কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার উত্তর চরপুক্ষিয়া গ্রামে অর্থের বিনিময়ে শিশু সন্তান হস্তান্তরের একাধিক অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, গত কয়েক বছরে গ্রামের কয়েকটি পরিবার বিভিন্ন অঙ্কের টাকার বিনিময়ে নিজেদের সন্তান অন্যের কাছে তুলে দিয়েছে। এসব ঘটনার পেছনে দারিদ্র্যের পাশাপাশি মাদকের প্রভাব রয়েছে বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের।
তবে শিশুদের কাউকে বিক্রি করা হয়েছে, নাকি দত্তক দেওয়া হয়েছে–এ নিয়ে রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য। সর্বশেষ গত ২ সেপ্টেম্বর জন্ম নেওয়া এক নবজাতককে ৬০ হাজার টাকার বিনিময়ে অন্যের কাছে হস্তান্তরের অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এর আগেও উত্তর চরপুক্ষিয়া গ্রামের কয়েকটি পরিবার অর্থের বিনিময়ে শিশু সন্তান অন্যের কাছে তুলে দিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে জর্জ মিয়ার ছেলে সাদ্দাম হোসেনের দুই স্ত্রীর ঘরে জন্ম নেওয়া দুটি শিশুকে যথাক্রমে ১ লাখ ৫০ হাজার ও ২০ হাজার টাকা, আসাদ মিয়ার ছেলে জাকির হোসেনের সন্তানকে ৭৭ হাজার টাকা এবং মফিজ উদ্দিনের ছেলে আসাদ মিয়ার সন্তানকে ২ লাখ টাকার বিনিময়ে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি।
সর্বশেষ ঘটনার সূত্রপাত গত ২ সেপ্টেম্বর। স্থানীয় জাকির মিয়ার অভিযোগ, তার স্ত্রী ফারজানা একদিন বয়সি নবজাতক সন্তানকে তার অজান্তে ৬০ হাজার টাকার বিনিময়ে অন্যের কাছে দিয়ে দিয়েছেন। এ ঘটনায় তিনি গত ৬ সেপ্টেম্বর কটিয়াদী থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
জাকির মিয়া বলেন, তার স্ত্রী মাদকাসক্ত এবং মাদকের টাকা জোগাড় করতেই সন্তানকে তার অজান্তে হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বাবা হয়ে আমি আমার সন্তানের মুখও দেখতে পারিনি। আমি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’
তবে জাকির মিয়ার স্ত্রী ফারজানা তার স্বামীর অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, সন্তান হস্তান্তরের জন্য বরং তার স্বামীই আগ্রহী ছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিবেশী মঙ্গলা বেগমের মাধ্যমে একজন ক্রেতার সন্ধান পাওয়ার পর তার স্বামীই সন্তান বিক্রির উদ্যোগ নেন। সন্তান জন্ম দেওয়ার পর তিনি অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ওই সময় তাকে, তার মা ও প্রতিবেশী মঙ্গলা বেগমকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে মঙ্গলা বেগমের বাড়িতে গেলে স্থানীয়রা জানান, তিনি একজন ভিক্ষুক এবং কয়েক দিন ধরে বাড়িতে নেই।
গ্রামবাসীর অভিযোগ, কিছু পরিবারে একাধিক সদস্য মাদক সেবনের সঙ্গে জড়িত। ফলে সংসারে আর্থিক সংকট তৈরি হচ্ছে এবং সেই সুযোগে শিশুদের অর্থের বিনিময়ে অন্যের কাছে তুলে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে। কোনো কোনো শিশুকে একবার হস্তান্তরের পর পরবর্তীতে আরও বেশি অর্থের বিনিময়ে অন্যত্র দেওয়া হয়েছে। এতে শিশুদের প্রকৃত অবস্থান, পরিচয় ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
কটিয়াদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, জাকির মিয়ার অভিযোগ পাওয়ার পর তিনি নিজে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখেছেন। প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দারিদ্র্যের কারণে বিভিন্ন সময়ে অভিভাবকেরা সন্তানদের টাকার বিনিময়ে দত্তক দিয়েছেন বলে জানা গেছে। মাদক নির্মূলের পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধিতে আইনি ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার উত্তর চরপুক্ষিয়া গ্রামে অর্থের বিনিময়ে শিশু সন্তান হস্তান্তরের একাধিক অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, গত কয়েক বছরে গ্রামের কয়েকটি পরিবার বিভিন্ন অঙ্কের টাকার বিনিময়ে নিজেদের সন্তান অন্যের কাছে তুলে দিয়েছে। এসব ঘটনার পেছনে দারিদ্র্যের পাশাপাশি মাদকের প্রভাব রয়েছে বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের।
তবে শিশুদের কাউকে বিক্রি করা হয়েছে, নাকি দত্তক দেওয়া হয়েছে–এ নিয়ে রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য। সর্বশেষ গত ২ সেপ্টেম্বর জন্ম নেওয়া এক নবজাতককে ৬০ হাজার টাকার বিনিময়ে অন্যের কাছে হস্তান্তরের অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এর আগেও উত্তর চরপুক্ষিয়া গ্রামের কয়েকটি পরিবার অর্থের বিনিময়ে শিশু সন্তান অন্যের কাছে তুলে দিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে জর্জ মিয়ার ছেলে সাদ্দাম হোসেনের দুই স্ত্রীর ঘরে জন্ম নেওয়া দুটি শিশুকে যথাক্রমে ১ লাখ ৫০ হাজার ও ২০ হাজার টাকা, আসাদ মিয়ার ছেলে জাকির হোসেনের সন্তানকে ৭৭ হাজার টাকা এবং মফিজ উদ্দিনের ছেলে আসাদ মিয়ার সন্তানকে ২ লাখ টাকার বিনিময়ে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি।
সর্বশেষ ঘটনার সূত্রপাত গত ২ সেপ্টেম্বর। স্থানীয় জাকির মিয়ার অভিযোগ, তার স্ত্রী ফারজানা একদিন বয়সি নবজাতক সন্তানকে তার অজান্তে ৬০ হাজার টাকার বিনিময়ে অন্যের কাছে দিয়ে দিয়েছেন। এ ঘটনায় তিনি গত ৬ সেপ্টেম্বর কটিয়াদী থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
জাকির মিয়া বলেন, তার স্ত্রী মাদকাসক্ত এবং মাদকের টাকা জোগাড় করতেই সন্তানকে তার অজান্তে হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বাবা হয়ে আমি আমার সন্তানের মুখও দেখতে পারিনি। আমি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’
তবে জাকির মিয়ার স্ত্রী ফারজানা তার স্বামীর অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, সন্তান হস্তান্তরের জন্য বরং তার স্বামীই আগ্রহী ছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিবেশী মঙ্গলা বেগমের মাধ্যমে একজন ক্রেতার সন্ধান পাওয়ার পর তার স্বামীই সন্তান বিক্রির উদ্যোগ নেন। সন্তান জন্ম দেওয়ার পর তিনি অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ওই সময় তাকে, তার মা ও প্রতিবেশী মঙ্গলা বেগমকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে মঙ্গলা বেগমের বাড়িতে গেলে স্থানীয়রা জানান, তিনি একজন ভিক্ষুক এবং কয়েক দিন ধরে বাড়িতে নেই।
গ্রামবাসীর অভিযোগ, কিছু পরিবারে একাধিক সদস্য মাদক সেবনের সঙ্গে জড়িত। ফলে সংসারে আর্থিক সংকট তৈরি হচ্ছে এবং সেই সুযোগে শিশুদের অর্থের বিনিময়ে অন্যের কাছে তুলে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে। কোনো কোনো শিশুকে একবার হস্তান্তরের পর পরবর্তীতে আরও বেশি অর্থের বিনিময়ে অন্যত্র দেওয়া হয়েছে। এতে শিশুদের প্রকৃত অবস্থান, পরিচয় ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
কটিয়াদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, জাকির মিয়ার অভিযোগ পাওয়ার পর তিনি নিজে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখেছেন। প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দারিদ্র্যের কারণে বিভিন্ন সময়ে অভিভাবকেরা সন্তানদের টাকার বিনিময়ে দত্তক দিয়েছেন বলে জানা গেছে। মাদক নির্মূলের পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধিতে আইনি ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন