সংবাদ

চিকিৎসক সংকট কাটাতে চাই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা


প্রকাশ: ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০২ এএম

চিকিৎসক সংকট কাটাতে চাই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা

দেশে চিকিৎসকের প্রয়োজন প্রায় ৮৮ হাজার ৯০৯ জন। অথচ সরকারি হাসপাতালগুলোতে কর্মরত চিকিৎসক মাত্র ৩০ হাজার ৩১১ জন। অনুমোদিত পদের বিপরীতেই আবার ১১ হাজার ৪৯৫টি পদ শূন্য। এই পরিসংখ্যান দেশের সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থার বড় দুর্বলতাই তুলে ধরে।

চিকিৎসকের এই ঘাটতির সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ। সরকারি হাসপাতালে রোগীর দীর্ঘ অপেক্ষা, চিকিৎসকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ, সেবার মান কমে যাওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে উপজেলা ও গ্রামীণ হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকের সংকট বেশি হলে প্রান্তিক মানুষকে জেলা শহর কিংবা রাজধানীতে যেতে হয়। এতে সময় ও টাকা দুটিই বেশি খরচ হয়।

সরকার ইতিমধ্যে বিভিন্ন বিসিএসের মাধ্যমে চিকিৎসক নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে। এটি অবশ্যই ইতিবাচক। তবে শুধু নিয়োগ দিয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। চিকিৎসকদের কর্মস্থলে ধরে রাখা এবং প্রত্যন্ত এলাকায় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাও জরুরি। প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন পদ সৃষ্টি, নিয়মিত নিয়োগ এবং শূন্য পদ দ্রুত পূরণ করতে হবে। পাশাপাশি গ্রাম ও শহরের চিকিৎসক বণ্টনে ভারসাম্য আনতে হবে।

চিকিৎসকদের কাজের পরিবেশও উন্নত করা প্রয়োজন। আবাসন, নিরাপত্তা, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও সহায়ক জনবল না থাকলে প্রত্যন্ত এলাকায় চিকিৎসকদের ধরে রাখা কঠিন হবে। একই সঙ্গে কোন এলাকায় কতজন চিকিৎসক প্রয়োজন, তার ভিত্তিতে পদায়ন করতে হবে।

স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার। চিকিৎসকের অভাবে সরকারি হাসপাতালের সেবা ব্যাহত হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষ। তাই চিকিৎসকের বর্তমান ঘাটতি পূরণকে শুধু নিয়োগের বিষয় হিসেবে না দেখে একটি দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নিতে হবে। দেশের প্রতিটি মানুষ যেন প্রয়োজনের সময়, নিজ এলাকার কাছাকাছি মানসম্মত চিকিৎসা পায় সেটা নিশ্চিত করতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬


চিকিৎসক সংকট কাটাতে চাই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা

প্রকাশের তারিখ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

দেশে চিকিৎসকের প্রয়োজন প্রায় ৮৮ হাজার ৯০৯ জন। অথচ সরকারি হাসপাতালগুলোতে কর্মরত চিকিৎসক মাত্র ৩০ হাজার ৩১১ জন। অনুমোদিত পদের বিপরীতেই আবার ১১ হাজার ৪৯৫টি পদ শূন্য। এই পরিসংখ্যান দেশের সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থার বড় দুর্বলতাই তুলে ধরে।

চিকিৎসকের এই ঘাটতির সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ। সরকারি হাসপাতালে রোগীর দীর্ঘ অপেক্ষা, চিকিৎসকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ, সেবার মান কমে যাওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে উপজেলা ও গ্রামীণ হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকের সংকট বেশি হলে প্রান্তিক মানুষকে জেলা শহর কিংবা রাজধানীতে যেতে হয়। এতে সময় ও টাকা দুটিই বেশি খরচ হয়।

সরকার ইতিমধ্যে বিভিন্ন বিসিএসের মাধ্যমে চিকিৎসক নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে। এটি অবশ্যই ইতিবাচক। তবে শুধু নিয়োগ দিয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। চিকিৎসকদের কর্মস্থলে ধরে রাখা এবং প্রত্যন্ত এলাকায় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাও জরুরি। প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন পদ সৃষ্টি, নিয়মিত নিয়োগ এবং শূন্য পদ দ্রুত পূরণ করতে হবে। পাশাপাশি গ্রাম ও শহরের চিকিৎসক বণ্টনে ভারসাম্য আনতে হবে।

চিকিৎসকদের কাজের পরিবেশও উন্নত করা প্রয়োজন। আবাসন, নিরাপত্তা, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও সহায়ক জনবল না থাকলে প্রত্যন্ত এলাকায় চিকিৎসকদের ধরে রাখা কঠিন হবে। একই সঙ্গে কোন এলাকায় কতজন চিকিৎসক প্রয়োজন, তার ভিত্তিতে পদায়ন করতে হবে।

স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার। চিকিৎসকের অভাবে সরকারি হাসপাতালের সেবা ব্যাহত হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষ। তাই চিকিৎসকের বর্তমান ঘাটতি পূরণকে শুধু নিয়োগের বিষয় হিসেবে না দেখে একটি দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নিতে হবে। দেশের প্রতিটি মানুষ যেন প্রয়োজনের সময়, নিজ এলাকার কাছাকাছি মানসম্মত চিকিৎসা পায় সেটা নিশ্চিত করতে হবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত