সংবাদ

গঙ্গাচড়ায় তিস্তার তীব্র ভাঙন, নদীগর্ভে ১৮ বসতভিটা ও ফসলি জমি


সুজন আহম্মেদ, গঙ্গাচড়া (রংপুর)
সুজন আহম্মেদ, গঙ্গাচড়া (রংপুর)
প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪০ পিএম

গঙ্গাচড়ায় তিস্তার তীব্র ভাঙন, নদীগর্ভে ১৮ বসতভিটা ও ফসলি জমি
ছবি : সংবাদ

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের জয়রামওঝা চল্লিশ সাল এলাকায় তিস্তা নদীর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত কয়েক দিনে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে ১৮টি পরিবারের ঘরবাড়ি ও আবাদি জমি। অব্যাহত ভাঙন আতঙ্কে অনেকে বসতভিটা ও গবাদিপশু নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভাঙন শুরু হলেও তা ঠেকাতে এখন পর্যন্ত পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, তিস্তার তীব্র স্রোতে পাড় ভেঙে পড়ছে। ভাঙনের মুখে থাকা পরিবারগুলোর কেউ ঘরবাড়ি ভেঙে সরিয়ে নিচ্ছেন, কেউবা শেষ মুহূর্তে ভিটেমাটি রক্ষার আকুল চেষ্টা করছেন। কোথাও চোখের সামনে নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে বসতভিটা, আবার কোথাও ভেঙে যাচ্ছে বিস্তীর্ণ ধানের ক্ষেত।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সম্প্রতি তিস্তার পানি বৃদ্ধির পর স্রোতের তীব্রতা বাড়ে। পরবর্তীতে পানি কমতে শুরু করলে স্রোতের গতিপথ চরের দিকে ঘুরে যায়। এতে সেতু রক্ষার বাঁধের সঙ্গে এলাকাবাসীর উদ্যোগে তৈরি একটি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপরই শুরু হয় বসতভিটা, আবাদি জমি ও ধানের ক্ষেত ভাঙন। গত কয়েক দিনে বাবর আলী, গোলাপী, গোলজার, নুর ইসলাম, মতিয়ার, আহাদ আলী, জহুরা, আসাদুল, আব্দুল, মইনুল, শাহ আলম, নজু, মোন্নাফ, আবুল হোসেন, শফিকুল, দুলু, নুরল ও নাজমুলের ঘরবাড়ি এবং আবাদি জমি তিস্তার পেটে গেছে।

ভাঙনের শিকার আসাদুল বলেন, ‘কয়েক বছর ধরে চরে চাষাবাদ করে সংসার চালাচ্ছি। বন্যায় ক্ষতি না হলেও পানি কমার পর নদী ভাঙতে শুরু করেছে। ১ লাখ ২৫ হাজার টাকায় ৩০ শতক জমি বন্ধক নিয়ে ধান চাষ করেছিলাম, সেটাও নদীতে চলে গেল। এখন ঋণের টাকা শোধ করব কীভাবে?’

নুরুল হক নামে অপর এক বাসিন্দা জানান, এর আগে তার বাড়ি ছয়বার নদীতে ভেঙেছে। এবারও সব হারানোর শঙ্কায় দিন কাটছে তাঁর।

লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল হাদী জানান, কয়েক দিন ধরে চলা ভাঙনে বহু পরিবার নিঃস্ব হয়েছে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও পাউবোকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত ভাঙন রোধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

তবে গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে পূর্বে শুকনো খাবার দেওয়া হয়েছে এবং নতুন ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার আওতায় আনা হবে।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুল হক বলেন, ‘আমি নতুন যোগদান করেছি। ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


গঙ্গাচড়ায় তিস্তার তীব্র ভাঙন, নদীগর্ভে ১৮ বসতভিটা ও ফসলি জমি

প্রকাশের তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের জয়রামওঝা চল্লিশ সাল এলাকায় তিস্তা নদীর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত কয়েক দিনে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে ১৮টি পরিবারের ঘরবাড়ি ও আবাদি জমি। অব্যাহত ভাঙন আতঙ্কে অনেকে বসতভিটা ও গবাদিপশু নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভাঙন শুরু হলেও তা ঠেকাতে এখন পর্যন্ত পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, তিস্তার তীব্র স্রোতে পাড় ভেঙে পড়ছে। ভাঙনের মুখে থাকা পরিবারগুলোর কেউ ঘরবাড়ি ভেঙে সরিয়ে নিচ্ছেন, কেউবা শেষ মুহূর্তে ভিটেমাটি রক্ষার আকুল চেষ্টা করছেন। কোথাও চোখের সামনে নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে বসতভিটা, আবার কোথাও ভেঙে যাচ্ছে বিস্তীর্ণ ধানের ক্ষেত।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সম্প্রতি তিস্তার পানি বৃদ্ধির পর স্রোতের তীব্রতা বাড়ে। পরবর্তীতে পানি কমতে শুরু করলে স্রোতের গতিপথ চরের দিকে ঘুরে যায়। এতে সেতু রক্ষার বাঁধের সঙ্গে এলাকাবাসীর উদ্যোগে তৈরি একটি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপরই শুরু হয় বসতভিটা, আবাদি জমি ও ধানের ক্ষেত ভাঙন। গত কয়েক দিনে বাবর আলী, গোলাপী, গোলজার, নুর ইসলাম, মতিয়ার, আহাদ আলী, জহুরা, আসাদুল, আব্দুল, মইনুল, শাহ আলম, নজু, মোন্নাফ, আবুল হোসেন, শফিকুল, দুলু, নুরল ও নাজমুলের ঘরবাড়ি এবং আবাদি জমি তিস্তার পেটে গেছে।

ভাঙনের শিকার আসাদুল বলেন, ‘কয়েক বছর ধরে চরে চাষাবাদ করে সংসার চালাচ্ছি। বন্যায় ক্ষতি না হলেও পানি কমার পর নদী ভাঙতে শুরু করেছে। ১ লাখ ২৫ হাজার টাকায় ৩০ শতক জমি বন্ধক নিয়ে ধান চাষ করেছিলাম, সেটাও নদীতে চলে গেল। এখন ঋণের টাকা শোধ করব কীভাবে?’

নুরুল হক নামে অপর এক বাসিন্দা জানান, এর আগে তার বাড়ি ছয়বার নদীতে ভেঙেছে। এবারও সব হারানোর শঙ্কায় দিন কাটছে তাঁর।

লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল হাদী জানান, কয়েক দিন ধরে চলা ভাঙনে বহু পরিবার নিঃস্ব হয়েছে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও পাউবোকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত ভাঙন রোধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

তবে গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে পূর্বে শুকনো খাবার দেওয়া হয়েছে এবং নতুন ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার আওতায় আনা হবে।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুল হক বলেন, ‘আমি নতুন যোগদান করেছি। ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত