রান্নার সময় তেল ছিটকে পড়া কিংবা গরম পানি পড়ে হাত-পায়ের কোনো অংশ পুড়ে যাওয়া ঘরোয়া দুর্ঘটনার মধ্যে পরিচিত ঘটনা। কিন্তু পোড়া জায়গার পরবর্তী অবস্থা অনেকটাই নির্ভর করে দুর্ঘটনার পরপরই কী ধরনের পরিচর্যা করা হচ্ছে তার ওপর। তাই এমন পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
চিকিৎসকদের মতে, ত্বকে পোড়া লাগার পরও ক্ষতস্থানের ভেতরে কিছু সময় তাপ জমে থাকতে পারে। সেই তাপ দ্রুত কমানো না গেলে পোড়ার গভীরতা বাড়তে পারে। এ কারণে প্রাথমিক চিকিৎসার সময় কিছু প্রচলিত ভুল থেকে দূরে থাকা প্রয়োজন।
পোড়ার মাত্রা বুঝবেন যেভাবে
পোড়া ক্ষত সাধারণত তিন মাত্রার হতে পারে:-
প্রথম মাত্রা: ত্বক লাল হয়ে যায় এবং ব্যথা থাকে। তবে সাধারণত ফোস্কা দেখা যায় না। এ ধরনের পোড়া ক্ষত সাধারণত বাড়িতেই সেরে ওঠে।
দ্বিতীয় মাত্রা: পোড়া স্থানে ফোস্কা তৈরি হয় এবং ব্যথা তুলনামূলকভাবে তীব্র হয়।
তৃতীয় মাত্রা: ত্বকের রং সাদাটে বা কালচে হয়ে যেতে পারে। স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে আক্রান্ত স্থানে অনুভূতি বা সাড় নাও থাকতে পারে। এ অবস্থায় দেরি না করে হাসপাতালে নেওয়া প্রয়োজন।
পোড়া জায়গায় যা করা যাবে না
পোড়া জায়গায় বরফ দেওয়ার প্রবণতা অনেকেরই রয়েছে। কিন্তু এটি ত্বকের কোষ ও পেশির ক্ষতি করতে পারে।
একইভাবে পোড়া স্থানে টুথপেস্ট, ঘি, মাখন বা তেল লাগানোও উচিত নয়। এসব উপাদান ক্ষতস্থানের তাপ আটকে রাখতে পারে। এতে পোড়া আরও গভীর হওয়ার পাশাপাশি সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
প্রাথমিকভাবে কী করবেন
পোড়া জায়গায় দ্রুত সাধারণ কলের ঠাণ্ডা পানি দিতে হবে। অন্তত ২০ মিনিট ধরে পানি দিয়ে আক্রান্ত স্থান ধুয়ে নিতে হবে।
আক্রান্ত স্থানে আংটি, চুড়ি বা অন্য কোনো গয়না থাকলে দ্রুত খুলে ফেলতে হবে। কারণ পোড়া জায়গা পরে ফুলে গেলে এসব জিনিস রক্ত সঞ্চালনে বাধা তৈরি করতে পারে।
পানি দিয়ে ধোয়ার পর পরিষ্কার কাপড় দিয়ে জায়গাটি আলতোভাবে ঢেকে রাখা যেতে পারে। পোড়া স্থানে ফোস্কা তৈরি হলে সেটি নিজে থেকে ফাটানো উচিত নয়।
কোন ক্ষেত্রে দ্রুত হাসপাতালে যাবেন
মুখ, হাত, গোপনাঙ্গ, হাতের তালু কিংবা কোনো অস্থিসন্ধি পুড়ে গেলে ক্ষত ছোট হলেও দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া প্রয়োজন।
এ ছাড়া কেমিক্যাল বা বিদ্যুতের কারণে পোড়া হলে অপেক্ষা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
পোড়া ক্ষতের ক্ষেত্রে তাই প্রথম কয়েকটি পদক্ষেপই গুরুত্বপূর্ণ। ভুল কোনো উপাদান লাগানোর বদলে দ্রুত ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ক্ষতস্থান পরিষ্কার করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়াই জরুরি।

মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রান্নার সময় তেল ছিটকে পড়া কিংবা গরম পানি পড়ে হাত-পায়ের কোনো অংশ পুড়ে যাওয়া ঘরোয়া দুর্ঘটনার মধ্যে পরিচিত ঘটনা। কিন্তু পোড়া জায়গার পরবর্তী অবস্থা অনেকটাই নির্ভর করে দুর্ঘটনার পরপরই কী ধরনের পরিচর্যা করা হচ্ছে তার ওপর। তাই এমন পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
চিকিৎসকদের মতে, ত্বকে পোড়া লাগার পরও ক্ষতস্থানের ভেতরে কিছু সময় তাপ জমে থাকতে পারে। সেই তাপ দ্রুত কমানো না গেলে পোড়ার গভীরতা বাড়তে পারে। এ কারণে প্রাথমিক চিকিৎসার সময় কিছু প্রচলিত ভুল থেকে দূরে থাকা প্রয়োজন।
পোড়ার মাত্রা বুঝবেন যেভাবে
পোড়া ক্ষত সাধারণত তিন মাত্রার হতে পারে:-
প্রথম মাত্রা: ত্বক লাল হয়ে যায় এবং ব্যথা থাকে। তবে সাধারণত ফোস্কা দেখা যায় না। এ ধরনের পোড়া ক্ষত সাধারণত বাড়িতেই সেরে ওঠে।
দ্বিতীয় মাত্রা: পোড়া স্থানে ফোস্কা তৈরি হয় এবং ব্যথা তুলনামূলকভাবে তীব্র হয়।
তৃতীয় মাত্রা: ত্বকের রং সাদাটে বা কালচে হয়ে যেতে পারে। স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে আক্রান্ত স্থানে অনুভূতি বা সাড় নাও থাকতে পারে। এ অবস্থায় দেরি না করে হাসপাতালে নেওয়া প্রয়োজন।
পোড়া জায়গায় যা করা যাবে না
পোড়া জায়গায় বরফ দেওয়ার প্রবণতা অনেকেরই রয়েছে। কিন্তু এটি ত্বকের কোষ ও পেশির ক্ষতি করতে পারে।
একইভাবে পোড়া স্থানে টুথপেস্ট, ঘি, মাখন বা তেল লাগানোও উচিত নয়। এসব উপাদান ক্ষতস্থানের তাপ আটকে রাখতে পারে। এতে পোড়া আরও গভীর হওয়ার পাশাপাশি সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
প্রাথমিকভাবে কী করবেন
পোড়া জায়গায় দ্রুত সাধারণ কলের ঠাণ্ডা পানি দিতে হবে। অন্তত ২০ মিনিট ধরে পানি দিয়ে আক্রান্ত স্থান ধুয়ে নিতে হবে।
আক্রান্ত স্থানে আংটি, চুড়ি বা অন্য কোনো গয়না থাকলে দ্রুত খুলে ফেলতে হবে। কারণ পোড়া জায়গা পরে ফুলে গেলে এসব জিনিস রক্ত সঞ্চালনে বাধা তৈরি করতে পারে।
পানি দিয়ে ধোয়ার পর পরিষ্কার কাপড় দিয়ে জায়গাটি আলতোভাবে ঢেকে রাখা যেতে পারে। পোড়া স্থানে ফোস্কা তৈরি হলে সেটি নিজে থেকে ফাটানো উচিত নয়।
কোন ক্ষেত্রে দ্রুত হাসপাতালে যাবেন
মুখ, হাত, গোপনাঙ্গ, হাতের তালু কিংবা কোনো অস্থিসন্ধি পুড়ে গেলে ক্ষত ছোট হলেও দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া প্রয়োজন।
এ ছাড়া কেমিক্যাল বা বিদ্যুতের কারণে পোড়া হলে অপেক্ষা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
পোড়া ক্ষতের ক্ষেত্রে তাই প্রথম কয়েকটি পদক্ষেপই গুরুত্বপূর্ণ। ভুল কোনো উপাদান লাগানোর বদলে দ্রুত ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ক্ষতস্থান পরিষ্কার করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়াই জরুরি।

আপনার মতামত লিখুন