সংবাদ

বাংলাদেশে প্রথম ডেন্টাল স্টেম সেল ব্যাংক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:১৪ পিএম

বাংলাদেশে প্রথম ডেন্টাল স্টেম সেল ব্যাংক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ
ছবি : সংগৃহীত

দাঁতের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে বিশ্বমানের করতে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ডেন্টাল পাল্প স্টেম সেল ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করার ঐতিহাসিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কনজারভেটিভ ডেন্টিস্ট্রি অ্যান্ড এন্ডোডনটিক্স বিভাগের চেয়ারম্যান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক ডা. মুজিবুর রহমান হাওলাদার এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের এই অভিনব প্রযুক্তি চালুর মাধ্যমে দেশের ডেন্টাল চিকিৎসায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে আধুনিক সেল ব্যাংক প্রতিষ্ঠার জন্য গত মে মাসে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির কাছে লিখিত আবেদন করেন। ওই আবেদনে বলা হয়, আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের দ্রুত অগ্রগতির ফলে ডেন্টাল পাল্প স্টেম সেল ও টিস্যু ইঞ্জিনিয়ারিং চিকিৎসার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অথচ দেশের শীর্ষস্থানীয় এই মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো কোনো পূর্ণাঙ্গ ডেন্টাল পাল্প স্টেম সেল ব্যাংক প্রতিষ্ঠা হয়নি। এই ক্ষেত্রটি ভবিষ্যতের চিকিৎসা ও গবেষণায় বিশাল সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন একটি আধুনিক সেল ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হলে শিক্ষার্থী ও গবেষকরা উন্নত ল্যাবরেটরি সুবিধা পাবেন। এর ফলে দাঁতের রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসায় যেমন নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে, তেমনি আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতার সুযোগও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। এই মহৎ উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় জায়গা ও অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার পাশাপাশি দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ডেন্টাল বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো কারণে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে দাঁত পড়ে গেলে কিংবা ভেঙে গেলে ওই স্থান থেকে স্টেম সেলের মাধ্যমে নতুন দাঁত গজানো সম্ভব। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে এই সিস্টেম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। বাংলাদেশে এই প্রযুক্তি চালু করা হলে চিকিৎসা খাতে এক অনন্য বিপ্লব সাধিত হবে।

এ প্রসঙ্গে ডা. মুজিবুর রহমান শিশুদের দাঁতের যত্ন নিয়ে তার লেখা বইয়ে উল্লেখ করেছেন, আঘাতজনিত কারণে শিশুর দাঁত পড়ে যাওয়ার ঘটনা নতুন কিছু নয়। উন্নত বিশ্বের বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা যায়, শিশুদের অস্থায়ী কিংবা স্থায়ী দাঁত আঘাতজনিত কারণে হারানোর হার শতকরা ৩০ শতাংশ। বিশেষ করে ২ থেকে ৪ বছর এবং ৮ থেকে ১০ বছর বয়সের শিশুরা এই দুর্ঘটনার শিকার বেশি হয় এবং এর মধ্যে উপরের চোয়ালের দাঁত প্রায় ৭০ ভাগ আঘাতে আক্রান্ত হয়ে অকালে ঝরে পড়ে। কেউ দৌড়াতে গিয়ে পড়ে গিয়ে, আবার কেউ মারামারি বা খেলাধুলার সময় কিংবা সাইকেল থেকে পড়ে গিয়ে দাঁতে মারাত্মক আঘাত পেয়ে থাকে।

আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির যুগে পড়ে যাওয়া দাঁত যত তাড়াতাড়ি সম্ভব যথাস্থানে পুনর্স্থাপন করতে হবে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে পড়ে যাওয়া দাঁত যথাস্থানে বসিয়ে দিলে তা পুনরায় শক্তভাবে আটকে যায়। দাঁত পড়ে যাওয়ার মাত্র আধা ঘণ্টার মধ্যে যদি তা দন্ত কোটরে বসিয়ে দেওয়া যায়, তবে সে দাঁত পুরোপুরি স্থায়ী ও সুস্থভাবে লেগে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে দুই ঘণ্টার মধ্যে পুনর্স্থাপন করা সম্ভব না হলে ওই দাঁত স্থায়ীভাবে সংযোগ নাও পেতে পারে।

বিশেষজ্ঞের মতে, রোগাক্রান্ত দাঁতের আধুনিক চিকিৎসার মাধ্যমে তা রক্ষা করা এবং সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা সম্ভব। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক কংগ্রেসে বিশ্বের ৫৬টি দেশের খ্যাতনামা ৯৯৪ জন এন্ডোডন্টিক বিশেষজ্ঞ, গবেষক ও ডেন্টাল পেশাজীবী অংশ নেন।

সিডনির ওই সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নিয়ে ডা. মুজিবুর রহমান বৈজ্ঞানিক অধিবেশনে তার সুচিন্তিত মতামত তুলে ধরেন। সেই আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও আলোচনাকে কাজে লাগিয়েই দেশের ডেন্টাল চিকিৎসাকে বিশ্বমানে উন্নীত করতে ডেন্টাল বিশেষজ্ঞরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


বাংলাদেশে প্রথম ডেন্টাল স্টেম সেল ব্যাংক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ

প্রকাশের তারিখ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

দাঁতের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে বিশ্বমানের করতে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ডেন্টাল পাল্প স্টেম সেল ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করার ঐতিহাসিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কনজারভেটিভ ডেন্টিস্ট্রি অ্যান্ড এন্ডোডনটিক্স বিভাগের চেয়ারম্যান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক ডা. মুজিবুর রহমান হাওলাদার এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের এই অভিনব প্রযুক্তি চালুর মাধ্যমে দেশের ডেন্টাল চিকিৎসায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে আধুনিক সেল ব্যাংক প্রতিষ্ঠার জন্য গত মে মাসে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির কাছে লিখিত আবেদন করেন। ওই আবেদনে বলা হয়, আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের দ্রুত অগ্রগতির ফলে ডেন্টাল পাল্প স্টেম সেল ও টিস্যু ইঞ্জিনিয়ারিং চিকিৎসার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অথচ দেশের শীর্ষস্থানীয় এই মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো কোনো পূর্ণাঙ্গ ডেন্টাল পাল্প স্টেম সেল ব্যাংক প্রতিষ্ঠা হয়নি। এই ক্ষেত্রটি ভবিষ্যতের চিকিৎসা ও গবেষণায় বিশাল সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন একটি আধুনিক সেল ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হলে শিক্ষার্থী ও গবেষকরা উন্নত ল্যাবরেটরি সুবিধা পাবেন। এর ফলে দাঁতের রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসায় যেমন নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে, তেমনি আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতার সুযোগও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। এই মহৎ উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় জায়গা ও অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার পাশাপাশি দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ডেন্টাল বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো কারণে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে দাঁত পড়ে গেলে কিংবা ভেঙে গেলে ওই স্থান থেকে স্টেম সেলের মাধ্যমে নতুন দাঁত গজানো সম্ভব। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে এই সিস্টেম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। বাংলাদেশে এই প্রযুক্তি চালু করা হলে চিকিৎসা খাতে এক অনন্য বিপ্লব সাধিত হবে।

এ প্রসঙ্গে ডা. মুজিবুর রহমান শিশুদের দাঁতের যত্ন নিয়ে তার লেখা বইয়ে উল্লেখ করেছেন, আঘাতজনিত কারণে শিশুর দাঁত পড়ে যাওয়ার ঘটনা নতুন কিছু নয়। উন্নত বিশ্বের বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা যায়, শিশুদের অস্থায়ী কিংবা স্থায়ী দাঁত আঘাতজনিত কারণে হারানোর হার শতকরা ৩০ শতাংশ। বিশেষ করে ২ থেকে ৪ বছর এবং ৮ থেকে ১০ বছর বয়সের শিশুরা এই দুর্ঘটনার শিকার বেশি হয় এবং এর মধ্যে উপরের চোয়ালের দাঁত প্রায় ৭০ ভাগ আঘাতে আক্রান্ত হয়ে অকালে ঝরে পড়ে। কেউ দৌড়াতে গিয়ে পড়ে গিয়ে, আবার কেউ মারামারি বা খেলাধুলার সময় কিংবা সাইকেল থেকে পড়ে গিয়ে দাঁতে মারাত্মক আঘাত পেয়ে থাকে।

আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির যুগে পড়ে যাওয়া দাঁত যত তাড়াতাড়ি সম্ভব যথাস্থানে পুনর্স্থাপন করতে হবে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে পড়ে যাওয়া দাঁত যথাস্থানে বসিয়ে দিলে তা পুনরায় শক্তভাবে আটকে যায়। দাঁত পড়ে যাওয়ার মাত্র আধা ঘণ্টার মধ্যে যদি তা দন্ত কোটরে বসিয়ে দেওয়া যায়, তবে সে দাঁত পুরোপুরি স্থায়ী ও সুস্থভাবে লেগে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে দুই ঘণ্টার মধ্যে পুনর্স্থাপন করা সম্ভব না হলে ওই দাঁত স্থায়ীভাবে সংযোগ নাও পেতে পারে।

বিশেষজ্ঞের মতে, রোগাক্রান্ত দাঁতের আধুনিক চিকিৎসার মাধ্যমে তা রক্ষা করা এবং সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা সম্ভব। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক কংগ্রেসে বিশ্বের ৫৬টি দেশের খ্যাতনামা ৯৯৪ জন এন্ডোডন্টিক বিশেষজ্ঞ, গবেষক ও ডেন্টাল পেশাজীবী অংশ নেন।

সিডনির ওই সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নিয়ে ডা. মুজিবুর রহমান বৈজ্ঞানিক অধিবেশনে তার সুচিন্তিত মতামত তুলে ধরেন। সেই আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও আলোচনাকে কাজে লাগিয়েই দেশের ডেন্টাল চিকিৎসাকে বিশ্বমানে উন্নীত করতে ডেন্টাল বিশেষজ্ঞরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত