সংবাদ

সারের সংকট নিয়ে কৃষকের ক্ষোভ


প্রকাশ: ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১৬ এএম

সারের সংকট নিয়ে কৃষকের ক্ষোভ

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর কচাকাটা বাজারে গত রোববার সার নিতে এসে পরিবেশকের দেরিতে ক্ষুব্ধ কৃষকেরা গুদামের টিনের বেড়া ভাঙচুর করেছেন। একই দিনে ভূরুঙ্গামারীতে সার না পেয়ে কৃষকেরা সড়ক অবরোধ করেন। লালমনিরহাটেও পর্যাপ্ত সার সরবরাহ ও কথিত ‘সার সিন্ডিকেট’ বন্ধের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করা হয়। এর আগে ২৩ আগস্ট ভূরুঙ্গামারীতে এক ডিলারের গুদাম ভেঙে ১৯৭ বস্তা ইউরিয়া নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

কৃষির মৌসুমে সারের সরবরাহে সামান্য বিঘ্নও বড় ধরনের সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। নির্দিষ্ট সময়ে জমিতে সার প্রয়োগ করতে না পারলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ফলে কৃষকের কাছে সার পাওয়া শুধু একটি পণ্য কেনার বিষয় নয়। এর সঙ্গে ফসলের উৎপাদন, আয় ও পরিবারের জীবিকা সরাসরি যুক্ত।

কোনো ডিলারের গুদামে সার থাকার পরও কৃষকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হলে কিংবা একাধিকবার গিয়েও সার না পেলে ক্ষোভ তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে সেই ক্ষোভ থেকে গুদাম ভাঙচুর, সার লুট বা সড়ক অবরোধ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

সরকারি বরাদ্দের সার কৃষকের হাতে যথাসময়ে পৌঁছাচ্ছে কি না সেটা একটা প্রশ্ন। লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, জেলায় মূলত সারের সংকট নেই। এক স্থানে সার বিতরণের খবর পেয়ে অন্য এলাকার বিপুলসংখ্যক কৃষক সেখানে চলে আসায় সাময়িক বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল। ভূরুঙ্গামারীতেও একটি গুদামে ২০ টন সার থাকার কথা জানানো হয়েছে।

অর্থাৎ সার আছে, কিন্তু কৃষকের কাছে তা যথাসময়ে পৌঁছাচ্ছে না। আবার কৃষকদের অভিযোগ, কোথাও কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে বা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সার নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।

এ অবস্থায় সার কোথায় বরাদ্দ হচ্ছে, কোন ডিলার কত সার উত্তোলন করছেন, কোন গুদামে কত মজুত আছে এবং কত কৃষকের মধ্যে কীভাবে তা বিতরণ হচ্ছে সেসব তথ্য স্বচ্ছভাবে প্রকাশ করা প্রয়োজন। ডিলারের গুদামে নিয়মিত পরিদর্শন এবং মজুতের সঙ্গে বিক্রির হিসাব মিলিয়ে দেখা জরুরি। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, মজুতদারি, কালোবাজারি বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সারের সংকট নিয়ে কৃষকের ক্ষোভ

প্রকাশের তারিখ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর কচাকাটা বাজারে গত রোববার সার নিতে এসে পরিবেশকের দেরিতে ক্ষুব্ধ কৃষকেরা গুদামের টিনের বেড়া ভাঙচুর করেছেন। একই দিনে ভূরুঙ্গামারীতে সার না পেয়ে কৃষকেরা সড়ক অবরোধ করেন। লালমনিরহাটেও পর্যাপ্ত সার সরবরাহ ও কথিত ‘সার সিন্ডিকেট’ বন্ধের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করা হয়। এর আগে ২৩ আগস্ট ভূরুঙ্গামারীতে এক ডিলারের গুদাম ভেঙে ১৯৭ বস্তা ইউরিয়া নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

কৃষির মৌসুমে সারের সরবরাহে সামান্য বিঘ্নও বড় ধরনের সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। নির্দিষ্ট সময়ে জমিতে সার প্রয়োগ করতে না পারলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ফলে কৃষকের কাছে সার পাওয়া শুধু একটি পণ্য কেনার বিষয় নয়। এর সঙ্গে ফসলের উৎপাদন, আয় ও পরিবারের জীবিকা সরাসরি যুক্ত।

কোনো ডিলারের গুদামে সার থাকার পরও কৃষকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হলে কিংবা একাধিকবার গিয়েও সার না পেলে ক্ষোভ তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে সেই ক্ষোভ থেকে গুদাম ভাঙচুর, সার লুট বা সড়ক অবরোধ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

সরকারি বরাদ্দের সার কৃষকের হাতে যথাসময়ে পৌঁছাচ্ছে কি না সেটা একটা প্রশ্ন। লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, জেলায় মূলত সারের সংকট নেই। এক স্থানে সার বিতরণের খবর পেয়ে অন্য এলাকার বিপুলসংখ্যক কৃষক সেখানে চলে আসায় সাময়িক বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল। ভূরুঙ্গামারীতেও একটি গুদামে ২০ টন সার থাকার কথা জানানো হয়েছে।

অর্থাৎ সার আছে, কিন্তু কৃষকের কাছে তা যথাসময়ে পৌঁছাচ্ছে না। আবার কৃষকদের অভিযোগ, কোথাও কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে বা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সার নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।

এ অবস্থায় সার কোথায় বরাদ্দ হচ্ছে, কোন ডিলার কত সার উত্তোলন করছেন, কোন গুদামে কত মজুত আছে এবং কত কৃষকের মধ্যে কীভাবে তা বিতরণ হচ্ছে সেসব তথ্য স্বচ্ছভাবে প্রকাশ করা প্রয়োজন। ডিলারের গুদামে নিয়মিত পরিদর্শন এবং মজুতের সঙ্গে বিক্রির হিসাব মিলিয়ে দেখা জরুরি। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, মজুতদারি, কালোবাজারি বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত