সংবাদ

ডেঙ্গু: সংখ্যার আড়ালে ব্যর্থতা


সমীর কুমার সাহা
সমীর কুমার সাহা
প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১৭ এএম

ডেঙ্গু: সংখ্যার আড়ালে  ব্যর্থতা

সংখ্যাগুলো একসাথে সাজালে চিত্রটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। জুনে ডেঙ্গুতে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন প্রায় তিন হাজার মানুষ। জুলাইয়ে তা তিনগুণ বেড়ে নয় হাজারের বেশিতে পৌঁছায়। আগস্টে সেই সংখ্যা আরও লাফিয়ে বেড়ে বিশ হাজার পার হয়ে যায়। আর সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই একদিনে দেড় হাজারের বেশি রোগী ভর্তির নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে—চলতি বছরের সর্বোচ্চ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন প্রায় ৪৫ হাজার মানুষ, প্রাণ গেছে ১২১ জনের। 

এই ঊর্ধ্বমুখী রেখা কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়—এটি একটি প্যাটার্ন, যা প্রতিবছর প্রায় একই সময়ে ফিরে আসে।

ইতিহাস ঘাঁটলে এই প্যাটার্ন আরও স্পষ্ট হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ২০০০ সাল থেকে ডেঙ্গুর তথ্য সংরক্ষণ করছে। এই দুই দশকের মধ্যে ২০২৩ সাল সবচেয়ে ভয়াবহ বছর হিসেবে রেকর্ড হয়ে আছে—সে বছর তিন লাখ ২১ হাজারের বেশি মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন এবং মৃত্যু হয়েছিল ১ হাজার ৭০৫ জনের, যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। এরপর ২০২৫ সালেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি—চার শতাধিক মানুষ প্রাণ হারান এবং হাসপাতালে ভর্তি হন প্রায় এক লাখ দুই হাজার রোগী। এই তিন বছরের তুলনামূলক চিত্র একটি জিনিস স্পষ্ট করে দেয়—আগস্ট থেকে অক্টোবর সময়টা বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ, আর এবারও ঠিক সেই ধারাবাহিকতাই দেখা যাচ্ছে। 

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে অক্টোবরজুড়ে পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে।

ভৌগোলিক বিস্তারের তথ্যও উদ্বেগজনক। ঢাকা বিভাগে সংক্রমণ সর্বোচ্চ হলেও এককভাবে আর রাজধানীর সমস্যা এটি নয়। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনসহ পুরো ঢাকা বিভাগে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। বরিশালে প্রায় ৬ হাজার, চট্টগ্রামে সাড়ে ৫ হাজারের বেশি। গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জেও আক্রান্তের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে। ময়মনসিংহ, কক্সবাজার, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি ও পিরোজপুরেও সংক্রমণ তুলনামূলক বেশি। গত কয়েক বছর ধরে দেশের ৬৪ জেলাতেই ডেঙ্গু শনাক্ত হচ্ছে, এমনকি প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও। ২০১৯ সালের আগে যে রোগ মূলত বড় শহরকেন্দ্রিক ছিল, তা এখন গ্রামীণ জনপদেও পৌঁছে গেছে—অর্থাৎ এডিস মশার বিস্তারও আর শহরের সীমানায় আটকে নেই।

এই বিস্তারের পেছনে কারণ হিসেবে কীটতত্ত্ববিদরা দেখাচ্ছেন জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব। আগে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরকে এডিস মশার প্রধান প্রজননকাল ধরা হতো। কিন্তু এখন সারাদেশে প্রায় সারা বছরই এই মশার বংশবিস্তারের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। শহরে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম কিছুটা দৃশ্যমান হলেও গ্রামাঞ্চলে এই ধরনের উদ্যোগ তুলনামূলক দুর্বল, ফলে এডিস মশার প্রজননস্থল অনেকাংশে অনিয়ন্ত্রিত থেকে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, উপকূলীয় জেলাগুলোতেও ডেঙ্গুর বিস্তার নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে, যা আগে তেমন লক্ষ্য করা যায়নি।

পরিসংখ্যানের আরেকটি স্তরে গেলে দেখা যায় একটি লিঙ্গভিত্তিক অসামঞ্জস্য। এ বছর হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীদের প্রায় ৬২ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৮ শতাংশ নারী। কিন্তু মৃত্যুর চিত্র সম্পূর্ণ বিপরীত—এখন পর্যন্ত মৃতদের প্রায় ৫৬ শতাংশ নারী। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, পুরুষরা কর্মসূত্রে শহরে থাকার সুবাদে সহজে পরীক্ষা করানোর সুযোগ পান, নারীদের ক্ষেত্রে সেই সুযোগ তুলনামূলক কম। ফলে আক্রান্ত নারীর প্রকৃত সংখ্যা সরকারি পরিসংখ্যানে হয়তো কম প্রতিফলিত হচ্ছে, আর রোগ নির্ণয়ে বিলম্বের কারণে জটিলতা বেড়ে মৃত্যুর ঝুঁকিও বাড়ছে। এই তথ্য শুধু একটি পরিসংখ্যানগত খুঁত নয়—এটি স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে থাকা বাস্তব বৈষম্যের একটি প্রতিফলন, যা নীতিনির্ধারণে বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।

সরকারি পর্যায়ে সাড়া দেওয়ার চেষ্টাও চলছে। প্রধানমন্ত্রী দেশজুড়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন, যেখানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা স্বেচ্ছাসেবক, বিএনসিসি, রোভার স্কাউট ও রেড ক্রিসেন্ট কর্মীদের সম্পৃক্ত করার কথা বলা হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনও মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরও গতিশীল ও সমন্বিত করার নির্দেশনা জারি করেছে। এসব পদক্ষেপ ইতিবাচক, তবে বাস্তবতা হলো—এই সক্রিয়তা প্রতিবারই আসে সংক্রমণ শীর্ষে পৌঁছানোর পর, প্রতিরোধমূলক প্রস্তুতি হিসেবে নয়।

সংখ্যাগুলো একত্র করলে একটি স্পষ্ট বার্তা পাওয়া যায়—আগামী দুই মাস, বিশেষত সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে অক্টোবর, বাংলাদেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতির জন্য নির্ধারক সময়। এই সময়ে পরিস্থিতি কতটা নিয়ন্ত্রণে থাকবে, তা কেবল হাসপাতালের সক্ষমতার ওপর নির্ভর করবে না; নির্ভর করবে মশার প্রজননস্থল কতটা ধ্বংস করা যাচ্ছে, শহর ও গ্রামজুড়ে পরিচ্ছন্নতা কতটা নিশ্চিত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষকে কতটা কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করা যাচ্ছে তার ওপর। বাড়ির আঙিনা, ছাদের টব, নির্মাণাধীন ভবনের জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার রাখা, জ্বর হলে দ্রুত পরীক্ষা করানো এবং বিশ্রাম ও পর্যাপ্ত তরল গ্রহণের মতো সাধারণ সতর্কতাগুলোই এখন সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরক্ষা।

গত তিন বছরের তথ্য-উপাত্ত একটি বার্তাই বারবার দিচ্ছে—ডেঙ্গু আর কোনো এককালীন মহামারি নয়, এটি বাংলাদেশের বার্ষিক স্বাস্থ্যচিত্রের স্থায়ী অংশ হয়ে উঠেছে। এই বাস্তবতা মেনে নিয়ে যদি আমরা মৌসুমভিত্তিক প্রতিক্রিয়ার বদলে বছরজুড়ে প্রতিরোধমূলক কাঠামো গড়ে তুলতে না পারি, তাহলে প্রতিবছরই সংখ্যাগুলো নতুন রেকর্ড ছুঁয়ে যাবে—আর তার মূল্য দিতে হবে মানুষের প্রাণ দিয়েই। 

(লেখকের নিজস্ব মত)

[লেখক: সাবেক নির্বাহী পরিচালক, পাবলিক হেলথ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ]

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ডেঙ্গু: সংখ্যার আড়ালে ব্যর্থতা

প্রকাশের তারিখ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

সংখ্যাগুলো একসাথে সাজালে চিত্রটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। জুনে ডেঙ্গুতে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন প্রায় তিন হাজার মানুষ। জুলাইয়ে তা তিনগুণ বেড়ে নয় হাজারের বেশিতে পৌঁছায়। আগস্টে সেই সংখ্যা আরও লাফিয়ে বেড়ে বিশ হাজার পার হয়ে যায়। আর সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই একদিনে দেড় হাজারের বেশি রোগী ভর্তির নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে—চলতি বছরের সর্বোচ্চ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন প্রায় ৪৫ হাজার মানুষ, প্রাণ গেছে ১২১ জনের। 

এই ঊর্ধ্বমুখী রেখা কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়—এটি একটি প্যাটার্ন, যা প্রতিবছর প্রায় একই সময়ে ফিরে আসে।

ইতিহাস ঘাঁটলে এই প্যাটার্ন আরও স্পষ্ট হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ২০০০ সাল থেকে ডেঙ্গুর তথ্য সংরক্ষণ করছে। এই দুই দশকের মধ্যে ২০২৩ সাল সবচেয়ে ভয়াবহ বছর হিসেবে রেকর্ড হয়ে আছে—সে বছর তিন লাখ ২১ হাজারের বেশি মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন এবং মৃত্যু হয়েছিল ১ হাজার ৭০৫ জনের, যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। এরপর ২০২৫ সালেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি—চার শতাধিক মানুষ প্রাণ হারান এবং হাসপাতালে ভর্তি হন প্রায় এক লাখ দুই হাজার রোগী। এই তিন বছরের তুলনামূলক চিত্র একটি জিনিস স্পষ্ট করে দেয়—আগস্ট থেকে অক্টোবর সময়টা বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ, আর এবারও ঠিক সেই ধারাবাহিকতাই দেখা যাচ্ছে। 

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে অক্টোবরজুড়ে পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে।

ভৌগোলিক বিস্তারের তথ্যও উদ্বেগজনক। ঢাকা বিভাগে সংক্রমণ সর্বোচ্চ হলেও এককভাবে আর রাজধানীর সমস্যা এটি নয়। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনসহ পুরো ঢাকা বিভাগে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। বরিশালে প্রায় ৬ হাজার, চট্টগ্রামে সাড়ে ৫ হাজারের বেশি। গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জেও আক্রান্তের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে। ময়মনসিংহ, কক্সবাজার, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি ও পিরোজপুরেও সংক্রমণ তুলনামূলক বেশি। গত কয়েক বছর ধরে দেশের ৬৪ জেলাতেই ডেঙ্গু শনাক্ত হচ্ছে, এমনকি প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও। ২০১৯ সালের আগে যে রোগ মূলত বড় শহরকেন্দ্রিক ছিল, তা এখন গ্রামীণ জনপদেও পৌঁছে গেছে—অর্থাৎ এডিস মশার বিস্তারও আর শহরের সীমানায় আটকে নেই।

এই বিস্তারের পেছনে কারণ হিসেবে কীটতত্ত্ববিদরা দেখাচ্ছেন জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব। আগে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরকে এডিস মশার প্রধান প্রজননকাল ধরা হতো। কিন্তু এখন সারাদেশে প্রায় সারা বছরই এই মশার বংশবিস্তারের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। শহরে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম কিছুটা দৃশ্যমান হলেও গ্রামাঞ্চলে এই ধরনের উদ্যোগ তুলনামূলক দুর্বল, ফলে এডিস মশার প্রজননস্থল অনেকাংশে অনিয়ন্ত্রিত থেকে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, উপকূলীয় জেলাগুলোতেও ডেঙ্গুর বিস্তার নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে, যা আগে তেমন লক্ষ্য করা যায়নি।

পরিসংখ্যানের আরেকটি স্তরে গেলে দেখা যায় একটি লিঙ্গভিত্তিক অসামঞ্জস্য। এ বছর হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীদের প্রায় ৬২ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৮ শতাংশ নারী। কিন্তু মৃত্যুর চিত্র সম্পূর্ণ বিপরীত—এখন পর্যন্ত মৃতদের প্রায় ৫৬ শতাংশ নারী। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, পুরুষরা কর্মসূত্রে শহরে থাকার সুবাদে সহজে পরীক্ষা করানোর সুযোগ পান, নারীদের ক্ষেত্রে সেই সুযোগ তুলনামূলক কম। ফলে আক্রান্ত নারীর প্রকৃত সংখ্যা সরকারি পরিসংখ্যানে হয়তো কম প্রতিফলিত হচ্ছে, আর রোগ নির্ণয়ে বিলম্বের কারণে জটিলতা বেড়ে মৃত্যুর ঝুঁকিও বাড়ছে। এই তথ্য শুধু একটি পরিসংখ্যানগত খুঁত নয়—এটি স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে থাকা বাস্তব বৈষম্যের একটি প্রতিফলন, যা নীতিনির্ধারণে বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।

সরকারি পর্যায়ে সাড়া দেওয়ার চেষ্টাও চলছে। প্রধানমন্ত্রী দেশজুড়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন, যেখানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা স্বেচ্ছাসেবক, বিএনসিসি, রোভার স্কাউট ও রেড ক্রিসেন্ট কর্মীদের সম্পৃক্ত করার কথা বলা হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনও মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরও গতিশীল ও সমন্বিত করার নির্দেশনা জারি করেছে। এসব পদক্ষেপ ইতিবাচক, তবে বাস্তবতা হলো—এই সক্রিয়তা প্রতিবারই আসে সংক্রমণ শীর্ষে পৌঁছানোর পর, প্রতিরোধমূলক প্রস্তুতি হিসেবে নয়।

সংখ্যাগুলো একত্র করলে একটি স্পষ্ট বার্তা পাওয়া যায়—আগামী দুই মাস, বিশেষত সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে অক্টোবর, বাংলাদেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতির জন্য নির্ধারক সময়। এই সময়ে পরিস্থিতি কতটা নিয়ন্ত্রণে থাকবে, তা কেবল হাসপাতালের সক্ষমতার ওপর নির্ভর করবে না; নির্ভর করবে মশার প্রজননস্থল কতটা ধ্বংস করা যাচ্ছে, শহর ও গ্রামজুড়ে পরিচ্ছন্নতা কতটা নিশ্চিত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষকে কতটা কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করা যাচ্ছে তার ওপর। বাড়ির আঙিনা, ছাদের টব, নির্মাণাধীন ভবনের জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার রাখা, জ্বর হলে দ্রুত পরীক্ষা করানো এবং বিশ্রাম ও পর্যাপ্ত তরল গ্রহণের মতো সাধারণ সতর্কতাগুলোই এখন সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরক্ষা।

গত তিন বছরের তথ্য-উপাত্ত একটি বার্তাই বারবার দিচ্ছে—ডেঙ্গু আর কোনো এককালীন মহামারি নয়, এটি বাংলাদেশের বার্ষিক স্বাস্থ্যচিত্রের স্থায়ী অংশ হয়ে উঠেছে। এই বাস্তবতা মেনে নিয়ে যদি আমরা মৌসুমভিত্তিক প্রতিক্রিয়ার বদলে বছরজুড়ে প্রতিরোধমূলক কাঠামো গড়ে তুলতে না পারি, তাহলে প্রতিবছরই সংখ্যাগুলো নতুন রেকর্ড ছুঁয়ে যাবে—আর তার মূল্য দিতে হবে মানুষের প্রাণ দিয়েই। 

(লেখকের নিজস্ব মত)

[লেখক: সাবেক নির্বাহী পরিচালক, পাবলিক হেলথ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ]


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত