সংবাদ

ইউক্রেন যুদ্ধের পর প্রথম নির্বাচনেও পুতিনের দলের নিরঙ্কুশ জয়


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০৩ এএম

ইউক্রেন যুদ্ধের পর প্রথম নির্বাচনেও পুতিনের দলের নিরঙ্কুশ জয়
ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি : সংগৃহীত

২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত প্রথম পার্লামেন্ট নির্বাচনে রেকর্ড সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দল ‘ইউনাইটেড রাশিয়া’। তিন দিনব্যাপী ভোটগ্রহণ শেষে প্রকাশিত প্রায় চূড়ান্ত ফলাফলে দলটি ৫৮ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছে। বার্তা সংস্থা আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বিশাল জয়ের মাধ্যমে রুশ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ স্টেট ডুমার ৭৫ শতাংশেরও বেশি আসন এককভাবে পেতে যাচ্ছে প্রায় ২৫ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা ইউনাইটেড রাশিয়া। নির্বাচনে সামগ্রিক ভোটার উপস্থিতি ছিল প্রায় ৬০ শতাংশ। রাশিয়া ইউক্রেনের যে চারটি অঞ্চল নিজেদের ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করেছে, সেখানকার বাসিন্দারাও এবার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। মস্কো এই ফলাফলকে ইউক্রেন যুদ্ধের পক্ষে জনগণের স্পষ্ট সমর্থন হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করছে।

তবে নির্বাচনে কারচুপির নানা অভিযোগ উঠেছে। রাশিয়ার একমাত্র নিবন্ধিত যুদ্ধবিরোধী দল 'ইয়াবলোকো' ও অন্যতম প্রধান বিরোধী দল 'কমিউনিস্ট পার্টি' অভিযোগ করেছে, তাদের বহু নির্বাচনী পর্যবেক্ষককে কেন্দ্রে ঢুকতেই দেওয়া হয়নি। ইয়াবলোকোকে গত মাসে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ব্যালট থেকে বাদ দেওয়ার ফলে দলটি জাতীয় পর্যায়ে কোনো আসনই পায়নি। অন্যদিকে কমিউনিস্ট পার্টি ১৩.৮ শতাংশ ভোট পেয়ে ৪০টি আসন বাগিয়ে নিয়েছে। এছাড়া জাতীয়তাবাদী এলডিপিআর ২৫টি এবং নিউ পিপল পার্টি ২০টি আসন পেয়েছে।

নির্বাচনে ইউরোপীয় নিরাপত্তা ও সহযোগিতা সংস্থার (ওএসসিই) কোনো পর্যবেক্ষককে আমন্ত্রণ জানায়নি মস্কো। এতে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস একে ‘তথাকথিত নির্বাচন’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেছেন, ক্রেমলিন বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করে গণতন্ত্রকে পুরোপুরি আনুষ্ঠানিকতায় নামিয়ে এনেছে। এছাড়া যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়াসহ পাঁচটি দেশ যৌথ বিবৃতিতে ইউক্রেনের দখল করা অঞ্চলগুলোতে ভোট আয়োজনকে ‘প্রহসনের নির্বাচন’ বলে অভিহিত করেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কার্নেগি রাশিয়া ইউরেশিয়া সেন্টারের গবেষক তাতিয়ানা স্তানোভায়া জানান, ক্রেমলিন এই জয়কে যুদ্ধের সমর্থন হিসেবে দেখালেও রুশ নাগরিকদের মধ্যে সংঘাত বন্ধের দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। একই সঙ্গে নতুন করে সেনা সমাবেশ, দমন-পীড়ন বৃদ্ধি ও কঠোর নীতি প্রয়োগের আশঙ্কায় সাধারণ মানুষের উদ্বেগও বাড়ছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ইউক্রেন যুদ্ধের পর প্রথম নির্বাচনেও পুতিনের দলের নিরঙ্কুশ জয়

প্রকাশের তারিখ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত প্রথম পার্লামেন্ট নির্বাচনে রেকর্ড সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দল ‘ইউনাইটেড রাশিয়া’। তিন দিনব্যাপী ভোটগ্রহণ শেষে প্রকাশিত প্রায় চূড়ান্ত ফলাফলে দলটি ৫৮ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছে। বার্তা সংস্থা আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বিশাল জয়ের মাধ্যমে রুশ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ স্টেট ডুমার ৭৫ শতাংশেরও বেশি আসন এককভাবে পেতে যাচ্ছে প্রায় ২৫ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা ইউনাইটেড রাশিয়া। নির্বাচনে সামগ্রিক ভোটার উপস্থিতি ছিল প্রায় ৬০ শতাংশ। রাশিয়া ইউক্রেনের যে চারটি অঞ্চল নিজেদের ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করেছে, সেখানকার বাসিন্দারাও এবার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। মস্কো এই ফলাফলকে ইউক্রেন যুদ্ধের পক্ষে জনগণের স্পষ্ট সমর্থন হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করছে।

তবে নির্বাচনে কারচুপির নানা অভিযোগ উঠেছে। রাশিয়ার একমাত্র নিবন্ধিত যুদ্ধবিরোধী দল 'ইয়াবলোকো' ও অন্যতম প্রধান বিরোধী দল 'কমিউনিস্ট পার্টি' অভিযোগ করেছে, তাদের বহু নির্বাচনী পর্যবেক্ষককে কেন্দ্রে ঢুকতেই দেওয়া হয়নি। ইয়াবলোকোকে গত মাসে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ব্যালট থেকে বাদ দেওয়ার ফলে দলটি জাতীয় পর্যায়ে কোনো আসনই পায়নি। অন্যদিকে কমিউনিস্ট পার্টি ১৩.৮ শতাংশ ভোট পেয়ে ৪০টি আসন বাগিয়ে নিয়েছে। এছাড়া জাতীয়তাবাদী এলডিপিআর ২৫টি এবং নিউ পিপল পার্টি ২০টি আসন পেয়েছে।

নির্বাচনে ইউরোপীয় নিরাপত্তা ও সহযোগিতা সংস্থার (ওএসসিই) কোনো পর্যবেক্ষককে আমন্ত্রণ জানায়নি মস্কো। এতে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস একে ‘তথাকথিত নির্বাচন’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেছেন, ক্রেমলিন বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করে গণতন্ত্রকে পুরোপুরি আনুষ্ঠানিকতায় নামিয়ে এনেছে। এছাড়া যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়াসহ পাঁচটি দেশ যৌথ বিবৃতিতে ইউক্রেনের দখল করা অঞ্চলগুলোতে ভোট আয়োজনকে ‘প্রহসনের নির্বাচন’ বলে অভিহিত করেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কার্নেগি রাশিয়া ইউরেশিয়া সেন্টারের গবেষক তাতিয়ানা স্তানোভায়া জানান, ক্রেমলিন এই জয়কে যুদ্ধের সমর্থন হিসেবে দেখালেও রুশ নাগরিকদের মধ্যে সংঘাত বন্ধের দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। একই সঙ্গে নতুন করে সেনা সমাবেশ, দমন-পীড়ন বৃদ্ধি ও কঠোর নীতি প্রয়োগের আশঙ্কায় সাধারণ মানুষের উদ্বেগও বাড়ছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত