ঘুম থেকে উঠে বিছানা ছাড়ার আগেই এক কাপ গরম কফি অনেকের কাছেই দিনের অপরিহার্য অংশ। তবে বলিউডের ‘কিং খান’ শাহরুখ খানের সকাল শুরু হয় আরও বেশি কফি দিয়ে।
তার দাবি, সকালে তিন কাপ কফি না খাওয়া পর্যন্ত তিনি কারো সঙ্গে কথা বলতেও চান না। প্রশ্ন উঠতেই পারে, নিয়মিত একসঙ্গে তিন কাপ কফি খাওয়ার এই অভ্যাস শরীরের জন্য কতটা নিরাপদ? সম্প্রতি এক্স-এ আয়োজিত এক ‘আস্ক মি এনিথিং’ পর্বে এক ভক্ত শাহরুখ খানকে জানতে চান, বাস্তব জীবনে তিনি কী এমন কাজ করেন, যা সত্যিই ‘কিং-লাইক’। মজার ছলে সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে নিজের সকালের রুটিনের কথা জানান এই মহা তারকা।
শাহরুখ জানান, সকালে বিছানায় বসে তিন কাপ কফি শেষ না করা পর্যন্ত কেউ তার সঙ্গে কথা বলতে পারেন না। এমনকি এর কারণে কাজে পৌঁছাতে দেরি হয়ে গেলেও তিনি নিজের কফির রুটিন বদলান না। অবশ্য সেটে পৌঁছানোর পর দেরির জন্য তাকে বকুনি শুনতে হয় বলেও মজা করেছেন অভিনেতা। কফির অন্যতম প্রধান উপাদান ক্যাফিন। এটি মস্তিষ্কে অ্যাডেনোসিন নামের এমন একটি রাসায়নিকের কার্যক্রমে বাধা দেয়, যা শরীরে ঘুম ও ক্লান্তির অনুভূতি তৈরি করতে ভূমিকা রাখে। ফলে ক্যাফিন গ্রহণের পর অনেকেরই সাময়িকভাবে ঘুম ঘুম ভাব কমে যায় এবং সতেজতা বাড়ে।
তবে কফি কতটা খাওয়া যাবে, সেটি শুধু কাপের সংখ্যা দিয়ে নির্ধারণ করা যায় না। কফির ধরন, কাপের আকার এবং প্রতি কাপে ক্যাফিনের পরিমাণও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। আমেরিকার ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের মতে, সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কের জন্য দিনে সর্বোচ্চ ৪০০ মিলিগ্রাম ক্যাফিন এমন মাত্রা, যা সাধারণত নেতিবাচক প্রভাবের সঙ্গে যুক্ত নয়। তবে কফির একেক ধরনের পরিবেশনে ক্যাফিনের পরিমাণে বড় পার্থক্য থাকতে পারে।
শাহরুখ খান ঠিক কী ধরনের কফি পান করেন, তার কাপের আকার কত এবং প্রতিটি কাপে কতটা ক্যাফিন থাকে, তা জানা নেই। তাই শুধু তিন কাপ কফি পান করেন বলেই তার ক্যাফিন গ্রহণ মাত্রাতিরিক্ত, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। ক্যাফিনের প্রতি সংবেদনশীলতা ব্যক্তিভেদে আলাদা হয়। অতিরিক্ত ক্যাফিন গ্রহণের ফলে উদ্বেগ, অস্থিরতা, বুক ধড়ফড়, পেটের সমস্যা এবং ঘুমের ব্যাঘাতের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে।
তাই শাহরুখ খান তিন কাপ কফি পান করেন বলেই এই রুটিন সবার জন্য উপকারী হবে না। নিজের বয়স, শারীরিক অবস্থা ও ক্যাফিনের প্রতি সংবেদনশীলতা বিবেচনা করেই কফি খাওয়ার পরিমাণ নির্ধারণ করা উচিত। ক্যাফিন সরাসরি তারুণ্য ধরে রাখে এমন শক্ত প্রমাণ নেই, তবে এর কিছু পরোক্ষ উপকারিতা রয়েছে। শেষ পর্যন্ত শাহরুখের এই ‘কিং-সাইজ’ কফি রুটিন তার একান্ত ব্যক্তিগত অভ্যাস, তাই নিজের শরীরের প্রতিক্রিয়াকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঘুম থেকে উঠে বিছানা ছাড়ার আগেই এক কাপ গরম কফি অনেকের কাছেই দিনের অপরিহার্য অংশ। তবে বলিউডের ‘কিং খান’ শাহরুখ খানের সকাল শুরু হয় আরও বেশি কফি দিয়ে।
তার দাবি, সকালে তিন কাপ কফি না খাওয়া পর্যন্ত তিনি কারো সঙ্গে কথা বলতেও চান না। প্রশ্ন উঠতেই পারে, নিয়মিত একসঙ্গে তিন কাপ কফি খাওয়ার এই অভ্যাস শরীরের জন্য কতটা নিরাপদ? সম্প্রতি এক্স-এ আয়োজিত এক ‘আস্ক মি এনিথিং’ পর্বে এক ভক্ত শাহরুখ খানকে জানতে চান, বাস্তব জীবনে তিনি কী এমন কাজ করেন, যা সত্যিই ‘কিং-লাইক’। মজার ছলে সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে নিজের সকালের রুটিনের কথা জানান এই মহা তারকা।
শাহরুখ জানান, সকালে বিছানায় বসে তিন কাপ কফি শেষ না করা পর্যন্ত কেউ তার সঙ্গে কথা বলতে পারেন না। এমনকি এর কারণে কাজে পৌঁছাতে দেরি হয়ে গেলেও তিনি নিজের কফির রুটিন বদলান না। অবশ্য সেটে পৌঁছানোর পর দেরির জন্য তাকে বকুনি শুনতে হয় বলেও মজা করেছেন অভিনেতা। কফির অন্যতম প্রধান উপাদান ক্যাফিন। এটি মস্তিষ্কে অ্যাডেনোসিন নামের এমন একটি রাসায়নিকের কার্যক্রমে বাধা দেয়, যা শরীরে ঘুম ও ক্লান্তির অনুভূতি তৈরি করতে ভূমিকা রাখে। ফলে ক্যাফিন গ্রহণের পর অনেকেরই সাময়িকভাবে ঘুম ঘুম ভাব কমে যায় এবং সতেজতা বাড়ে।
তবে কফি কতটা খাওয়া যাবে, সেটি শুধু কাপের সংখ্যা দিয়ে নির্ধারণ করা যায় না। কফির ধরন, কাপের আকার এবং প্রতি কাপে ক্যাফিনের পরিমাণও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। আমেরিকার ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের মতে, সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কের জন্য দিনে সর্বোচ্চ ৪০০ মিলিগ্রাম ক্যাফিন এমন মাত্রা, যা সাধারণত নেতিবাচক প্রভাবের সঙ্গে যুক্ত নয়। তবে কফির একেক ধরনের পরিবেশনে ক্যাফিনের পরিমাণে বড় পার্থক্য থাকতে পারে।
শাহরুখ খান ঠিক কী ধরনের কফি পান করেন, তার কাপের আকার কত এবং প্রতিটি কাপে কতটা ক্যাফিন থাকে, তা জানা নেই। তাই শুধু তিন কাপ কফি পান করেন বলেই তার ক্যাফিন গ্রহণ মাত্রাতিরিক্ত, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। ক্যাফিনের প্রতি সংবেদনশীলতা ব্যক্তিভেদে আলাদা হয়। অতিরিক্ত ক্যাফিন গ্রহণের ফলে উদ্বেগ, অস্থিরতা, বুক ধড়ফড়, পেটের সমস্যা এবং ঘুমের ব্যাঘাতের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে।
তাই শাহরুখ খান তিন কাপ কফি পান করেন বলেই এই রুটিন সবার জন্য উপকারী হবে না। নিজের বয়স, শারীরিক অবস্থা ও ক্যাফিনের প্রতি সংবেদনশীলতা বিবেচনা করেই কফি খাওয়ার পরিমাণ নির্ধারণ করা উচিত। ক্যাফিন সরাসরি তারুণ্য ধরে রাখে এমন শক্ত প্রমাণ নেই, তবে এর কিছু পরোক্ষ উপকারিতা রয়েছে। শেষ পর্যন্ত শাহরুখের এই ‘কিং-সাইজ’ কফি রুটিন তার একান্ত ব্যক্তিগত অভ্যাস, তাই নিজের শরীরের প্রতিক্রিয়াকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

আপনার মতামত লিখুন