সংবাদ

ইউরোপে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে এয়ারবাস কেনা সরকারের বড় পরীক্ষা


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৫৬ পিএম

ইউরোপে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে এয়ারবাস কেনা সরকারের বড় পরীক্ষা

ইউরোপের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদী কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক কীভাবে এগিয়ে যাবে, তাতে ফরাসি উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাস থেকে বিমান কেনার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জঁ-মার্ক সেরে-শারলে।

তিনি জাতীয় প্রেস ক্লাবে ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব) আয়োজিত ‘ডিকাব টক’-এ অংশ নিয়ে এই কথা জানান।

ফরাসি রাষ্ট্রদূত বলেন, ইউরোপের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখায় এয়ারবাস ইস্যুতে ঢাকার সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আমি মনে করি এটি বর্তমান সরকারের জন্য একটি বড় পরীক্ষা। সরকার ও বিমানের ওপর আমাদের পূর্ণ আত্মবিশ্বাস রয়েছে।

বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানির প্রায় ৫০ শতাংশই ইউরোপীয় বাজারে যায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইউরোপের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা বাংলাদেশের নিজস্ব স্বার্থের জন্যই বড় বিষয়।

বোয়িংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের চুক্তি নিয়ে ফ্রান্স বা ইউরোপ মোটেও উদ্বিগ্ন নয় উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত জানান, চাপিয়ে দেওয়া কোনো সম্পর্কে তারা বিশ্বাস করেন না। বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নের পথে ইউরোপ সবসময় সত্যিকারের আস্থাশীল অংশীদার হতে চায়।

তবে ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার ক্ষেত্রে এয়ারবাস কেনা একটি বড় বিষয় হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

ফরাসি রাষ্ট্রদূত জানান, এয়ারবাস ইস্যুতে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে তাদের আলোচনা ও দরকষাকষি বর্তমানে চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, আমি সবসময় লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বা সমতার মাঠের ওপর জোর দিচ্ছি। এটি এমন একটি বার্তা, যা আমরা বর্তমান সরকারের কাছেও পৌঁছে দিচ্ছি। কারণ আমরা এটিকে অত্যন্ত অত্যাবশ্যকীয় মনে করি। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস কয়েক বছর আগে কারিগরি মূল্যায়ন ও গুরুত্ব বিবেচনা করেই এয়ারবাস কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছিল। বিশ্বের বড় বড় বিমান সংস্থা নিজেদের বহরে সবসময় দুই ধরনের উড়োজাহাজ রাখে। তাদের বহরে যেমন এয়ারবাস থাকে, তেমনি বোয়িংও থাকে।

তিনি আরও বলেন, কাউকে একক কোনো কোম্পানির ওপর পুরোপুরি নির্ভর করে থাকতে হয় না। দুটি কোম্পানি থাকার বড় সুবিধা হলো তুলনামূলক বিচার করে নিজের পছন্দমতো সেরা জিনিসটি বেছে নেওয়া যায়।

উদাহরণ দিয়ে তিনি জানান, এমন একটি আধুনিক উড়োজাহাজ রয়েছে যা ঢাকা থেকে কোনো ধরনের বিরতি ছাড়াই সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে পৌঁছাতে সক্ষম, আর সেটি বোয়িং নয় বরং এয়ারবাস। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বোয়িং কিছু উড়োজাহাজ বিমানের কাছে বিক্রি করতে পেরেছে এবং সেগুলো ২০৩১ বা ২০৩৫ সালের দিকে সরবরাহ করা হবে। এটি সম্পূর্ণ তাদের বাণিজ্যিক বিষয়। তবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারবাসের প্রতি তাদের আগ্রহ এখনো বজায় রেখেছে এবং আলোচনা ইতিবাচক পথেই এগোচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ইউরোপে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে এয়ারবাস কেনা সরকারের বড় পরীক্ষা

প্রকাশের তারিখ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ইউরোপের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদী কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক কীভাবে এগিয়ে যাবে, তাতে ফরাসি উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাস থেকে বিমান কেনার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জঁ-মার্ক সেরে-শারলে।

তিনি জাতীয় প্রেস ক্লাবে ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব) আয়োজিত ‘ডিকাব টক’-এ অংশ নিয়ে এই কথা জানান।

ফরাসি রাষ্ট্রদূত বলেন, ইউরোপের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখায় এয়ারবাস ইস্যুতে ঢাকার সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আমি মনে করি এটি বর্তমান সরকারের জন্য একটি বড় পরীক্ষা। সরকার ও বিমানের ওপর আমাদের পূর্ণ আত্মবিশ্বাস রয়েছে।

বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানির প্রায় ৫০ শতাংশই ইউরোপীয় বাজারে যায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইউরোপের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা বাংলাদেশের নিজস্ব স্বার্থের জন্যই বড় বিষয়।

বোয়িংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের চুক্তি নিয়ে ফ্রান্স বা ইউরোপ মোটেও উদ্বিগ্ন নয় উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত জানান, চাপিয়ে দেওয়া কোনো সম্পর্কে তারা বিশ্বাস করেন না। বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নের পথে ইউরোপ সবসময় সত্যিকারের আস্থাশীল অংশীদার হতে চায়।

তবে ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার ক্ষেত্রে এয়ারবাস কেনা একটি বড় বিষয় হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

ফরাসি রাষ্ট্রদূত জানান, এয়ারবাস ইস্যুতে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে তাদের আলোচনা ও দরকষাকষি বর্তমানে চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, আমি সবসময় লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বা সমতার মাঠের ওপর জোর দিচ্ছি। এটি এমন একটি বার্তা, যা আমরা বর্তমান সরকারের কাছেও পৌঁছে দিচ্ছি। কারণ আমরা এটিকে অত্যন্ত অত্যাবশ্যকীয় মনে করি। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস কয়েক বছর আগে কারিগরি মূল্যায়ন ও গুরুত্ব বিবেচনা করেই এয়ারবাস কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছিল। বিশ্বের বড় বড় বিমান সংস্থা নিজেদের বহরে সবসময় দুই ধরনের উড়োজাহাজ রাখে। তাদের বহরে যেমন এয়ারবাস থাকে, তেমনি বোয়িংও থাকে।

তিনি আরও বলেন, কাউকে একক কোনো কোম্পানির ওপর পুরোপুরি নির্ভর করে থাকতে হয় না। দুটি কোম্পানি থাকার বড় সুবিধা হলো তুলনামূলক বিচার করে নিজের পছন্দমতো সেরা জিনিসটি বেছে নেওয়া যায়।

উদাহরণ দিয়ে তিনি জানান, এমন একটি আধুনিক উড়োজাহাজ রয়েছে যা ঢাকা থেকে কোনো ধরনের বিরতি ছাড়াই সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে পৌঁছাতে সক্ষম, আর সেটি বোয়িং নয় বরং এয়ারবাস। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বোয়িং কিছু উড়োজাহাজ বিমানের কাছে বিক্রি করতে পেরেছে এবং সেগুলো ২০৩১ বা ২০৩৫ সালের দিকে সরবরাহ করা হবে। এটি সম্পূর্ণ তাদের বাণিজ্যিক বিষয়। তবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারবাসের প্রতি তাদের আগ্রহ এখনো বজায় রেখেছে এবং আলোচনা ইতিবাচক পথেই এগোচ্ছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত