সংবাদ

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে যুব ফেডারেশনের বিক্ষোভ


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪৮ এএম

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে যুব ফেডারেশনের বিক্ষোভ

ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার এবং গণশুনানির মাধ্যমে জ্বালানির মূল্য পুনঃনির্ধারণের দাবিতে রাজধানী ঢাকায় বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে পাঁচটায় শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে বাংলাদেশ যুব ফেডারেশনের উদ্যোগে এই যুব বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। সংগঠনের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফার সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব জাহিদ সুজনের সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।
​সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ যুব ফেডারেশনের আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফা বলেন, "একলাফে ডিজেলের লিটার প্রতি দাম ২০ টাকা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত সরকারের অপরিপক্বতা ও গণবিরোধী চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ। জনস্বার্থকে অবহেলা করে এমন সিদ্ধান্ত সরকারের গোয়ার্তুমীই বটে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করলে অচিরেই দেশীয় উৎপাদন ব্যাহত হবে, দেশব্যাপী জনঅসন্তোষ তৈরি হবে, বেকারত্ব আরও বাড়বে। অর্থাৎ জনগণের জীবনযাপনের সমস্যাকে চিন্তা না করে পুরনো কায়দায় জ্বালানির দাম বৃদ্ধির ফলে যে সার্বিক সংকট তৈরি হচ্ছে তার সমস্ত দায় সরকারকেই নিতে হবে।"
​দেশের চলমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, "কেবল বিরোধিতা এবং প্রতিক্রিয়ার রাজনীতি বাংলাদেশকে ৫৫ বছরেও দাঁড়াতে দেয়নি। কেবল বিরোধিতার নামে তর্জন-গর্জন নয় বরং বাংলাদেশকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হলে প্রয়োজন পুনর্গঠনের রাজনীতি। গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে দরকার ঐকমত্যের রাজনীতি। ন্যূনতম দাবি এবং বৃহত্তর ঐক্যের মাধ্যমে দেশকে পরিচালিত করতে পারলে সমস্ত ষড়যন্ত্রকে নস্যাৎ করে জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা সম্ভব। নাগরিক মর্যাদা ও সকল নাগরিকের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।"
​বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী অন্যান্য বক্তারা অভিযোগ করেন, গণশুনানি ছাড়া জ্বালানির মূল্য বাড়িয়ে পুরনো শাসন ব্যবস্থার মতো গণতান্ত্রিক পরিসর সংকুচিত করা হচ্ছে। তারা বলেন, মূল্যবৃদ্ধির পরিবর্তে সরকারি ভর্তুকি বৃদ্ধি, অপচয় রোধ ও জাতীয় সম্পদের সুষ্ঠু বণ্টনের মাধ্যমে সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব।
​সংগঠনের নেতা জুলহাসনাইন বাবু বলেন, "জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির আগে গণশুনানি ছিল জবাবদিহিতার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। ২০২২ সালে বিগত সরকার গণশুনানির নীতি বাতিল করে জনগণের অংশগ্রহণের পথ বন্ধ করেছে। বর্তমান সরকারের উচিত পতিত আওয়ামী লীগের গণবিরোধী পথ পরিহার করা। কৃষি ও শিল্প উৎপাদন, জনজীবন ও কর্মসংস্থানকে ঝুঁকিতে ফেলে সংকট মোকাবিলার অপচেষ্টা নয়—গণতন্ত্র ও জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সংকট মোকাবিলা করতে হবে।"
​সঞ্চালকের বক্তব্যে জাহিদ সুজন বর্তমান পরিস্থিতির বাস্তব চিত্র তুলে ধরে বলেন, "জ্বালানির দাম বৃদ্ধির ফলে ইতোমধ্যেই নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি হয়েছে। গাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হবে। প্রয়োজনে সংকটকালে পে-স্কেল কার্যকর করার সিদ্ধান্ত স্থগিত করতে হবে। সরকার যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে জনস্বার্থকে সবার আগে বিবেচনা করবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা। সরকার জনগণের ভাষা বুঝতে না চাইলে ভুল করবে।"
​শাহবাগের এই বিক্ষোভ সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ যুব ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সদস্য মুছা কলিমুল্লাহ, রাজা আহম্মেদ জুম্মন, আইরিন আক্তার, কবি রাসেল, রুবেল মিয়া হিমু এবং জাসেম আলমসহ অন্যান্য যুব নেতারা।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে যুব ফেডারেশনের বিক্ষোভ

প্রকাশের তারিখ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার এবং গণশুনানির মাধ্যমে জ্বালানির মূল্য পুনঃনির্ধারণের দাবিতে রাজধানী ঢাকায় বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে পাঁচটায় শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে বাংলাদেশ যুব ফেডারেশনের উদ্যোগে এই যুব বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। সংগঠনের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফার সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব জাহিদ সুজনের সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।
​সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ যুব ফেডারেশনের আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফা বলেন, "একলাফে ডিজেলের লিটার প্রতি দাম ২০ টাকা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত সরকারের অপরিপক্বতা ও গণবিরোধী চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ। জনস্বার্থকে অবহেলা করে এমন সিদ্ধান্ত সরকারের গোয়ার্তুমীই বটে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করলে অচিরেই দেশীয় উৎপাদন ব্যাহত হবে, দেশব্যাপী জনঅসন্তোষ তৈরি হবে, বেকারত্ব আরও বাড়বে। অর্থাৎ জনগণের জীবনযাপনের সমস্যাকে চিন্তা না করে পুরনো কায়দায় জ্বালানির দাম বৃদ্ধির ফলে যে সার্বিক সংকট তৈরি হচ্ছে তার সমস্ত দায় সরকারকেই নিতে হবে।"
​দেশের চলমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, "কেবল বিরোধিতা এবং প্রতিক্রিয়ার রাজনীতি বাংলাদেশকে ৫৫ বছরেও দাঁড়াতে দেয়নি। কেবল বিরোধিতার নামে তর্জন-গর্জন নয় বরং বাংলাদেশকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হলে প্রয়োজন পুনর্গঠনের রাজনীতি। গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে দরকার ঐকমত্যের রাজনীতি। ন্যূনতম দাবি এবং বৃহত্তর ঐক্যের মাধ্যমে দেশকে পরিচালিত করতে পারলে সমস্ত ষড়যন্ত্রকে নস্যাৎ করে জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা সম্ভব। নাগরিক মর্যাদা ও সকল নাগরিকের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।"
​বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী অন্যান্য বক্তারা অভিযোগ করেন, গণশুনানি ছাড়া জ্বালানির মূল্য বাড়িয়ে পুরনো শাসন ব্যবস্থার মতো গণতান্ত্রিক পরিসর সংকুচিত করা হচ্ছে। তারা বলেন, মূল্যবৃদ্ধির পরিবর্তে সরকারি ভর্তুকি বৃদ্ধি, অপচয় রোধ ও জাতীয় সম্পদের সুষ্ঠু বণ্টনের মাধ্যমে সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব।
​সংগঠনের নেতা জুলহাসনাইন বাবু বলেন, "জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির আগে গণশুনানি ছিল জবাবদিহিতার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। ২০২২ সালে বিগত সরকার গণশুনানির নীতি বাতিল করে জনগণের অংশগ্রহণের পথ বন্ধ করেছে। বর্তমান সরকারের উচিত পতিত আওয়ামী লীগের গণবিরোধী পথ পরিহার করা। কৃষি ও শিল্প উৎপাদন, জনজীবন ও কর্মসংস্থানকে ঝুঁকিতে ফেলে সংকট মোকাবিলার অপচেষ্টা নয়—গণতন্ত্র ও জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সংকট মোকাবিলা করতে হবে।"
​সঞ্চালকের বক্তব্যে জাহিদ সুজন বর্তমান পরিস্থিতির বাস্তব চিত্র তুলে ধরে বলেন, "জ্বালানির দাম বৃদ্ধির ফলে ইতোমধ্যেই নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি হয়েছে। গাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হবে। প্রয়োজনে সংকটকালে পে-স্কেল কার্যকর করার সিদ্ধান্ত স্থগিত করতে হবে। সরকার যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে জনস্বার্থকে সবার আগে বিবেচনা করবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা। সরকার জনগণের ভাষা বুঝতে না চাইলে ভুল করবে।"
​শাহবাগের এই বিক্ষোভ সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ যুব ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সদস্য মুছা কলিমুল্লাহ, রাজা আহম্মেদ জুম্মন, আইরিন আক্তার, কবি রাসেল, রুবেল মিয়া হিমু এবং জাসেম আলমসহ অন্যান্য যুব নেতারা।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত