সংবাদ

দাম্পত্যের তিক্ত গল্প ‘দ্য ইনভাইট’


বিনোদন ডেস্ক
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৭ পিএম

দাম্পত্যের তিক্ত গল্প ‘দ্য ইনভাইট’

দুই দম্পতির একটি ডিনার পার্টি। শুরুতে হাসি-ঠাট্টা, গল্প আর পরস্পরের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার চেষ্টা। কিন্তু রাত যত গড়ায়, ততই বদলে যেতে থাকে পরিবেশ। ব্যক্তিগত জীবন, দাম্পত্য সম্পর্ক ও যৌনজীবন নিয়ে কথোপকথন একসময় এমন জায়গায় পৌঁছায়, যেখানে চারজনের কেউই আর আগের মতো স্বস্তিতে থাকতে পারেন না। এমনই এক অস্বস্তিকর ডিনার পার্টিকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে সিনেমা ‘দ্য ইনভাইট’।

অলিভিয়া ওয়াইল্ড পরিচালিত এই ড্রামা সিনেমায় অভিনয় করেছেন সেথ রোজেন, অলিভিয়া ওয়াইল্ড, এডওয়ার্ড নর্টন ও পেনেলোপে ক্রুজ। ১ ঘণ্টা ৪৭ মিনিটের সিনেমাটি স্ট্রিমিং হচ্ছে এইচবিও ম্যাক্সে।

সিনেমার গল্পের কেন্দ্রে রয়েছেন সান ফ্রান্সিসকোর দম্পতি জো ও অ্যাঞ্জেলা। প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো করার উদ্দেশ্যে পাশের ফ্ল্যাটের দম্পতি পিনা ও হককে নিজেদের বাসায় রাতের খাবারের আমন্ত্রণ জানান অ্যাঞ্জেলা।

শুরুটা একেবারেই স্বাভাবিক। চারজন নিজেদের জীবন, পেশা ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নিয়ে গল্প করেন। কিন্তু ধীরে ধীরে সেই কথোপকথন ঢুকে পড়ে দাম্পত্য ও যৌনজীবনের মতো ব্যক্তিগত বিষয়ে। একপর্যায়ে পিনা ও হকের কাছ থেকে আসে অপ্রত্যাশিত এক ‘আমন্ত্রণ’। এরপরই বদলে যায় পুরো রাতের আবহ।

সিনেমাটির অন্যতম আকর্ষণ এর নির্মাণভঙ্গি। বাইরে থেকে গল্পটি হাস্যরসাত্মক মনে হলেও এর ভেতরে রয়েছে সম্পর্কের টানাপোড়েন, হতাশা ও দাম্পত্য জীবনের নানা অসংগতি। বিশেষ করে জো চরিত্রটির মধ্যে ফুটে উঠেছে জীবনের প্রতি হতাশা ও পেশাগত ব্যর্থতার ছাপ। একসময় ব্যান্ডের সদস্য থাকা জো এখন একটি কলেজে সংগীত পড়ান। দীর্ঘদিনের হতাশা, শারীরিক যন্ত্রণা ও অপূর্ণ স্বপ্ন তাকে ক্রমেই খিটখিটে করে তুলেছে।

অন্যদিকে অ্যাঞ্জেলা সংসারকে স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করেন। আর্ট স্কুলে পড়াশোনা করলেও নিজের সেই স্বপ্ন নিয়ে আর এগিয়ে যেতে পারেননি তিনি। ফলে তার চরিত্রেও রয়েছে অপূর্ণতা ও মানসিক অস্থিরতা।

সিনেমাটির সংলাপও বেশ স্বাভাবিক। চরিত্রগুলো অনেক সময় একে অন্যের কথা শেষ হওয়ার আগেই কথা বলে ওঠে। বাস্তব জীবনের কথোপকথনের মতো এই স্বাভাবিকতা গল্পটিকে আরও প্রাণবন্ত করেছে। বুদ্ধিদীপ্ত পাল্টা জবাব ও ঘরোয়া বিরক্তির মধ্যেও তৈরি হয়েছে হাস্যরসের আবহ।

চার অভিনয়শিল্পীর অভিনয়ও সিনেমাটির অন্যতম শক্তি। সেথ রোজেন নিজের পরিচিত রসবোধ ও যুক্তিবাদী অভিনয়শৈলী দিয়ে জো চরিত্রটিকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছেন। অ্যাঞ্জেলা চরিত্রে অলিভিয়া ওয়াইল্ড ফুটিয়ে তুলেছেন আকাঙ্ক্ষা, অসুখী দাম্পত্য ও হারিয়ে যাওয়া স্বপ্নের অস্থিরতা।

এডওয়ার্ড নর্টনের হক চরিত্রটি একদিকে দর্শককে হাসায়, অন্যদিকে তার ব্যক্তিগত জীবনের কিছু বিষয় সামনে আসার পর চরিত্রটির প্রতি দর্শকের দৃষ্টিভঙ্গিও বদলে যায়। আর পেনেলোপে ক্রুজের পিনা যেন পুরো ঘটনার মূল অনুঘটক।

তবে সিনেমাটি শুরু থেকেই সমান গতির নয়। প্রথমার্ধ কিছুটা ধীরগতির এবং কোথাও কোথাও নির্মাতার অতিরিক্ত চেষ্টাও চোখে পড়ে। কিন্তু গল্প এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে সিনেমাটি নিজস্ব ছন্দ খুঁজে পায়। তখন দর্শকের কাছে মনে হয় না যে কোনো গল্প বলা হচ্ছে; বরং কয়েকজন মানুষের জীবনের একটি অস্বস্তিকর রাত যেন চোখের সামনে ঘটে যাচ্ছে।

দুই দম্পতির একটি ডিনার পার্টিকে কেন্দ্র করে ‘দ্য ইনভাইট’ মূলত মধ্যবিত্ত বিবাহিত জীবনের নানা অসংগতি, অপূর্ণতা ও ভণ্ডামিকে তুলে ধরে। সীমিত পরিসর ও অল্পসংখ্যক চরিত্রের মধ্যেও অলিভিয়া ওয়াইল্ড যেভাবে গল্পটিকে আকর্ষণীয় করে তুলেছেন, সেটিই সিনেমাটির বড় সাফল্য।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


দাম্পত্যের তিক্ত গল্প ‘দ্য ইনভাইট’

প্রকাশের তারিখ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

দুই দম্পতির একটি ডিনার পার্টি। শুরুতে হাসি-ঠাট্টা, গল্প আর পরস্পরের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার চেষ্টা। কিন্তু রাত যত গড়ায়, ততই বদলে যেতে থাকে পরিবেশ। ব্যক্তিগত জীবন, দাম্পত্য সম্পর্ক ও যৌনজীবন নিয়ে কথোপকথন একসময় এমন জায়গায় পৌঁছায়, যেখানে চারজনের কেউই আর আগের মতো স্বস্তিতে থাকতে পারেন না। এমনই এক অস্বস্তিকর ডিনার পার্টিকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে সিনেমা ‘দ্য ইনভাইট’।

অলিভিয়া ওয়াইল্ড পরিচালিত এই ড্রামা সিনেমায় অভিনয় করেছেন সেথ রোজেন, অলিভিয়া ওয়াইল্ড, এডওয়ার্ড নর্টন ও পেনেলোপে ক্রুজ। ১ ঘণ্টা ৪৭ মিনিটের সিনেমাটি স্ট্রিমিং হচ্ছে এইচবিও ম্যাক্সে।

সিনেমার গল্পের কেন্দ্রে রয়েছেন সান ফ্রান্সিসকোর দম্পতি জো ও অ্যাঞ্জেলা। প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো করার উদ্দেশ্যে পাশের ফ্ল্যাটের দম্পতি পিনা ও হককে নিজেদের বাসায় রাতের খাবারের আমন্ত্রণ জানান অ্যাঞ্জেলা।

শুরুটা একেবারেই স্বাভাবিক। চারজন নিজেদের জীবন, পেশা ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নিয়ে গল্প করেন। কিন্তু ধীরে ধীরে সেই কথোপকথন ঢুকে পড়ে দাম্পত্য ও যৌনজীবনের মতো ব্যক্তিগত বিষয়ে। একপর্যায়ে পিনা ও হকের কাছ থেকে আসে অপ্রত্যাশিত এক ‘আমন্ত্রণ’। এরপরই বদলে যায় পুরো রাতের আবহ।

সিনেমাটির অন্যতম আকর্ষণ এর নির্মাণভঙ্গি। বাইরে থেকে গল্পটি হাস্যরসাত্মক মনে হলেও এর ভেতরে রয়েছে সম্পর্কের টানাপোড়েন, হতাশা ও দাম্পত্য জীবনের নানা অসংগতি। বিশেষ করে জো চরিত্রটির মধ্যে ফুটে উঠেছে জীবনের প্রতি হতাশা ও পেশাগত ব্যর্থতার ছাপ। একসময় ব্যান্ডের সদস্য থাকা জো এখন একটি কলেজে সংগীত পড়ান। দীর্ঘদিনের হতাশা, শারীরিক যন্ত্রণা ও অপূর্ণ স্বপ্ন তাকে ক্রমেই খিটখিটে করে তুলেছে।

অন্যদিকে অ্যাঞ্জেলা সংসারকে স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করেন। আর্ট স্কুলে পড়াশোনা করলেও নিজের সেই স্বপ্ন নিয়ে আর এগিয়ে যেতে পারেননি তিনি। ফলে তার চরিত্রেও রয়েছে অপূর্ণতা ও মানসিক অস্থিরতা।

সিনেমাটির সংলাপও বেশ স্বাভাবিক। চরিত্রগুলো অনেক সময় একে অন্যের কথা শেষ হওয়ার আগেই কথা বলে ওঠে। বাস্তব জীবনের কথোপকথনের মতো এই স্বাভাবিকতা গল্পটিকে আরও প্রাণবন্ত করেছে। বুদ্ধিদীপ্ত পাল্টা জবাব ও ঘরোয়া বিরক্তির মধ্যেও তৈরি হয়েছে হাস্যরসের আবহ।

চার অভিনয়শিল্পীর অভিনয়ও সিনেমাটির অন্যতম শক্তি। সেথ রোজেন নিজের পরিচিত রসবোধ ও যুক্তিবাদী অভিনয়শৈলী দিয়ে জো চরিত্রটিকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছেন। অ্যাঞ্জেলা চরিত্রে অলিভিয়া ওয়াইল্ড ফুটিয়ে তুলেছেন আকাঙ্ক্ষা, অসুখী দাম্পত্য ও হারিয়ে যাওয়া স্বপ্নের অস্থিরতা।

এডওয়ার্ড নর্টনের হক চরিত্রটি একদিকে দর্শককে হাসায়, অন্যদিকে তার ব্যক্তিগত জীবনের কিছু বিষয় সামনে আসার পর চরিত্রটির প্রতি দর্শকের দৃষ্টিভঙ্গিও বদলে যায়। আর পেনেলোপে ক্রুজের পিনা যেন পুরো ঘটনার মূল অনুঘটক।

তবে সিনেমাটি শুরু থেকেই সমান গতির নয়। প্রথমার্ধ কিছুটা ধীরগতির এবং কোথাও কোথাও নির্মাতার অতিরিক্ত চেষ্টাও চোখে পড়ে। কিন্তু গল্প এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে সিনেমাটি নিজস্ব ছন্দ খুঁজে পায়। তখন দর্শকের কাছে মনে হয় না যে কোনো গল্প বলা হচ্ছে; বরং কয়েকজন মানুষের জীবনের একটি অস্বস্তিকর রাত যেন চোখের সামনে ঘটে যাচ্ছে।

দুই দম্পতির একটি ডিনার পার্টিকে কেন্দ্র করে ‘দ্য ইনভাইট’ মূলত মধ্যবিত্ত বিবাহিত জীবনের নানা অসংগতি, অপূর্ণতা ও ভণ্ডামিকে তুলে ধরে। সীমিত পরিসর ও অল্পসংখ্যক চরিত্রের মধ্যেও অলিভিয়া ওয়াইল্ড যেভাবে গল্পটিকে আকর্ষণীয় করে তুলেছেন, সেটিই সিনেমাটির বড় সাফল্য।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত