সংবাদ

৭২০ কোটি টাকা ফেরতের দাবিতে মাদারগঞ্জে হাজারো গ্রাহকের বিক্ষোভ-ঘেরাও


প্রতিনিধি, জামালপুর
প্রতিনিধি, জামালপুর
প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৬ পিএম

৭২০ কোটি টাকা ফেরতের দাবিতে মাদারগঞ্জে হাজারো গ্রাহকের বিক্ষোভ-ঘেরাও
ছবি : সংবাদ

আত্মসাৎ হওয়া প্রায় ৭২০ কোটি টাকা ফেরতের দাবিতে জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলা পরিষদ কার্যালয় পাঁচ ঘণ্টা ঘেরাও করে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন হাজারো ভুক্তভোগী সমবায় গ্রাহক। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ‘আন্দোলনরত সকল বঞ্চিত গ্রাহক’ ব্যানারে এ কর্মসূচি পালিত হয়।

ভুক্তভোগীদের দাবি, সমবায় সমিতিতে আটকে থাকা তাদের কষ্টার্জিত অর্থ শতভাগ উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

জেলা সমবায় দপ্তর সূত্রে জানা যায়, মাদারগঞ্জ উপজেলার ২৩টি সমবায় সমিতিকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এসব সমিতির গ্রাহক সংখ্যা ৩২ হাজার ৪২৪। তাদের প্রায় ৭২০ কোটি ১৯ লাখ টাকা আটকে রয়েছে বলে দাবি আন্দোলনকারীদের। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, কৃষক, প্রবাসী, দিনমজুর, পোশাকশ্রমিক ও চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রয়েছেন।

দুপুরে মাদারগঞ্জ পৌরসভার গাবেরগ্রাম চৌরাস্তা মোড় থেকে ‘অর্থ উদ্ধার আন্দোলন’-এর নেতা শিবলুল বারী রাজুর নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি হাওয়াই রোড প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে অবস্থান নেয়। পরে সেখানে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করেন গ্রাহকেরা।

কর্মসূচি চলাকালে রকিবুল ইসলাম নামে এক গ্রাহকের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা তাকে এবং আরও নয়জন নারী গ্রাহককে উপজেলা পরিষদ চত্বরের একটি পরিত্যক্ত ঘরে অবরুদ্ধ করে রাখেন বলে জানা গেছে।

অর্থ উদ্ধার আন্দোলনের নেতা শিবলুল বারী রাজু বলেন, ‘গত তিন বছর ধরে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কেউ টাকা ফেরত পাননি। স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্যের দেওয়া প্রতিশ্রুতিও ভুক্তভোগীরা মেনে নেননি। কারণ, ওই প্রতিশ্রুতি ছিল সমিতির মালিকপক্ষের স্বার্থরক্ষার কৌশল।’ রকিবুল ইসলামকে অবরুদ্ধ করার বিষয়ে তিনি বলেন, আন্দোলনকারীদের সামনে আপত্তিকর বক্তব্য দেওয়ায় ক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা তাকে ধাওয়া দেন।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় জড়িত সমবায় সমিতিগুলোর অধিকাংশ পরিচালক বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী নেতাকর্মী। একই সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর কয়েকজন নেতারও এ ঘটনায় প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্নেহাশীষ রায় বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে।

মাদারগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরী জানান, আগে আন্দোলন না করার বিষয়ে বলা হয়েছিল। হঠাৎ কী কারণে আবার কর্মসূচি শুরু হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


৭২০ কোটি টাকা ফেরতের দাবিতে মাদারগঞ্জে হাজারো গ্রাহকের বিক্ষোভ-ঘেরাও

প্রকাশের তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

আত্মসাৎ হওয়া প্রায় ৭২০ কোটি টাকা ফেরতের দাবিতে জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলা পরিষদ কার্যালয় পাঁচ ঘণ্টা ঘেরাও করে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন হাজারো ভুক্তভোগী সমবায় গ্রাহক। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ‘আন্দোলনরত সকল বঞ্চিত গ্রাহক’ ব্যানারে এ কর্মসূচি পালিত হয়।

ভুক্তভোগীদের দাবি, সমবায় সমিতিতে আটকে থাকা তাদের কষ্টার্জিত অর্থ শতভাগ উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

জেলা সমবায় দপ্তর সূত্রে জানা যায়, মাদারগঞ্জ উপজেলার ২৩টি সমবায় সমিতিকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এসব সমিতির গ্রাহক সংখ্যা ৩২ হাজার ৪২৪। তাদের প্রায় ৭২০ কোটি ১৯ লাখ টাকা আটকে রয়েছে বলে দাবি আন্দোলনকারীদের। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, কৃষক, প্রবাসী, দিনমজুর, পোশাকশ্রমিক ও চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রয়েছেন।

দুপুরে মাদারগঞ্জ পৌরসভার গাবেরগ্রাম চৌরাস্তা মোড় থেকে ‘অর্থ উদ্ধার আন্দোলন’-এর নেতা শিবলুল বারী রাজুর নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি হাওয়াই রোড প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে অবস্থান নেয়। পরে সেখানে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করেন গ্রাহকেরা।

কর্মসূচি চলাকালে রকিবুল ইসলাম নামে এক গ্রাহকের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা তাকে এবং আরও নয়জন নারী গ্রাহককে উপজেলা পরিষদ চত্বরের একটি পরিত্যক্ত ঘরে অবরুদ্ধ করে রাখেন বলে জানা গেছে।

অর্থ উদ্ধার আন্দোলনের নেতা শিবলুল বারী রাজু বলেন, ‘গত তিন বছর ধরে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কেউ টাকা ফেরত পাননি। স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্যের দেওয়া প্রতিশ্রুতিও ভুক্তভোগীরা মেনে নেননি। কারণ, ওই প্রতিশ্রুতি ছিল সমিতির মালিকপক্ষের স্বার্থরক্ষার কৌশল।’ রকিবুল ইসলামকে অবরুদ্ধ করার বিষয়ে তিনি বলেন, আন্দোলনকারীদের সামনে আপত্তিকর বক্তব্য দেওয়ায় ক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা তাকে ধাওয়া দেন।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় জড়িত সমবায় সমিতিগুলোর অধিকাংশ পরিচালক বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী নেতাকর্মী। একই সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর কয়েকজন নেতারও এ ঘটনায় প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্নেহাশীষ রায় বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে।

মাদারগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরী জানান, আগে আন্দোলন না করার বিষয়ে বলা হয়েছিল। হঠাৎ কী কারণে আবার কর্মসূচি শুরু হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত