সংবাদ

বিশ্ব রাজনীতির মোড় ঘোরানো সেই নাইন-ইলেভেন


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩২ পিএম

বিশ্ব রাজনীতির মোড় ঘোরানো সেই নাইন-ইলেভেন

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সকালে অন্য যেকোনো দিনের মতোই স্বাভাবিক কর্মব্যস্ততায় মুখর হয়ে উঠেছিল নিউইয়র্ক শহর। অফিসে ছুটাছুটি, কিংবা বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্র বা ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের সুউচ্চ ভবন দুটির দিকে তাকিয়ে থাকা পর্যটকদের ভিড়—সব মিলিয়ে সকালটি ছিল অত্যন্ত পরিচিত।

তবে কয়েক মিনিটের ব্যবধানেই সেই চিরচেনা রূপ বদলে যায় এক অভূতপূর্ব ট্র্যাজেডিতে। মাত্র ১০২ মিনিটের তাণ্ডবে চারটি যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাই, টুইন টাওয়ার ও পেন্টাগনে ভয়াবহ আঘাত এবং পেনসিলভানিয়ায় বিমান পতনের ঘটনা বিশ্ব রাজনীতি ও নিরাপত্তার সমীকরণ এক লহমায় বদলে দেয়।
​আল-কায়েদা-সংশ্লিষ্ট ১৯ জন সন্ত্রাসী চারটি বাণিজ্যিক বিমান ছিনতাই করে এই সমন্বিত হামলা চালায়। সকাল ৮টা ৪৬ মিনিটে আমেরিকান এয়ারলাইনস ফ্লাইট ১১ নর্থ টাওয়ারে আঘাত হানলে তীব্র আগুন ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমে এটিকে দুর্ঘটনা মনে করা হলেও মাত্র ১৭ মিনিট পর, সকাল ৯টা ৩ মিনিটে দ্বিতীয় বিমান ইউনাইটেড এয়ারলাইনস ফ্লাইট ১৭৫ সাউথ টাওয়ারে আছড়ে পড়লে নিশ্চিত হওয়া যায় এটি পরিকল্পিত হামলা।
৯/১১ মেমোরিয়ালের তথ্য অনুযায়ী, ভবনে থাকা প্রায় সাড়ে ১৬ হাজার মানুষ জীবন বাঁচাতে হুড়োহুড়ি করে নেমে আসার চেষ্টা করছিলেন, আর তাঁদের উদ্ধারে জীবন বাজি রেখে ভেতরে ঢুকছিলেন দমকলকর্মী ও পুলিশ সদস্যরা।
​নিউইয়র্কের এই তাণ্ডবের মধ্যেই সকাল ৯টা ৩৭ মিনিটে তৃতীয় বিমান আমেরিকান এয়ারলাইনস ফ্লাইট ৭৭ আছড়ে পড়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনে। এদিকে চতুর্থ বিমান ইউনাইটেড এয়ারলাইনস ফ্লাইট ৯৩-এর যাত্রীরা অন্য হামলার খবর জেনে ফেলে ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। ফলে বিমানটি মূল লক্ষ্যবস্তু ওয়াশিংটন ডিসিতে পৌঁছাতে না পেরে সকাল ১০টা ৩ মিনিটে পেনসিলভানিয়ার শ্যাঙ্কসভিলের এক মাঠে বিধ্বস্ত হয়।
এর মধ্যেই অতিরিক্ত উত্তাপ ও কাঠামোগত ক্ষতির কারণে সকাল ৯টা ৫৯ মিনিটে সাউথ টাওয়ার এবং ১০টা ২৮ মিনিটে নর্থ টাওয়ার ধসে পড়ে ধুলায় পরিণত হয়।
​এই নজিরবিহীন হামলায় ৯০টি দেশের মোট ২ হাজার ৯৭৭ জন প্রাণ হারান, যার মধ্যে ২ হাজার ৭৫৩ জন নিউইয়র্কে, ১৮৪ জন পেন্টাগনে এবং ৪০ জন বিমান ফ্লাইট ৯৩-এ নিহত হন। হামলার পর মার্কিন নিরাপত্তা নীতি, আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল ও ভূ-রাজনীতিতে শুরু হয় নতুন অধ্যায়, যার জেরে আফগানিস্তান যুদ্ধসহ একাধিক বৈশ্বিক ঘটনা ঘটে।
আজও নিউইয়র্কের দুর্ঘটনাস্থলে নির্মিত স্মৃতিফলকে নিহতদের নাম খোদাই করা রয়েছে, যা কেবল একটি ট্র্যাজেডির গল্প নয়, বরং মানুষের সাহস ও বিশ্ব ইতিহাস বদলে যাওয়ার এক চিরন্তন সাক্ষী।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


বিশ্ব রাজনীতির মোড় ঘোরানো সেই নাইন-ইলেভেন

প্রকাশের তারিখ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সকালে অন্য যেকোনো দিনের মতোই স্বাভাবিক কর্মব্যস্ততায় মুখর হয়ে উঠেছিল নিউইয়র্ক শহর। অফিসে ছুটাছুটি, কিংবা বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্র বা ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের সুউচ্চ ভবন দুটির দিকে তাকিয়ে থাকা পর্যটকদের ভিড়—সব মিলিয়ে সকালটি ছিল অত্যন্ত পরিচিত।

তবে কয়েক মিনিটের ব্যবধানেই সেই চিরচেনা রূপ বদলে যায় এক অভূতপূর্ব ট্র্যাজেডিতে। মাত্র ১০২ মিনিটের তাণ্ডবে চারটি যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাই, টুইন টাওয়ার ও পেন্টাগনে ভয়াবহ আঘাত এবং পেনসিলভানিয়ায় বিমান পতনের ঘটনা বিশ্ব রাজনীতি ও নিরাপত্তার সমীকরণ এক লহমায় বদলে দেয়।
​আল-কায়েদা-সংশ্লিষ্ট ১৯ জন সন্ত্রাসী চারটি বাণিজ্যিক বিমান ছিনতাই করে এই সমন্বিত হামলা চালায়। সকাল ৮টা ৪৬ মিনিটে আমেরিকান এয়ারলাইনস ফ্লাইট ১১ নর্থ টাওয়ারে আঘাত হানলে তীব্র আগুন ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমে এটিকে দুর্ঘটনা মনে করা হলেও মাত্র ১৭ মিনিট পর, সকাল ৯টা ৩ মিনিটে দ্বিতীয় বিমান ইউনাইটেড এয়ারলাইনস ফ্লাইট ১৭৫ সাউথ টাওয়ারে আছড়ে পড়লে নিশ্চিত হওয়া যায় এটি পরিকল্পিত হামলা।
৯/১১ মেমোরিয়ালের তথ্য অনুযায়ী, ভবনে থাকা প্রায় সাড়ে ১৬ হাজার মানুষ জীবন বাঁচাতে হুড়োহুড়ি করে নেমে আসার চেষ্টা করছিলেন, আর তাঁদের উদ্ধারে জীবন বাজি রেখে ভেতরে ঢুকছিলেন দমকলকর্মী ও পুলিশ সদস্যরা।
​নিউইয়র্কের এই তাণ্ডবের মধ্যেই সকাল ৯টা ৩৭ মিনিটে তৃতীয় বিমান আমেরিকান এয়ারলাইনস ফ্লাইট ৭৭ আছড়ে পড়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনে। এদিকে চতুর্থ বিমান ইউনাইটেড এয়ারলাইনস ফ্লাইট ৯৩-এর যাত্রীরা অন্য হামলার খবর জেনে ফেলে ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। ফলে বিমানটি মূল লক্ষ্যবস্তু ওয়াশিংটন ডিসিতে পৌঁছাতে না পেরে সকাল ১০টা ৩ মিনিটে পেনসিলভানিয়ার শ্যাঙ্কসভিলের এক মাঠে বিধ্বস্ত হয়।
এর মধ্যেই অতিরিক্ত উত্তাপ ও কাঠামোগত ক্ষতির কারণে সকাল ৯টা ৫৯ মিনিটে সাউথ টাওয়ার এবং ১০টা ২৮ মিনিটে নর্থ টাওয়ার ধসে পড়ে ধুলায় পরিণত হয়।
​এই নজিরবিহীন হামলায় ৯০টি দেশের মোট ২ হাজার ৯৭৭ জন প্রাণ হারান, যার মধ্যে ২ হাজার ৭৫৩ জন নিউইয়র্কে, ১৮৪ জন পেন্টাগনে এবং ৪০ জন বিমান ফ্লাইট ৯৩-এ নিহত হন। হামলার পর মার্কিন নিরাপত্তা নীতি, আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল ও ভূ-রাজনীতিতে শুরু হয় নতুন অধ্যায়, যার জেরে আফগানিস্তান যুদ্ধসহ একাধিক বৈশ্বিক ঘটনা ঘটে।
আজও নিউইয়র্কের দুর্ঘটনাস্থলে নির্মিত স্মৃতিফলকে নিহতদের নাম খোদাই করা রয়েছে, যা কেবল একটি ট্র্যাজেডির গল্প নয়, বরং মানুষের সাহস ও বিশ্ব ইতিহাস বদলে যাওয়ার এক চিরন্তন সাক্ষী।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত