সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর স্থগিতের পরই আদানির বিদ্যুৎ বন্ধ


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:২৯ পিএম

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর স্থগিতের পরই আদানির বিদ্যুৎ বন্ধ
ছবি : সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন ভারত সফর না করার সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশের ঠিক পরদিনই ভারতের আদানি পাওয়ার থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ হঠাৎ অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে। ভারতীয় প্রতিষ্ঠানটি কারিগরি ত্রুটির কথা বললেও, ঢাকাবাসীর মনে প্রশ্ন জেগেছে–এই সংকট নিছক কাকতালীয়, নাকি কূটনৈতিক চাপের একটি কৌশল?

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ূন কবীর জানান, আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নিচ্ছেন না। কারণ হিসেবে বলা হয়, আমন্ত্রণটি সরাসরি দ্বিপক্ষীয় ছিল না এবং দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য আগে ‘অনুকূল পরিবেশ’ প্রয়োজন। এই ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ভারতের ঝাড়খণ্ডের গোড্ডায় অবস্থিত আদানির ১,৬০০ মেগাওয়াটের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৮০০ মেগাওয়াটের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। ফলে কেন্দ্রটি থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ ১,৪০০ মেগাওয়াট থেকে কমে সাড়ে সাতশত মেগাওয়াটের নিচে নেমে আসে, যা দেশজুড়ে লোডশেডিং সংকটকে আরও তীব্র করে তুলেছে।

আদানি পাওয়ারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রের বয়লারে যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দেওয়ায় ইউনিটটি বন্ধ করতে হয়েছে এবং তা পুরোপুরি সচল হতে তিন থেকে চার দিন সময় লাগবে। এর আগে সেপ্টেম্বরের শুরুতেই ভারতীয় রেলপথে কয়লা পরিবহনে সংকটের কথাও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে (পিডিবি) জানিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি।

তবে বিদ্যুৎখাত ও ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকরা কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের সঙ্গে এই বিদ্যুৎ ঘাটতির সময়ের কাকতালীয় মিল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ২০১৭ সালে করা দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির অধীনে বাংলাদেশ পূর্ণ মূল্য পরিশোধ করেই আদানি থেকে বিদ্যুৎ কেনে। চুক্তি বহাল থাকা সত্ত্বেও কেন বারবার কয়লা সরবরাহ ও কারিগরি জটিলতা দেখা দিচ্ছে এবং চুক্তিতে এর সুনির্দিষ্ট কী আইনি সুরক্ষা ছিল, তা এখন পুনর্মূল্যায়নের দাবি উঠছে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শাহাব এনাম খান মনে করেন, বাংলাদেশ কোনো 'ভারতবিরোধী' অবস্থান নিচ্ছে না, বরং নতুন বাস্তবতায় নিজেদের সার্বভৌম নীতি প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। বিশ্লেষকদের মতে, বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা জাতীয় বিদ্যুৎ সুরক্ষায় বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এটি সম্পূর্ণ কারিগরি কোনো ঘটনা, নাকি কৌশলগত রাজনৈতিক পদক্ষেপ–তা আদানি ও ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সুস্পষ্ট প্রযুক্তিগত ব্যাখ্যা ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হতে পারে।

সূত্র: বাংলাভিশন

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর স্থগিতের পরই আদানির বিদ্যুৎ বন্ধ

প্রকাশের তারিখ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন ভারত সফর না করার সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশের ঠিক পরদিনই ভারতের আদানি পাওয়ার থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ হঠাৎ অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে। ভারতীয় প্রতিষ্ঠানটি কারিগরি ত্রুটির কথা বললেও, ঢাকাবাসীর মনে প্রশ্ন জেগেছে–এই সংকট নিছক কাকতালীয়, নাকি কূটনৈতিক চাপের একটি কৌশল?

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ূন কবীর জানান, আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নিচ্ছেন না। কারণ হিসেবে বলা হয়, আমন্ত্রণটি সরাসরি দ্বিপক্ষীয় ছিল না এবং দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য আগে ‘অনুকূল পরিবেশ’ প্রয়োজন। এই ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ভারতের ঝাড়খণ্ডের গোড্ডায় অবস্থিত আদানির ১,৬০০ মেগাওয়াটের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৮০০ মেগাওয়াটের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। ফলে কেন্দ্রটি থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ ১,৪০০ মেগাওয়াট থেকে কমে সাড়ে সাতশত মেগাওয়াটের নিচে নেমে আসে, যা দেশজুড়ে লোডশেডিং সংকটকে আরও তীব্র করে তুলেছে।

আদানি পাওয়ারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রের বয়লারে যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দেওয়ায় ইউনিটটি বন্ধ করতে হয়েছে এবং তা পুরোপুরি সচল হতে তিন থেকে চার দিন সময় লাগবে। এর আগে সেপ্টেম্বরের শুরুতেই ভারতীয় রেলপথে কয়লা পরিবহনে সংকটের কথাও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে (পিডিবি) জানিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি।

তবে বিদ্যুৎখাত ও ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকরা কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের সঙ্গে এই বিদ্যুৎ ঘাটতির সময়ের কাকতালীয় মিল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ২০১৭ সালে করা দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির অধীনে বাংলাদেশ পূর্ণ মূল্য পরিশোধ করেই আদানি থেকে বিদ্যুৎ কেনে। চুক্তি বহাল থাকা সত্ত্বেও কেন বারবার কয়লা সরবরাহ ও কারিগরি জটিলতা দেখা দিচ্ছে এবং চুক্তিতে এর সুনির্দিষ্ট কী আইনি সুরক্ষা ছিল, তা এখন পুনর্মূল্যায়নের দাবি উঠছে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শাহাব এনাম খান মনে করেন, বাংলাদেশ কোনো 'ভারতবিরোধী' অবস্থান নিচ্ছে না, বরং নতুন বাস্তবতায় নিজেদের সার্বভৌম নীতি প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। বিশ্লেষকদের মতে, বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা জাতীয় বিদ্যুৎ সুরক্ষায় বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এটি সম্পূর্ণ কারিগরি কোনো ঘটনা, নাকি কৌশলগত রাজনৈতিক পদক্ষেপ–তা আদানি ও ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সুস্পষ্ট প্রযুক্তিগত ব্যাখ্যা ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হতে পারে।

সূত্র: বাংলাভিশন


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত