সংবাদ

চীনের শক্তি-ভারতের বাজার, কে কাকে চাপে ফেলবে?


দীপক মুখার্জী, কলকাতা
দীপক মুখার্জী, কলকাতা
প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৪ পিএম

চীনের শক্তি-ভারতের বাজার, কে কাকে চাপে ফেলবে?
ছবি : সংগৃহীত

সীমান্তে উত্তেজনা কমেছে, কিন্তু ভারত-চীনের আসল প্রতিযোগিতা এখন অন্য ময়দানে—বাণিজ্য, প্রযুক্তি, বাজার আর কৌশলগত নির্ভরতার প্রশ্নে। ২০২০ সালের সংঘাতের পর যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল, ধীরে ধীরে তা কমানোর চেষ্টা চলছে। সরাসরি বিমান যোগাযোগ ফিরেছে, বাণিজ্যও আবার বাড়ছে। কিন্তু সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার পথে সবচেয়ে বড় বাধা এখনও পারস্পরিক অবিশ্বাস।

এই বাস্তবতায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আলোচনায় ভিসা, বিনিয়োগ, বাজারে প্রবেশাধিকার এবং গুরুত্বপূর্ণ শিল্পের সরবরাহ-শৃঙ্খল বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। ভারতের ব্যবসা ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে চীনা প্রকৌশলী এবং বিশেষজ্ঞদের প্রবেশ যেমন প্রয়োজন, তেমনই ভারত চাইছে চীনা বাজারেও তার পণ্য ও সংস্থাগুলোর জন্য আরও সুযোগ।

কিন্তু সম্পর্কের সবচেয়ে কঠিন জায়গা অর্থনীতি। ভারত-চীন বাণিজ্য দ্রুত বাড়লেও ভারসাম্য ভারতের পক্ষে নয়। বিপুল পরিমাণ চীনা পণ্য ভারতে ঢুকছে, অথচ সেই তুলনায় ভারতের রপ্তানি অনেক কম। ফলে বাণিজ্যঘাটতি শুধু অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান নয়, এখন তা কৌশলগত উদ্বেগেও পরিণত হয়েছে।

আর এখানেই চীনের শক্তি। ইলেকট্রনিক্স, বৈদ্যুতিক গাড়ি, শিল্পযন্ত্র থেকে শুরু করে বিরল খনিজ ও গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালের বহু ক্ষেত্রে চীনের প্রভাব এখনও অত্যন্ত বেশি। ভারতের শিল্প ও ওষুধ উৎপাদনেও চীনা সরবরাহের ওপর নির্ভরতা রয়েছে। ফলে রাজনৈতিক সম্পর্ক খারাপ হলেও অর্থনৈতিক সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন করার বাস্তব সুযোগ ভারতের নেই।

তবে ভারতও ধীরে ধীরে নিজের বিকল্প তৈরি করছে। দেশীয় উৎপাদন বাড়ানো, আন্তর্জাতিক সংস্থাকে ভারতে বিনিয়োগে উৎসাহ দেওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালের জন্য নতুন সরবরাহকারী খোঁজার মাধ্যমে চীনের ওপর নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা চলছে। বিশেষ করে প্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক্স উৎপাদনে ভারত নিজেকে চীনের বিকল্প কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে।

ফলে ভারত-চীন সম্পর্ক এখন আর শুধুই সীমান্তের প্রশ্ন নয়। একদিকে প্রয়োজন সহযোগিতা, অন্যদিকে প্রয়োজন নির্ভরতা কমানো—এই দুই বিপরীত বাস্তবতার মধ্যেই দিল্লির কূটনীতি এগোচ্ছে। চীনও জানে, ভারতের বিশাল বাজারকে উপেক্ষা করা সহজ নয়; আর ভারত জানে, চীনের শিল্পক্ষমতা ও সরবরাহ-শৃঙ্খল থেকে রাতারাতি বেরিয়ে আসাও সম্ভব নয়।

তাই সামনে যে সম্পর্ক তৈরি হচ্ছে, তাকে সরল বন্ধুত্ব বা সরাসরি সংঘাত—কোনও একটিতে ব্যাখ্যা করা কঠিন। বরং এটি হতে চলেছে প্রতিযোগিতা ও প্রয়োজনের এক নতুন সমীকরণ—যেখানে সীমান্তে শান্তি বজায় রেখেও অর্থনীতি, প্রযুক্তি এবং বাজারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের লড়াই চলবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


চীনের শক্তি-ভারতের বাজার, কে কাকে চাপে ফেলবে?

প্রকাশের তারিখ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

সীমান্তে উত্তেজনা কমেছে, কিন্তু ভারত-চীনের আসল প্রতিযোগিতা এখন অন্য ময়দানে—বাণিজ্য, প্রযুক্তি, বাজার আর কৌশলগত নির্ভরতার প্রশ্নে। ২০২০ সালের সংঘাতের পর যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল, ধীরে ধীরে তা কমানোর চেষ্টা চলছে। সরাসরি বিমান যোগাযোগ ফিরেছে, বাণিজ্যও আবার বাড়ছে। কিন্তু সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার পথে সবচেয়ে বড় বাধা এখনও পারস্পরিক অবিশ্বাস।

এই বাস্তবতায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আলোচনায় ভিসা, বিনিয়োগ, বাজারে প্রবেশাধিকার এবং গুরুত্বপূর্ণ শিল্পের সরবরাহ-শৃঙ্খল বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। ভারতের ব্যবসা ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে চীনা প্রকৌশলী এবং বিশেষজ্ঞদের প্রবেশ যেমন প্রয়োজন, তেমনই ভারত চাইছে চীনা বাজারেও তার পণ্য ও সংস্থাগুলোর জন্য আরও সুযোগ।

কিন্তু সম্পর্কের সবচেয়ে কঠিন জায়গা অর্থনীতি। ভারত-চীন বাণিজ্য দ্রুত বাড়লেও ভারসাম্য ভারতের পক্ষে নয়। বিপুল পরিমাণ চীনা পণ্য ভারতে ঢুকছে, অথচ সেই তুলনায় ভারতের রপ্তানি অনেক কম। ফলে বাণিজ্যঘাটতি শুধু অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান নয়, এখন তা কৌশলগত উদ্বেগেও পরিণত হয়েছে।

আর এখানেই চীনের শক্তি। ইলেকট্রনিক্স, বৈদ্যুতিক গাড়ি, শিল্পযন্ত্র থেকে শুরু করে বিরল খনিজ ও গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালের বহু ক্ষেত্রে চীনের প্রভাব এখনও অত্যন্ত বেশি। ভারতের শিল্প ও ওষুধ উৎপাদনেও চীনা সরবরাহের ওপর নির্ভরতা রয়েছে। ফলে রাজনৈতিক সম্পর্ক খারাপ হলেও অর্থনৈতিক সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন করার বাস্তব সুযোগ ভারতের নেই।

তবে ভারতও ধীরে ধীরে নিজের বিকল্প তৈরি করছে। দেশীয় উৎপাদন বাড়ানো, আন্তর্জাতিক সংস্থাকে ভারতে বিনিয়োগে উৎসাহ দেওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালের জন্য নতুন সরবরাহকারী খোঁজার মাধ্যমে চীনের ওপর নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা চলছে। বিশেষ করে প্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক্স উৎপাদনে ভারত নিজেকে চীনের বিকল্প কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে।

ফলে ভারত-চীন সম্পর্ক এখন আর শুধুই সীমান্তের প্রশ্ন নয়। একদিকে প্রয়োজন সহযোগিতা, অন্যদিকে প্রয়োজন নির্ভরতা কমানো—এই দুই বিপরীত বাস্তবতার মধ্যেই দিল্লির কূটনীতি এগোচ্ছে। চীনও জানে, ভারতের বিশাল বাজারকে উপেক্ষা করা সহজ নয়; আর ভারত জানে, চীনের শিল্পক্ষমতা ও সরবরাহ-শৃঙ্খল থেকে রাতারাতি বেরিয়ে আসাও সম্ভব নয়।

তাই সামনে যে সম্পর্ক তৈরি হচ্ছে, তাকে সরল বন্ধুত্ব বা সরাসরি সংঘাত—কোনও একটিতে ব্যাখ্যা করা কঠিন। বরং এটি হতে চলেছে প্রতিযোগিতা ও প্রয়োজনের এক নতুন সমীকরণ—যেখানে সীমান্তে শান্তি বজায় রেখেও অর্থনীতি, প্রযুক্তি এবং বাজারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের লড়াই চলবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত