রাখা দরকার।
কঠোর ডায়েটেও বাড়তে
পারে চুল পড়া
দ্রুত ওজন কমানোর জন্য অনেকেই খাবারের পরিমাণ হঠাৎ কমিয়ে দেন বা কঠোর ডায়েট শুরু করেন। এতে শরীর পর্যাপ্ত পুষ্টি না পেলে তার প্রভাব চুলের ওপরও পড়তে পারে।
চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য পর্যাপ্ত প্রোটিনসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান প্রয়োজন। খাদ্যতালিকায় আয়রন, ভিটামিন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি থাকলে চুল দুর্বল হয়ে ঝরে পড়ার প্রবণতা বাড়তে পারে। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণের সময় খাবারের পরিমাণ কমানোর পাশাপাশি সুষম ও পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করাও জরুরি।
অতিরিক্ত স্টাইলিংয়ে
চুল ভাঙতে পারে
চুল পাতলা হওয়ার পেছনে সবসময় ফলিকলের সমস্যা থাকে না। অনেক সময় চুলের ওপর অতিরিক্ত তাপ বা রাসায়নিক ব্যবহারের কারণেও চুল দুর্বল হয়ে মাঝখান থেকে ভেঙে যেতে পারে।
স্ট্রেটনার, কার্লিং আয়রন বা নিয়মিত হিট ব্যবহার চুলের গঠন ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। একইভাবে বারবার চুলে রং বা ব্লিচ করা, বিভিন্ন রাসায়নিক ট্রিটমেন্ট নেওয়া এবং খুব শক্ত করে চুল বাঁধার অভ্যাসেও চুল ভঙ্গুর হয়ে যেতে পারে।
হেয়ার এক্সটেনশন কিংবা দীর্ঘ সময় টাইট বা স্লিকড-ব্যাক স্টাইল করে রাখলেও চুলের গোড়ায় বাড়তি টান পড়ে। নিয়মিত এমন চাপ চলতে থাকলে চুল পড়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
অন্য যেসব কারণ
থাকতে পারে
জীবনযাপন, খাদ্যাভ্যাস ও হেয়ার স্টাইলিংয়ের পাশাপাশি মাথার ত্বকের সমস্যা বা সংক্রমণ, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা এবং বংশগত প্রবণতাও চুল পড়ার কারণ হতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভুল হেয়ার কেয়ার পণ্য বা অতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহারে সমস্যাটি আরও বাড়তে পারে।
তাই অল্প বয়সে হঠাৎ চুল পড়ার পরিমাণ বেড়ে গেলে শুধু নতুন কোনো প্রসাধনী ব্যবহার শুরু না করে সম্ভাব্য কারণের দিকে নজর দেওয়া জরুরি। খাদ্যাভ্যাস, মানসিক চাপ, ঘুম ও দৈনন্দিন রুটিনে পরিবর্তন আনার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে চিকিৎসক বা চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।
চুল পড়া সবসময় গুরুতর কোনো সমস্যার লক্ষণ নয়। তবে সমস্যাটি দীর্ঘস্থায়ী হলে বা দ্রুত বাড়তে থাকলে কারণ শনাক্ত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অনুযায়ী ব্যবস্থা নিলে অনেক ক্ষেত্রেই চুল পড়ার সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
একসময় চুল পড়াকে বয়স বাড়ার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবেই মনে করা হতো। কিন্তু এখন চিত্রটা বদলেছে। কৈশোর পেরোনোর পরপরই অনেক তরুণ-তরুণীর চুল পাতলা হয়ে যাওয়া, অতিরিক্ত ঝরে পড়া কিংবা সহজে ভেঙে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে। ফলে অল্প বয়সেই চুলের যত্ন নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছেন অনেকে।
চুলের পরিবর্তন চোখে পড়লেই শ্যাম্পু, তেল, সিরাম বা নানা ধরনের হেয়ার কেয়ার পণ্য ব্যবহারের প্রবণতা রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সব ক্ষেত্রে প্রসাধনী বদলালেই সমস্যার সমাধান হয় না। চুল পড়ার পেছনে মানসিক চাপ, খাদ্যাভ্যাস, জীবনযাপন, হরমোনের পরিবর্তন কিংবা বংশগত কারণও থাকতে পারে।
মানসিক চাপের
প্রভাব
পড়াশোনা, চাকরি, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও ব্যক্তিগত নানা দুশ্চিন্তার কারণে তরুণদের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে। এর সঙ্গে ঘুমের ঘাটতি ও দীর্ঘ সময় অনলাইনে থাকার অভ্যাস যুক্ত হলে শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমেও প্রভাব পড়তে পারে।
তীব্র মানসিক চাপের পর কারও কারও ‘টেলোজেন এফ্লুভিয়াম’ হতে পারে। এতে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি চুলের ফলিকল বিশ্রাম পর্যায়ে চলে যায়। কিছু সময় পর এসব চুল ঝরে পড়ার পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। তাই হঠাৎ চুল পড়া বেড়ে গেলে সাম্প্রতিক সময়ে মানসিক চাপ বা জীবনযাপনে বড় কোনো পরিবর্তন হয়েছে কি না, সেটিও বিবেচনায় রাখা দরকার।
কঠোর ডায়েটেও বাড়তে
পারে চুল পড়া
দ্রুত ওজন কমানোর জন্য অনেকেই খাবারের পরিমাণ হঠাৎ কমিয়ে দেন বা কঠোর ডায়েট শুরু করেন। এতে শরীর পর্যাপ্ত পুষ্টি না পেলে তার প্রভাব চুলের ওপরও পড়তে পারে।
চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য পর্যাপ্ত প্রোটিনসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান প্রয়োজন। খাদ্যতালিকায় আয়রন, ভিটামিন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি থাকলে চুল দুর্বল হয়ে ঝরে পড়ার প্রবণতা বাড়তে পারে। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণের সময় খাবারের পরিমাণ কমানোর পাশাপাশি সুষম ও পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করাও জরুরি।
অতিরিক্ত স্টাইলিংয়ে
চুল ভাঙতে পারে
চুল পাতলা হওয়ার পেছনে সবসময় ফলিকলের সমস্যা থাকে না। অনেক সময় চুলের ওপর অতিরিক্ত তাপ বা রাসায়নিক ব্যবহারের কারণেও চুল দুর্বল হয়ে মাঝখান থেকে ভেঙে যেতে পারে।
স্ট্রেটনার, কার্লিং আয়রন বা নিয়মিত হিট ব্যবহার চুলের গঠন ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। একইভাবে বারবার চুলে রং বা ব্লিচ করা, বিভিন্ন রাসায়নিক ট্রিটমেন্ট নেওয়া এবং খুব শক্ত করে চুল বাঁধার অভ্যাসেও চুল ভঙ্গুর হয়ে যেতে পারে।
হেয়ার এক্সটেনশন কিংবা দীর্ঘ সময় টাইট বা স্লিকড-ব্যাক স্টাইল করে রাখলেও চুলের গোড়ায় বাড়তি টান পড়ে। নিয়মিত এমন চাপ চলতে থাকলে চুল পড়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
অন্য যেসব কারণ
থাকতে পারে
জীবনযাপন, খাদ্যাভ্যাস ও হেয়ার স্টাইলিংয়ের পাশাপাশি মাথার ত্বকের সমস্যা বা সংক্রমণ, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা এবং বংশগত প্রবণতাও চুল পড়ার কারণ হতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভুল হেয়ার কেয়ার পণ্য বা অতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহারে সমস্যাটি আরও বাড়তে পারে।
তাই অল্প বয়সে হঠাৎ চুল পড়ার পরিমাণ বেড়ে গেলে শুধু নতুন কোনো প্রসাধনী ব্যবহার শুরু না করে সম্ভাব্য কারণের দিকে নজর দেওয়া জরুরি। খাদ্যাভ্যাস, মানসিক চাপ, ঘুম ও দৈনন্দিন রুটিনে পরিবর্তন আনার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে চিকিৎসক বা চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।
চুল পড়া সবসময় গুরুতর কোনো সমস্যার লক্ষণ নয়। তবে সমস্যাটি দীর্ঘস্থায়ী হলে বা দ্রুত বাড়তে থাকলে কারণ শনাক্ত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অনুযায়ী ব্যবস্থা নিলে অনেক ক্ষেত্রেই চুল পড়ার সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

আপনার মতামত লিখুন