পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় ডেঙ্গুর প্রকোপ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। ধারণক্ষমতার তুলনায় কয়েক গুণ বেশি রোগী ভর্তি থাকায় চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ। তবে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও এখন পর্যন্ত এ হাসপাতালে ডেঙ্গুতে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত হাসপাতালটিতে ৩৯২ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে শুধু গত মাসেই ভর্তি হয়েছেন ১২৮ জন। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ১৪০ থেকে ১৪৫ জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। কিন্তু অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে বর্তমানে মাত্র ১৯ শয্যার সুবিধা নিয়ে মূল কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। ফলে শয্যাসংকটে বাধ্য হয়ে অনেক রোগীকে হাসপাতালের মেঝেতেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের বড় একটি অংশ নেছারাবাদের বাসিন্দা হলেও অন্তত ১৪০ জন রোগী এসেছেন পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন উপজেলা ও জেলা থেকে। স্থানীয়দের মতে, তুলনামূলক ভালো চিকিৎসাসেবা ও সঠিক ব্যবস্থাপনার কারণে আশপাশের এলাকার রোগীরাও এখানে চিকিৎসা নিতে আসছেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নেছারাবাদে ডেঙ্গু বিস্তারের অন্যতম প্রধান কারণ স্থানীয় নার্সারি এবং অপরিকল্পিতভাবে ফেলে রাখা ডাবের খোসা। নার্সারির টবে জমে থাকা পানি ও বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ডাবের খোসায় এডিস মশার লার্ভা দ্রুত বংশবিস্তার করছে। এ ছাড়া বাড়ির আঙিনায় ফেলে রাখা পরিত্যক্ত পাত্র এবং ছাদের খোলা পানির ট্যাংকেও এডিস মশার প্রজননস্থল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে বিভিন্ন এলাকা, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক সভা, কর্মশালা এবং লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে। এসব কার্যক্রমে উপজেলা ও পৌর প্রশাসন যুক্ত রয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে বাড়ি ও চারপাশ পরিষ্কার রাখা, পানি জমতে না দেওয়া এবং নিয়মিত মশারি ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে হাসপাতালের শয্যাসংকট নিরসনে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মঞ্জুর তদারকিতে ১০০ শয্যার নতুন ভবন নির্মাণের প্রক্রিয়া চলছে; যার অংশ হিসেবে এরই মধ্যে মাটি পরীক্ষার কাজ শুরু হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামান জানান, জরুরি ভিত্তিতে বর্তমান সংকট সামাল দিতে শিগগিরই ২০ শয্যার একটি টিনশেড ভবন চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় ডেঙ্গুর প্রকোপ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। ধারণক্ষমতার তুলনায় কয়েক গুণ বেশি রোগী ভর্তি থাকায় চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ। তবে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও এখন পর্যন্ত এ হাসপাতালে ডেঙ্গুতে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত হাসপাতালটিতে ৩৯২ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে শুধু গত মাসেই ভর্তি হয়েছেন ১২৮ জন। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ১৪০ থেকে ১৪৫ জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। কিন্তু অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে বর্তমানে মাত্র ১৯ শয্যার সুবিধা নিয়ে মূল কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। ফলে শয্যাসংকটে বাধ্য হয়ে অনেক রোগীকে হাসপাতালের মেঝেতেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের বড় একটি অংশ নেছারাবাদের বাসিন্দা হলেও অন্তত ১৪০ জন রোগী এসেছেন পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন উপজেলা ও জেলা থেকে। স্থানীয়দের মতে, তুলনামূলক ভালো চিকিৎসাসেবা ও সঠিক ব্যবস্থাপনার কারণে আশপাশের এলাকার রোগীরাও এখানে চিকিৎসা নিতে আসছেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নেছারাবাদে ডেঙ্গু বিস্তারের অন্যতম প্রধান কারণ স্থানীয় নার্সারি এবং অপরিকল্পিতভাবে ফেলে রাখা ডাবের খোসা। নার্সারির টবে জমে থাকা পানি ও বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ডাবের খোসায় এডিস মশার লার্ভা দ্রুত বংশবিস্তার করছে। এ ছাড়া বাড়ির আঙিনায় ফেলে রাখা পরিত্যক্ত পাত্র এবং ছাদের খোলা পানির ট্যাংকেও এডিস মশার প্রজননস্থল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে বিভিন্ন এলাকা, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক সভা, কর্মশালা এবং লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে। এসব কার্যক্রমে উপজেলা ও পৌর প্রশাসন যুক্ত রয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে বাড়ি ও চারপাশ পরিষ্কার রাখা, পানি জমতে না দেওয়া এবং নিয়মিত মশারি ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে হাসপাতালের শয্যাসংকট নিরসনে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মঞ্জুর তদারকিতে ১০০ শয্যার নতুন ভবন নির্মাণের প্রক্রিয়া চলছে; যার অংশ হিসেবে এরই মধ্যে মাটি পরীক্ষার কাজ শুরু হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামান জানান, জরুরি ভিত্তিতে বর্তমান সংকট সামাল দিতে শিগগিরই ২০ শয্যার একটি টিনশেড ভবন চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন