সংবাদ

রম্যগদ্য: “পিটাও অ্যারিস্টোটল, মারেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর”


জাঁ-নেসার ওসমান
জাঁ-নেসার ওসমান
প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১৮ এএম

রম্যগদ্য: “পিটাও অ্যারিস্টোটল, মারেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর”

এইডা আবার কী শুরু করলেন, হিডান অ্যারিস্টোটল, হিডান রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর? আপনে মিয়া পারেনও, এই দুই বিশ্বনন্দিত পাবলিকরেনি আন্নে হিডাইবেন! এগোরে হিডাইলে, পাবলিক আন্নেরে হিডি মারি হালাইবো। 

পাবলিক আমাকে পিটাক বা মব করে মেরে ফেলুক, এনিয়ে আমার চিন্তা নেই, কিন্তু এই দুই বিশ্বনন্দিত বরেণ্য ব্যাক্তিত্ব যে বাংলাদেশের বারটা বাজাচ্ছে তার কী হবে?

এ্যাঁ, যীষু খৃষ্টের জন্মেরও ৩৮৪ বছর আগে এ্যাথেনসের, জারা শহরে জন্ম লোইলো, অ্যারিস্টোটল, তখনতো বাংলাদেশের বাপেরও জন্ম হয় নাই! আর আন্নেনি কন বিশ্বনন্দিত বরেণ্য ব্যক্তিত্ব বৈজ্ঞানিক, দার্শনিক অ্যারিস্টোটল আন্নের বাংলাদেশের ... মারের! আন্নের মিয়া লজ্জা শরম নাই, অ্যারিস্টোটল আর বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথরে উপর এইসব অলীক মন গড়া অভিযোগ করতে!

আরে উড়ঝুড়ে বাঙাল, তুইতো কিছু না বুঝেই কাটা টিকটিকির লেজের মতো লাফালাফি করিস। তড়প তড়প করে তড়পাস। তুই জানিস, তোর কথার এই দুই বিশ্বনন্দিত বরেণ্য ব্যক্তিত্ব বাংলাদেশের শুধু... মারেনি, ইঁনারা বাংলাদেশের পরবর্তী প্রজন্মের ...জেন-জিরও... মেরে বসে আছেন।

হ, কোইলেই হোইলো। এই দুই বিশ্বনন্দিত বরেণ্য ব্যক্তিত্ব বাংলাদেশের, বাংলার পরবর্তী প্রজন্মেরও... মারের! মনে রাইখেন মিয়া এই দুই বিশ্বনন্দিত বরেণ্য ব্যক্তিত্ব অ্যারিস্টোটল পৃথিবীর ইতিহাসে, আর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা সাহিত্যে যে অবদান রেখেছেন, আন্নের হাজার গুষ্টি আইলেও হ্যাগো বাম-পায়ের কানি আঙুলের ধারে কাছেও যাইতে পারবেন না!

  

আরে ভাই আমার আর আমার চৌদ্দগুষ্টির কারো এই দুই বিশ্বনন্দিত বরেণ্য ব্যক্তিত্বের কাছেও যেতে হবে না। কিন্তু ইঁনারা দুই বিশ্বনন্দিত বরেণ্য ব্যক্তিত্ব, বাংলাদেশের শুধু ... মারেনি, তারা পুরো বাঙালি জাতির ... মেরেছেন। তুই বলতে পারিস আমরা কি এমন পাপ করলাম যে তোর ভাষায় এই দুই বিশ্বনন্দিত বরেণ্য ব্যক্তিত্বের প্রচেষ্টায় আজ আমরা বাঙালি নাকি মধ্যপ্রাচ্যে ডাস্টবিনে ফেলে দেয়া ওঁচা মিসকিন হিসেবে পৃথিবীতে বিচরণ করবো! ভাবতে পারিস তোর এই দুই বিশ্বনন্দিত বরেণ্য ব্যক্তিত্বের ঠেলায় আমাদের জাতিসত্তা নিয়ে টানাটানি শুরু হোয়েছে। আমরা কি বাঙালি নাকি আমরা ভিনগ্রহের প্রাণী উট সাবক!

এইটা আপনি কি বলচেন যে, কবি শামসুর রাহমান বলেচেন, “অদ্ভুত এক উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ” কিন্তু কবি শামসুর রাহমান কখোনোই বলেননি যে বাঙালি আর বাঙালি নাই হ্যারা ব্যেবাগতে উষ্ট্র সাবক!

কিন্তু ভাবেতো তাই দেখা যাচ্ছে, তোরা মরুভুমির কঠিন আবহাওয়ায় বসবাসরত পাবলিকের আচার অনুষ্ঠান লালন পালন করলে তোকে কে বলবে যে তুই বাঙালি নাকি পবিত্র উষ্ট্র দেশের বাসিন্দা?

আপনে মিয়া কথা ঘুরায়েন না, এ্যাতক্ষণ কোইছেন, দুই বিশ্বনন্দিত বরেণ্য ব্যক্তিত্ব অ্যারিস্টোটল আর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলাদেশের জী-মারের অহন আবার বাঙালিরে পবিত্র উটের দেশে নিয়া ফালাইতে চান! সোজাসাপটা কন মিয়া আপনে ক্যান কোইছেন দুই বিশ্বনন্দিত বরেণ্য ব্যক্তিত্ব অ্যারিস্টোটল আর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলাদেশের তথা বাঙালির বারটা বাজাইছে?

দ্যাখ, বিশ্বখ্যাত, দার্শনিক, বৈজ্ঞানিক, তর্কশাস্ত্রবিদ, গাণিতিক জনাব অ্যারিস্টোটল তার পোয়েটিকসসে বলেছেন, একটি দেশ সব সময় পরিচালিত হয় ওই দেশের জনপ্রিয় নেতা দ্বারা, জনপ্রিয় নেতা জনগণের ভোটে সব সময় দেশ পরিচালনার ভার লাভ করে। কিন্তু দেশের শিক্ষিত জনগোষ্ঠি কখোনোই জনতার ভোটে দেশ পরিচালনার সুযোগ পান না।  এই অ্যারিস্টোটলের কথা শুনে তোর বাংলাদেশের লোকেরা ১৯৭১-এ যেমন জনপ্রিয় নেতাকে ভোট দিলেন, তারপর তার দেশ পরিচালনার বহর দেখে তাকে ফুটো করলো। দেশ পড়লো অথৈ আঁধারে। বাঙালি জাতির বারোটা। তার পরবর্তীতে “টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া সবাই বলে জিয়া জিয়া”। এমনি অপর এক জনপ্রিয় নেতাকে তোরা আবার গুলি কোরে হত্যা করলি। আবার বাঙালি অথৈ পাথারে। এ্যাখোন বাঙালি যদি  বিশ্বনন্দিত বরেণ্য ব্যক্তিত্ব অ্যারিস্টোটলের কথা না শুনতো তাহলে আজ বাঙলার ইতিহাস স্বর্ণাক্ষরে লেখা হতো। তোরা অ্যারিস্টোটলের কথা শুনলি আর মরলি।

এইডা আবার কী কথা! বিদেশে কি পাবলিক জনপ্রিয় নেতারে ভোট দ্যায় না?

জ্বী, বিদেশে পাবলিক জনপ্রিয় নেতাকে ভোট দ্যায়, কিন্তু ওই নেতারা সিনেট মিনেট, কংগ্রেস, আপার বেঞ্চ লোয়ার বেঞ্চ করে সব শিক্ষিতদের দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দ্যায়, ফলে তোর ওই জনপ্রিয় নেতাকে কখোনোই স্বৈরাচার হবার চান্স দেয়া হয় না। কিন্তু তোর দেশের শিক্ষিতরা তো কোণঠাসা, কারণ তোর জনপ্রিয় নেতাটি তার জনপ্রিয়তায় এ্যাতোই অন্ধ যে, কখন জেন-জি তার ...’ মারছে তাও টের পেলেন না। 

আচ্ছা বুঝলাম হালার অ্যারিস্টোটলের কথা হুনি বাঙালি পাবলিক শিক্ষিতরে বাদদি জনপ্রিয় নেতারে ভুট প্রদান করি, নিজের...নিজেই ধ্বংস করছে। কিন্তু কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুররে এর মইধ্যে হান্দাইলেন ক্যামনে? হ্যায় ক্যেমনে বাঙালি জাতির...মারের?

আরে অশিক্ষিত বর্বর বাঙাল, মবগোষ্টির সক্রিয় কাঙাল, তুই কেন জানিস না যে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার শ্যামা নৃত্যনাট্যে, রাজকোষে চুরি হবার পর লিখলেন, “চুরি হয়ে গেছে রাজকোষে, চোর চাই, চোর চাই, যে কোরেই হোক, হোক সে অন্য কোনো লোক...”

তো হ্যায়তো ঠিকই কোইছে, চোর চাই, চোর চাই, যে কোরেই হোক...ব্যাস পুলিশ তো চুর ধোরবোই।

“আরে জঙ্গল পুলিশ তো চোর ধরবেই, এটাই ওদের ডিউটি। কিন্তু পুলিশ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের কথা শুনে করলো কি, ছিনতাই করলো নীল মোটর সাইকেল, পুলিশ ধরলো লাল মোটর সাইকেল, কারণ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, “চোর চাই, চোর চাই, যে কোরেই হোক, হোক সে অন্য কোনো লোক...” ব্যাস বিশ্ব কবির কথামতো পুলিশ অন্যলোককে ধরে আনলো। এখন তুইই বল কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এইসব নোংরা বুদ্ধি না দিলে, পুলিশ কি এই বাঁকা পথে যেতো?তুই বল?

গুরু আপনে ঠিকই কোইছেন, এই দুই বিশ্ব নন্দিত বরেণ্য ব্যক্তিত্ব শুধু বাংলাদেশের  ...মারেনি, ইঁনারা বাংলাদেশের পরবর্তী প্রজন্মের ...জেন-জিরও... মেরে বসে আছেন। ইঁনাদের বাংলাদেশে ব্যান্ড করা উচিৎ। আন্নের কথাই ঠিক হালাগোরে হিডান।

তাহলে তুইও আমার সাথে বল “পিটাও অ্যরিস্টোটল, মারেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর...”

আরে শুধু আমি কমু ক্যান পুরা বাংলাদেশের পাবলিকে কোইবো, “পিটাও অ্যরিস্টোটল, মারেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর...” 

[লেখক: চলচ্চিত্রকার]

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


রম্যগদ্য: “পিটাও অ্যারিস্টোটল, মারেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর”

প্রকাশের তারিখ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

এইডা আবার কী শুরু করলেন, হিডান অ্যারিস্টোটল, হিডান রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর? আপনে মিয়া পারেনও, এই দুই বিশ্বনন্দিত পাবলিকরেনি আন্নে হিডাইবেন! এগোরে হিডাইলে, পাবলিক আন্নেরে হিডি মারি হালাইবো। 


পাবলিক আমাকে পিটাক বা মব করে মেরে ফেলুক, এনিয়ে আমার চিন্তা নেই, কিন্তু এই দুই বিশ্বনন্দিত বরেণ্য ব্যাক্তিত্ব যে বাংলাদেশের বারটা বাজাচ্ছে তার কী হবে?


এ্যাঁ, যীষু খৃষ্টের জন্মেরও ৩৮৪ বছর আগে এ্যাথেনসের, জারা শহরে জন্ম লোইলো, অ্যারিস্টোটল, তখনতো বাংলাদেশের বাপেরও জন্ম হয় নাই! আর আন্নেনি কন বিশ্বনন্দিত বরেণ্য ব্যক্তিত্ব বৈজ্ঞানিক, দার্শনিক অ্যারিস্টোটল আন্নের বাংলাদেশের ... মারের! আন্নের মিয়া লজ্জা শরম নাই, অ্যারিস্টোটল আর বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথরে উপর এইসব অলীক মন গড়া অভিযোগ করতে!


আরে উড়ঝুড়ে বাঙাল, তুইতো কিছু না বুঝেই কাটা টিকটিকির লেজের মতো লাফালাফি করিস। তড়প তড়প করে তড়পাস। তুই জানিস, তোর কথার এই দুই বিশ্বনন্দিত বরেণ্য ব্যক্তিত্ব বাংলাদেশের শুধু... মারেনি, ইঁনারা বাংলাদেশের পরবর্তী প্রজন্মের ...জেন-জিরও... মেরে বসে আছেন।


হ, কোইলেই হোইলো। এই দুই বিশ্বনন্দিত বরেণ্য ব্যক্তিত্ব বাংলাদেশের, বাংলার পরবর্তী প্রজন্মেরও... মারের! মনে রাইখেন মিয়া এই দুই বিশ্বনন্দিত বরেণ্য ব্যক্তিত্ব অ্যারিস্টোটল পৃথিবীর ইতিহাসে, আর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা সাহিত্যে যে অবদান রেখেছেন, আন্নের হাজার গুষ্টি আইলেও হ্যাগো বাম-পায়ের কানি আঙুলের ধারে কাছেও যাইতে পারবেন না!

  

আরে ভাই আমার আর আমার চৌদ্দগুষ্টির কারো এই দুই বিশ্বনন্দিত বরেণ্য ব্যক্তিত্বের কাছেও যেতে হবে না। কিন্তু ইঁনারা দুই বিশ্বনন্দিত বরেণ্য ব্যক্তিত্ব, বাংলাদেশের শুধু ... মারেনি, তারা পুরো বাঙালি জাতির ... মেরেছেন। তুই বলতে পারিস আমরা কি এমন পাপ করলাম যে তোর ভাষায় এই দুই বিশ্বনন্দিত বরেণ্য ব্যক্তিত্বের প্রচেষ্টায় আজ আমরা বাঙালি নাকি মধ্যপ্রাচ্যে ডাস্টবিনে ফেলে দেয়া ওঁচা মিসকিন হিসেবে পৃথিবীতে বিচরণ করবো! ভাবতে পারিস তোর এই দুই বিশ্বনন্দিত বরেণ্য ব্যক্তিত্বের ঠেলায় আমাদের জাতিসত্তা নিয়ে টানাটানি শুরু হোয়েছে। আমরা কি বাঙালি নাকি আমরা ভিনগ্রহের প্রাণী উট সাবক!


এইটা আপনি কি বলচেন যে, কবি শামসুর রাহমান বলেচেন, “অদ্ভুত এক উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ” কিন্তু কবি শামসুর রাহমান কখোনোই বলেননি যে বাঙালি আর বাঙালি নাই হ্যারা ব্যেবাগতে উষ্ট্র সাবক!


কিন্তু ভাবেতো তাই দেখা যাচ্ছে, তোরা মরুভুমির কঠিন আবহাওয়ায় বসবাসরত পাবলিকের আচার অনুষ্ঠান লালন পালন করলে তোকে কে বলবে যে তুই বাঙালি নাকি পবিত্র উষ্ট্র দেশের বাসিন্দা?


আপনে মিয়া কথা ঘুরায়েন না, এ্যাতক্ষণ কোইছেন, দুই বিশ্বনন্দিত বরেণ্য ব্যক্তিত্ব অ্যারিস্টোটল আর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলাদেশের জী-মারের অহন আবার বাঙালিরে পবিত্র উটের দেশে নিয়া ফালাইতে চান! সোজাসাপটা কন মিয়া আপনে ক্যান কোইছেন দুই বিশ্বনন্দিত বরেণ্য ব্যক্তিত্ব অ্যারিস্টোটল আর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলাদেশের তথা বাঙালির বারটা বাজাইছে?


দ্যাখ, বিশ্বখ্যাত, দার্শনিক, বৈজ্ঞানিক, তর্কশাস্ত্রবিদ, গাণিতিক জনাব অ্যারিস্টোটল তার পোয়েটিকসসে বলেছেন, একটি দেশ সব সময় পরিচালিত হয় ওই দেশের জনপ্রিয় নেতা দ্বারা, জনপ্রিয় নেতা জনগণের ভোটে সব সময় দেশ পরিচালনার ভার লাভ করে। কিন্তু দেশের শিক্ষিত জনগোষ্ঠি কখোনোই জনতার ভোটে দেশ পরিচালনার সুযোগ পান না।  এই অ্যারিস্টোটলের কথা শুনে তোর বাংলাদেশের লোকেরা ১৯৭১-এ যেমন জনপ্রিয় নেতাকে ভোট দিলেন, তারপর তার দেশ পরিচালনার বহর দেখে তাকে ফুটো করলো। দেশ পড়লো অথৈ আঁধারে। বাঙালি জাতির বারোটা। তার পরবর্তীতে “টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া সবাই বলে জিয়া জিয়া”। এমনি অপর এক জনপ্রিয় নেতাকে তোরা আবার গুলি কোরে হত্যা করলি। আবার বাঙালি অথৈ পাথারে। এ্যাখোন বাঙালি যদি  বিশ্বনন্দিত বরেণ্য ব্যক্তিত্ব অ্যারিস্টোটলের কথা না শুনতো তাহলে আজ বাঙলার ইতিহাস স্বর্ণাক্ষরে লেখা হতো। তোরা অ্যারিস্টোটলের কথা শুনলি আর মরলি।


এইডা আবার কী কথা! বিদেশে কি পাবলিক জনপ্রিয় নেতারে ভোট দ্যায় না?


জ্বী, বিদেশে পাবলিক জনপ্রিয় নেতাকে ভোট দ্যায়, কিন্তু ওই নেতারা সিনেট মিনেট, কংগ্রেস, আপার বেঞ্চ লোয়ার বেঞ্চ করে সব শিক্ষিতদের দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দ্যায়, ফলে তোর ওই জনপ্রিয় নেতাকে কখোনোই স্বৈরাচার হবার চান্স দেয়া হয় না। কিন্তু তোর দেশের শিক্ষিতরা তো কোণঠাসা, কারণ তোর জনপ্রিয় নেতাটি তার জনপ্রিয়তায় এ্যাতোই অন্ধ যে, কখন জেন-জি তার ...’ মারছে তাও টের পেলেন না। 


আচ্ছা বুঝলাম হালার অ্যারিস্টোটলের কথা হুনি বাঙালি পাবলিক শিক্ষিতরে বাদদি জনপ্রিয় নেতারে ভুট প্রদান করি, নিজের...নিজেই ধ্বংস করছে। কিন্তু কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুররে এর মইধ্যে হান্দাইলেন ক্যামনে? হ্যায় ক্যেমনে বাঙালি জাতির...মারের?


আরে অশিক্ষিত বর্বর বাঙাল, মবগোষ্টির সক্রিয় কাঙাল, তুই কেন জানিস না যে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার শ্যামা নৃত্যনাট্যে, রাজকোষে চুরি হবার পর লিখলেন, “চুরি হয়ে গেছে রাজকোষে, চোর চাই, চোর চাই, যে কোরেই হোক, হোক সে অন্য কোনো লোক...”


তো হ্যায়তো ঠিকই কোইছে, চোর চাই, চোর চাই, যে কোরেই হোক...ব্যাস পুলিশ তো চুর ধোরবোই।


“আরে জঙ্গল পুলিশ তো চোর ধরবেই, এটাই ওদের ডিউটি। কিন্তু পুলিশ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের কথা শুনে করলো কি, ছিনতাই করলো নীল মোটর সাইকেল, পুলিশ ধরলো লাল মোটর সাইকেল, কারণ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, “চোর চাই, চোর চাই, যে কোরেই হোক, হোক সে অন্য কোনো লোক...” ব্যাস বিশ্ব কবির কথামতো পুলিশ অন্যলোককে ধরে আনলো। এখন তুইই বল কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এইসব নোংরা বুদ্ধি না দিলে, পুলিশ কি এই বাঁকা পথে যেতো?তুই বল?


গুরু আপনে ঠিকই কোইছেন, এই দুই বিশ্ব নন্দিত বরেণ্য ব্যক্তিত্ব শুধু বাংলাদেশের  ...মারেনি, ইঁনারা বাংলাদেশের পরবর্তী প্রজন্মের ...জেন-জিরও... মেরে বসে আছেন। ইঁনাদের বাংলাদেশে ব্যান্ড করা উচিৎ। আন্নের কথাই ঠিক হালাগোরে হিডান।


তাহলে তুইও আমার সাথে বল “পিটাও অ্যরিস্টোটল, মারেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর...”


আরে শুধু আমি কমু ক্যান পুরা বাংলাদেশের পাবলিকে কোইবো, “পিটাও অ্যরিস্টোটল, মারেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর...” 

[লেখক: চলচ্চিত্রকার]


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত