সংবাদ

বাঁওড় নিয়ে বিরোধে বাড়িঘর ভাঙচুর, গুলিতে আহত ৬


প্রতিনিধি, বেনাপোল (যশোর)
প্রতিনিধি, বেনাপোল (যশোর)
প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৩ পিএম

বাঁওড় নিয়ে বিরোধে বাড়িঘর ভাঙচুর, গুলিতে আহত ৬
যশোরের শার্শায় বাঁওড় দখলের বিরোধে বাড়িঘরে হামলা-ভাংচুর, গুলিতে আহত ৬

যশোরের শার্শা উপজেলার একটি বাঁওড়কে ঘিরে বিরোধে প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে সশস্ত্র হামলা ও ভাংচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন ছয়জন।

এদিকে খবর পেয়ে স্থানীয় নাভারণ ‘ক’ সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আরিফ হোসেনসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলার কন্যাদাহ গ্রামের এ ঘটনায় রাতে শার্শা থানায় মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নাভারণ ‘ক’ সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আরিফ হোসেন।

হামলায় আহতরা হলেন, কন্যাদাহ গ্রামের মৃত মতি গাইনের ছেলে শাহ আলম গাইন (৫০), মৃত আব্দুল আজিজ গাইনের ছেলে শরিফুল ইসলাম বকুল (৩২), হাসেম গাইনের ছেলে মিটু গাইন (৩০), খলিল গাইনের ছেলে আব্দুল্লাহ গাইন (২০), শরিফুল ইসলাম বকুলের ছেলে শাকিল গাইন (১৫) এবং আকবর আলীর ছেলে আকাশ হোসেন (১৪)।

মামলার বাদী হাসানুজ্জামান হাসান গাইন বলেন, কন্যাদহে দীর্ঘ দিন ধরে স্থানীয় একটি বাঁওড়কে কেন্দ্র দুই পক্ষের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছে। এর জের ধরে বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলা যুবদলের সদ্য অব্যাহতি প্রাপ্ত যুগ্ম আহ্বায়ক শহীদুল ইসলাম শহিদ, উপজেলা বিএনপির শ্রমবিষয়ক সম্পাদক শহিদ আলী ও আশানুরের নেতৃত্বে ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি দল গাইনপাড়ায় হামলা চালায়।

এ সময় তারা ১০ থেকে ১২টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে বাবু গাইন, ইয়ানুর গাইন ও আনারুল গাইনের বাড়িতে ভাংচুর চালায়। পরে রেজাউল গাইনের পক্ষের লোকজন প্রতিরোধের চেষ্টা করলে হামলাকারীরা পিস্তল ও শর্টগানের গুলি ছোড়ে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তাদের ছোড়া গুলিতে ছয় জন গুরুতর আহত হন। এছাড়া হামলাকারীদের ছোড়া কয়েকটি বোমার বিস্ফোরণে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে বলে তিনি দাবি করেন।

ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পরে গুলিবিদ্ধ ও আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে রাত ৯টা ৪০ মিনিটে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক মাহমুদুল হাসান বলেন, আহতদের শরীরে শটগানের ছররা গুলির আঘাত রয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির শ্রমবিষয়ক সম্পাদক শহিদ আলী বলেন, সবই মিথ্যা কথা। তিনি সারাদিন এলাকায় ছিলেন না। তিনি পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, শাহ আলম, হাসানুররা বুধবার বাওড়ের জেলেদের আটকে রেখে হয়রানি করে। মারপিটও করে। সেসব ঘটনা ধামাচাপা দিতে এসব অপপ্রচার চালাচ্ছেন।

স্থানীয়রা জানান, কন্যাদহ বাওড় ও এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিএনপি নেতা রেজাউল ইসলাম গাইনের সঙ্গে শহিদ আলী ও শহীদুল ইসলাম শহিদের লোকজনের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এর আগে এ বিরোধকে কেন্দ্র করে একাধিকবার ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষ ও বিস্ফোরণের ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে মশিয়ার মোড়ল (৫৬) নামে এক ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আরিফ হোসেন বলেন, বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


বাঁওড় নিয়ে বিরোধে বাড়িঘর ভাঙচুর, গুলিতে আহত ৬

প্রকাশের তারিখ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

যশোরের শার্শা উপজেলার একটি বাঁওড়কে ঘিরে বিরোধে প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে সশস্ত্র হামলা ও ভাংচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন ছয়জন।

এদিকে খবর পেয়ে স্থানীয় নাভারণ ‘ক’ সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আরিফ হোসেনসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলার কন্যাদাহ গ্রামের এ ঘটনায় রাতে শার্শা থানায় মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নাভারণ ‘ক’ সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আরিফ হোসেন।

হামলায় আহতরা হলেন, কন্যাদাহ গ্রামের মৃত মতি গাইনের ছেলে শাহ আলম গাইন (৫০), মৃত আব্দুল আজিজ গাইনের ছেলে শরিফুল ইসলাম বকুল (৩২), হাসেম গাইনের ছেলে মিটু গাইন (৩০), খলিল গাইনের ছেলে আব্দুল্লাহ গাইন (২০), শরিফুল ইসলাম বকুলের ছেলে শাকিল গাইন (১৫) এবং আকবর আলীর ছেলে আকাশ হোসেন (১৪)।

মামলার বাদী হাসানুজ্জামান হাসান গাইন বলেন, কন্যাদহে দীর্ঘ দিন ধরে স্থানীয় একটি বাঁওড়কে কেন্দ্র দুই পক্ষের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছে। এর জের ধরে বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলা যুবদলের সদ্য অব্যাহতি প্রাপ্ত যুগ্ম আহ্বায়ক শহীদুল ইসলাম শহিদ, উপজেলা বিএনপির শ্রমবিষয়ক সম্পাদক শহিদ আলী ও আশানুরের নেতৃত্বে ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি দল গাইনপাড়ায় হামলা চালায়।

এ সময় তারা ১০ থেকে ১২টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে বাবু গাইন, ইয়ানুর গাইন ও আনারুল গাইনের বাড়িতে ভাংচুর চালায়। পরে রেজাউল গাইনের পক্ষের লোকজন প্রতিরোধের চেষ্টা করলে হামলাকারীরা পিস্তল ও শর্টগানের গুলি ছোড়ে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তাদের ছোড়া গুলিতে ছয় জন গুরুতর আহত হন। এছাড়া হামলাকারীদের ছোড়া কয়েকটি বোমার বিস্ফোরণে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে বলে তিনি দাবি করেন।

ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পরে গুলিবিদ্ধ ও আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে রাত ৯টা ৪০ মিনিটে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক মাহমুদুল হাসান বলেন, আহতদের শরীরে শটগানের ছররা গুলির আঘাত রয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির শ্রমবিষয়ক সম্পাদক শহিদ আলী বলেন, সবই মিথ্যা কথা। তিনি সারাদিন এলাকায় ছিলেন না। তিনি পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, শাহ আলম, হাসানুররা বুধবার বাওড়ের জেলেদের আটকে রেখে হয়রানি করে। মারপিটও করে। সেসব ঘটনা ধামাচাপা দিতে এসব অপপ্রচার চালাচ্ছেন।

স্থানীয়রা জানান, কন্যাদহ বাওড় ও এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিএনপি নেতা রেজাউল ইসলাম গাইনের সঙ্গে শহিদ আলী ও শহীদুল ইসলাম শহিদের লোকজনের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এর আগে এ বিরোধকে কেন্দ্র করে একাধিকবার ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষ ও বিস্ফোরণের ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে মশিয়ার মোড়ল (৫৬) নামে এক ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আরিফ হোসেন বলেন, বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত