সংবাদ

ড্রোন হামলায় সৌদি পাইপলাইন বন্ধ

হুথি-সৌদি সংঘাতে বাড়ছে মার্কিন তৎপরতা


সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩১ পিএম

হুথি-সৌদি সংঘাতে বাড়ছে মার্কিন তৎপরতা

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি ও জ্বালানি বাজারে ফের বড় ধরনের ঝাঁকুনি লেগেছে। ড্রোন হামলায় সৌদি আরবের কৌশলগত ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক তেল বাণিজ্যে চরম শঙ্কার ছায়া নেমেছে।

শুক্রবার সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, গত বৃহস্পতিবার পাইপলাইনটিতে একাধিক হামলা হওয়ায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

মার্কিন ও সৌদি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ইরাক থেকে উড়ে আসা ড্রোনের হামলায় রিয়াদ ও মদিনা অঞ্চলের পাইপলাইনের পাশে থাকা কয়েকটি পাম্প স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং আগুন ধরে গেছে। এর ফলে পারস্য উপসাগর থেকে ইয়ানবু বন্দরে দৈনিক প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে।

এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ইরান-সমর্থিত হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের সামরিক অভিযানে গোয়েন্দা ও লক্ষ্য নির্ধারণে মার্কিন সহায়তা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে ওয়াশিংটন। সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরবে বর্তমানে ১০০-এর বেশি মার্কিন সামরিক উপদেষ্টা সদ্যগঠিত যৌথ কমান্ডের আওতায় কাজ করছেন। পেন্টাগনের ‘ম্যাভেন’-এর আদলে প্রায় তাৎক্ষণিক যুদ্ধক্ষেত্র পর্যবেক্ষণের প্রযুক্তি এবং ভৌগোলিক তথ্যের ভিত্তিতে লক্ষ্য নির্ধারণে সৌদি বাহিনীকে সহায়তা করা হচ্ছে।

তবে ওয়াশিংটন সাফ জানিয়েছে, তারা সরাসরি হামলায় অংশ নিচ্ছে না বা যুদ্ধবিমানে জ্বালানি দিচ্ছে না। এর আগে বৃহস্পতিবার হুথিরা লোহিত সাগরের একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর দখল করলে বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে জাহাজ চলাচল মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইয়েমেনে আইআরজিসির কয়েকশ সদস্যের উপস্থিতি এবং সৌদি অবকাঠামোয় হামলার পেছনে ইরানের সংশ্লিষ্টতার সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য থাকার কথা জানিয়েছেন। হরমুজ প্রণালিতে নৌ অবরোধ ও ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে গিয়ে মার্কিন বাহিনী ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে বহুমুখী চাপে রয়েছে। অতীতে বেসামরিক প্রাণহানির তিক্ত অভিজ্ঞতা এবং দীর্ঘমেয়াদী সামরিক মোতায়েনের ঝুঁকি মাথায় রেখে ওয়াশিংটন এই সংঘাতে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে।

এদিকে, বাব আল-মান্দেবের নিয়ন্ত্রণ হারানো এবং ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে আঘাতের জাঁতাকলে পড়ে সৌদি আরবের রপ্তানি বহুমুখীকরণ পরিকল্পনা বড় পরীক্ষার মুখে পড়েছে। পাইপলাইনটির মূল অংশে বড় ক্ষতি হয়ে থাকলে এবং ওপেকভুক্ত দেশের ১৯৯০-এর দশকের সর্বনিম্ন তেল উৎপাদনের এই সংকটময় সময়ে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


হুথি-সৌদি সংঘাতে বাড়ছে মার্কিন তৎপরতা

প্রকাশের তারিখ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি ও জ্বালানি বাজারে ফের বড় ধরনের ঝাঁকুনি লেগেছে। ড্রোন হামলায় সৌদি আরবের কৌশলগত ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক তেল বাণিজ্যে চরম শঙ্কার ছায়া নেমেছে।

শুক্রবার সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, গত বৃহস্পতিবার পাইপলাইনটিতে একাধিক হামলা হওয়ায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

মার্কিন ও সৌদি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ইরাক থেকে উড়ে আসা ড্রোনের হামলায় রিয়াদ ও মদিনা অঞ্চলের পাইপলাইনের পাশে থাকা কয়েকটি পাম্প স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং আগুন ধরে গেছে। এর ফলে পারস্য উপসাগর থেকে ইয়ানবু বন্দরে দৈনিক প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে।

এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ইরান-সমর্থিত হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের সামরিক অভিযানে গোয়েন্দা ও লক্ষ্য নির্ধারণে মার্কিন সহায়তা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে ওয়াশিংটন। সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরবে বর্তমানে ১০০-এর বেশি মার্কিন সামরিক উপদেষ্টা সদ্যগঠিত যৌথ কমান্ডের আওতায় কাজ করছেন। পেন্টাগনের ‘ম্যাভেন’-এর আদলে প্রায় তাৎক্ষণিক যুদ্ধক্ষেত্র পর্যবেক্ষণের প্রযুক্তি এবং ভৌগোলিক তথ্যের ভিত্তিতে লক্ষ্য নির্ধারণে সৌদি বাহিনীকে সহায়তা করা হচ্ছে।

তবে ওয়াশিংটন সাফ জানিয়েছে, তারা সরাসরি হামলায় অংশ নিচ্ছে না বা যুদ্ধবিমানে জ্বালানি দিচ্ছে না। এর আগে বৃহস্পতিবার হুথিরা লোহিত সাগরের একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর দখল করলে বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে জাহাজ চলাচল মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইয়েমেনে আইআরজিসির কয়েকশ সদস্যের উপস্থিতি এবং সৌদি অবকাঠামোয় হামলার পেছনে ইরানের সংশ্লিষ্টতার সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য থাকার কথা জানিয়েছেন। হরমুজ প্রণালিতে নৌ অবরোধ ও ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে গিয়ে মার্কিন বাহিনী ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে বহুমুখী চাপে রয়েছে। অতীতে বেসামরিক প্রাণহানির তিক্ত অভিজ্ঞতা এবং দীর্ঘমেয়াদী সামরিক মোতায়েনের ঝুঁকি মাথায় রেখে ওয়াশিংটন এই সংঘাতে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে।

এদিকে, বাব আল-মান্দেবের নিয়ন্ত্রণ হারানো এবং ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে আঘাতের জাঁতাকলে পড়ে সৌদি আরবের রপ্তানি বহুমুখীকরণ পরিকল্পনা বড় পরীক্ষার মুখে পড়েছে। পাইপলাইনটির মূল অংশে বড় ক্ষতি হয়ে থাকলে এবং ওপেকভুক্ত দেশের ১৯৯০-এর দশকের সর্বনিম্ন তেল উৎপাদনের এই সংকটময় সময়ে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত