সংবাদ

গরমে এক গ্লাস মাঠা কেন এত স্বস্তির


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৯ পিএম

গরমে এক গ্লাস মাঠা কেন এত স্বস্তির

ঢাকার গরমে স্বস্তির জন্য ঠান্ডা পানীয়ের চাহিদা বাড়ে। এর মধ্যে মাঠার জনপ্রিয়তা দীর্ঘদিনের। পুরান ঢাকার গলি থেকে শুরু করে শহরের বিভিন্ন এলাকার দোকানে গরমের দিনে এক গ্লাস ঠান্ডা মাঠা অনেকের কাছেই হয়ে ওঠে তৃষ্ণা মেটানোর পাশাপাশি সাময়িক স্বস্তির উপায়।

দই, পানি, সামান্য চিনি, বিটলবণ, ভাজা জিরা ও পুদিনা-সাধারণত এসব উপাদানেই তৈরি হয় মাঠা। উপাদানগুলোর কারণেই পানীয়টি শুধু স্বাদের জন্য নয়, গরমে শরীরকে আরাম দেওয়ার ক্ষেত্রেও কিছুটা উপকারী হতে পারে বলে মনে করেন চিকিসকেরা।

দইয়ের কারণে বাড়তি সুবিধা

মাঠার প্রধান উপাদান দই। এতে প্রোবায়োটিক থাকতে পারে, যা অন্ত্রের স্বাভাবিক জীবাণুর ভারসাম্য বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে। হজমের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায়ও এর ভূমিকা রয়েছে।

গরমের সময় অনিয়মিত খাবার বা অপর্যাপ্ত পানি পানের কারণে অনেকের হজমে অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে দইভিত্তিক পানীয় কিছু মানুষের জন্য আরামদায়ক হতে পারে। তবে মাঠা কোনো হজমের রোগের চিকিসা নয় এবং সবার ক্ষেত্রে একই ধরনের উপকার নাও হতে পারে।

ঘামের পর পানি ও লবণের চাহিদা

অতিরিক্ত গরমে ঘামের সঙ্গে শরীর থেকে পানি ও কিছু ইলেকট্রোলাইট বেরিয়ে যায়। মাঠায় থাকা পানি ও লবণ শরীরের তরলের চাহিদা পূরণে কিছুটা সহায়তা করতে পারে।

তবে প্রচণ্ড ঘাম, ডিহাইড্রেশন বা হিটস্ট্রোকের ক্ষেত্রে শুধু মাঠার ওপর নির্ভর করা ঠিক নয়। এমন পরিস্থিতিতে প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত পানি ও ওরাল রিহাইড্রেশন সলিউশন ব্যবহার করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

মাঠায় সামান্য চিনি থাকলে তা দ্রুত কিছু শক্তি দিতে পারে। তবে বেশি চিনি মেশানো হলে পানীয়টির ক্যালরিও বেড়ে যায়।

জিরা ও পুদিনার ভূমিকা

মাঠার স্বাদ ও ঘ্রাণে ভাজা জিরা ও পুদিনার বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। জিরা ঐতিহ্যগতভাবে হজমের সহায়ক উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। অন্যদিকে পুদিনা মুখ ও গলায় শীতল অনুভূতি তৈরি করতে পারে।

পুদিনা শরীরের তাপমাত্রা সরাসরি কমিয়ে দেয়-এমন প্রমাণ নেই। তবে ঠান্ডা মাঠা এবং পুদিনার শীতল অনুভূতি গরমের মধ্যে সাময়িক আরাম দিতে পারে।

কেন ‘ভেতর থেকে ঠান্ডা’ লাগে

ঠান্ডা মাঠা খাওয়ার পর অনেকের শরীর হালকা ও ঠান্ডা মনে হয়। এর পেছনে একাধিক বিষয় কাজ করতে পারে। ঠান্ডা তরল তৃষ্ণা কমায়, পানি শরীরের তরলের ঘাটতি পূরণে সহায়তা করে এবং দইয়ের কারণে পানীয়টি তুলনামূলক পুষ্টিকরও হয়।

তবে মাঠা খেলে শরীরের তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়-এমন ধারণা ঠিক নয়। গরমে স্বস্তির জন্য পর্যাপ্ত পানি পান, ছায়ায় থাকা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী শরীর ঠান্ডা রাখাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

প্রোবায়োটিক নিয়ে গবেষণা

প্রোবায়োটিকের সঙ্গে শরীরের বিভিন্ন কার্যক্রমের সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা হয়েছে। কিছু গবেষণায় অন্ত্রের স্বাস্থ্য ও গরমের মতো শারীরিক চাপ সহ্য করার সক্ষমতার মধ্যে সম্ভাব্য সম্পর্কের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে এসব গবেষণার ফল সরাসরি মাঠার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করে এটিকে বিশেষ কার্যকর পানীয় হিসেবে দাবি করার সুযোগ নেই।

মাঠার জনপ্রিয়তার আরেক কারণ স্বাদ

ঢাকার মাঠাকে অন্য দইভিত্তিক পানীয় থেকে আলাদা করে এর স্বাদ। টক, নোনতা, সামান্য মিষ্টি, ভাজা জিরা ও পুদিনার মিশ্রণ গরমের দিনে পানীয়টিকে আকর্ষণীয় করে তোলে।

তবে মাঠা তৈরির সময় পরিচ্ছন্ন পানি, তাজা দই এবং নিরাপদ উপকরণ ব্যবহার করা জরুরি। বাইরে থেকে কিনলে দোকানের পরিচ্ছন্নতা ও সংরক্ষণব্যবস্থার দিকেও নজর দেওয়া উচিত।

গরমের দিনে এক গ্লাস মাঠা তাই তৃষ্ণা মেটানোর পাশাপাশি সাময়িক সতেজতা দিতে পারে। তবে এটিকে গরমজনিত অসুস্থতার চিকিৎসা হিসেবে না দেখে, পরিমিত ও নিরাপদভাবে উপভোগ করা পানীয় হিসেবেই দেখা ভালো।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬


গরমে এক গ্লাস মাঠা কেন এত স্বস্তির

প্রকাশের তারিখ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ঢাকার গরমে স্বস্তির জন্য ঠান্ডা পানীয়ের চাহিদা বাড়ে। এর মধ্যে মাঠার জনপ্রিয়তা দীর্ঘদিনের। পুরান ঢাকার গলি থেকে শুরু করে শহরের বিভিন্ন এলাকার দোকানে গরমের দিনে এক গ্লাস ঠান্ডা মাঠা অনেকের কাছেই হয়ে ওঠে তৃষ্ণা মেটানোর পাশাপাশি সাময়িক স্বস্তির উপায়।

দই, পানি, সামান্য চিনি, বিটলবণ, ভাজা জিরা ও পুদিনা-সাধারণত এসব উপাদানেই তৈরি হয় মাঠা। উপাদানগুলোর কারণেই পানীয়টি শুধু স্বাদের জন্য নয়, গরমে শরীরকে আরাম দেওয়ার ক্ষেত্রেও কিছুটা উপকারী হতে পারে বলে মনে করেন চিকিসকেরা।

দইয়ের কারণে বাড়তি সুবিধা

মাঠার প্রধান উপাদান দই। এতে প্রোবায়োটিক থাকতে পারে, যা অন্ত্রের স্বাভাবিক জীবাণুর ভারসাম্য বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে। হজমের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায়ও এর ভূমিকা রয়েছে।

গরমের সময় অনিয়মিত খাবার বা অপর্যাপ্ত পানি পানের কারণে অনেকের হজমে অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে দইভিত্তিক পানীয় কিছু মানুষের জন্য আরামদায়ক হতে পারে। তবে মাঠা কোনো হজমের রোগের চিকিসা নয় এবং সবার ক্ষেত্রে একই ধরনের উপকার নাও হতে পারে।

ঘামের পর পানি ও লবণের চাহিদা

অতিরিক্ত গরমে ঘামের সঙ্গে শরীর থেকে পানি ও কিছু ইলেকট্রোলাইট বেরিয়ে যায়। মাঠায় থাকা পানি ও লবণ শরীরের তরলের চাহিদা পূরণে কিছুটা সহায়তা করতে পারে।

তবে প্রচণ্ড ঘাম, ডিহাইড্রেশন বা হিটস্ট্রোকের ক্ষেত্রে শুধু মাঠার ওপর নির্ভর করা ঠিক নয়। এমন পরিস্থিতিতে প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত পানি ও ওরাল রিহাইড্রেশন সলিউশন ব্যবহার করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

মাঠায় সামান্য চিনি থাকলে তা দ্রুত কিছু শক্তি দিতে পারে। তবে বেশি চিনি মেশানো হলে পানীয়টির ক্যালরিও বেড়ে যায়।

জিরা ও পুদিনার ভূমিকা

মাঠার স্বাদ ও ঘ্রাণে ভাজা জিরা ও পুদিনার বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। জিরা ঐতিহ্যগতভাবে হজমের সহায়ক উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। অন্যদিকে পুদিনা মুখ ও গলায় শীতল অনুভূতি তৈরি করতে পারে।

পুদিনা শরীরের তাপমাত্রা সরাসরি কমিয়ে দেয়-এমন প্রমাণ নেই। তবে ঠান্ডা মাঠা এবং পুদিনার শীতল অনুভূতি গরমের মধ্যে সাময়িক আরাম দিতে পারে।

কেন ‘ভেতর থেকে ঠান্ডা’ লাগে

ঠান্ডা মাঠা খাওয়ার পর অনেকের শরীর হালকা ও ঠান্ডা মনে হয়। এর পেছনে একাধিক বিষয় কাজ করতে পারে। ঠান্ডা তরল তৃষ্ণা কমায়, পানি শরীরের তরলের ঘাটতি পূরণে সহায়তা করে এবং দইয়ের কারণে পানীয়টি তুলনামূলক পুষ্টিকরও হয়।

তবে মাঠা খেলে শরীরের তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়-এমন ধারণা ঠিক নয়। গরমে স্বস্তির জন্য পর্যাপ্ত পানি পান, ছায়ায় থাকা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী শরীর ঠান্ডা রাখাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

প্রোবায়োটিক নিয়ে গবেষণা

প্রোবায়োটিকের সঙ্গে শরীরের বিভিন্ন কার্যক্রমের সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা হয়েছে। কিছু গবেষণায় অন্ত্রের স্বাস্থ্য ও গরমের মতো শারীরিক চাপ সহ্য করার সক্ষমতার মধ্যে সম্ভাব্য সম্পর্কের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে এসব গবেষণার ফল সরাসরি মাঠার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করে এটিকে বিশেষ কার্যকর পানীয় হিসেবে দাবি করার সুযোগ নেই।

মাঠার জনপ্রিয়তার আরেক কারণ স্বাদ

ঢাকার মাঠাকে অন্য দইভিত্তিক পানীয় থেকে আলাদা করে এর স্বাদ। টক, নোনতা, সামান্য মিষ্টি, ভাজা জিরা ও পুদিনার মিশ্রণ গরমের দিনে পানীয়টিকে আকর্ষণীয় করে তোলে।

তবে মাঠা তৈরির সময় পরিচ্ছন্ন পানি, তাজা দই এবং নিরাপদ উপকরণ ব্যবহার করা জরুরি। বাইরে থেকে কিনলে দোকানের পরিচ্ছন্নতা ও সংরক্ষণব্যবস্থার দিকেও নজর দেওয়া উচিত।

গরমের দিনে এক গ্লাস মাঠা তাই তৃষ্ণা মেটানোর পাশাপাশি সাময়িক সতেজতা দিতে পারে। তবে এটিকে গরমজনিত অসুস্থতার চিকিৎসা হিসেবে না দেখে, পরিমিত ও নিরাপদভাবে উপভোগ করা পানীয় হিসেবেই দেখা ভালো।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত