জ্বর, মাথাব্যথা কিংবা শরীর খারাপ—চিকিৎসক বিশ্রাম নিতে বলেছেন। তারপরও অফিসে ছুটির কথা জানাতে গিয়ে অনেকের মনে হয়, ‘আজ না গেলে কি খুব সমস্যা হবে?’
শরীর বিশ্রাম চাইলেও অফিসের কাজ, সহকর্মী কিংবা বস কী ভাববেন—এসব চিন্তা মাথায় ঘুরতে থাকে। ফলে অসুস্থতার মধ্যেও অনেকে কাজে থাকার চেষ্টা করেন।
দায়িত্বশীলতার সঙ্গে ভুল ধারণা মিশে যায়
নিজের কাজের প্রতি যত্নশীল হওয়া অবশ্যই ভালো। কিন্তু অনেক সময় দায়িত্বশীলতার সঙ্গে এমন একটি ধারণা যুক্ত হয়ে যায় যে, কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা মানেই দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া।
কেউ ভাবতে পারেন, তিনি না থাকলে সহকর্মীদের বাড়তি কাজ করতে হবে। আবার কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ আটকে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকতে পারে।
কিন্তু অসুস্থ শরীর নিয়ে অফিসে উপস্থিত থাকলেই যে কাজ ভালো হবে, তা নয়। অসুস্থ অবস্থায় মনোযোগ ও কাজের দক্ষতা কমে যেতে পারে। ফলে কর্মঘণ্টা পূরণ হলেও কাজের মান প্রত্যাশিত নাও হতে পারে।
সবসময় অনলাইনে থাকার চাপ
বর্তমান কর্মসংস্কৃতিতে অফিসের সময়ের বাইরেও ই-মেইল, ফোন বা মেসেজের মাধ্যমে কাজে যুক্ত থাকার প্রবণতা বেড়েছে।
ফলে অনেকের কাছে ছুটি মানেও পুরোপুরি কাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া নয়। অসুস্থতার দিনেও ফোনে অফিসের বার্তা দেখা, জরুরি কাজের উত্তর দেওয়া কিংবা মিটিংয়ে যুক্ত হওয়ার অভ্যাস তৈরি হতে পারে।
এতে শরীর বিশ্রামে থাকলেও মন কাজের চাপ থেকে বের হতে পারে না।
‘আমার জন্য অন্যদের সমস্যা হবে’
ছোট দলে কাজ করলে এই অপরাধবোধ আরও বেশি হতে পারে। একজন কর্মী ছুটিতে গেলে তাঁর কিছু দায়িত্ব সাময়িকভাবে অন্যদের নিতে হয়।
তবে একটি সুস্থ কর্মপরিবেশে এমন ব্যবস্থা থাকা দরকার, যাতে একজন কর্মী অসুস্থ হলে পুরো কাজের প্রক্রিয়া থেমে না যায়। প্রয়োজনে দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া বা কাজের সময়সূচি সাময়িকভাবে পরিবর্তন করা কর্মস্থলের স্বাভাবিক ব্যবস্থাপনার অংশ।
অন্যরা কী ভাববে, সেই ভয়
‘ছুটি নিলে কি আমাকে অলস ভাববে?’—এমন প্রশ্নও অনেকের মনে আসে। বিশেষ করে কর্মক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় কাজ করাকে যখন সাফল্যের মাপকাঠি হিসেবে দেখা হয়, তখন নিজের অসুস্থতাকেও যথেষ্ট কারণ বলে মনে হতে নাও পারে।
কেউ হয়তো ভাবেন, ‘আরেকটু সহ্য করলেই অফিসে যেতে পারব।’ কিন্তু শরীরের প্রয়োজনকে বারবার উপেক্ষা করা সুস্থ থাকার জন্য ভালো অভ্যাস নয়।
নিজের জন্য যে প্রশ্নটি করতে পারেন
অসুস্থ অবস্থায় ছুটি নেওয়া নিয়ে দ্বিধা হলে নিজেকে একটি প্রশ্ন করা যায়—একই অবস্থায় কোনো সহকর্মী থাকলে তাকে কি অফিসে আসতে বলতেন?
যদি উত্তর হয় ‘বিশ্রাম নেওয়া উচিত’, তাহলে নিজের ক্ষেত্রেও একই যুক্তি প্রযোজ্য।
কাজ গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু নিয়মিত কাজ করার জন্য সুস্থ শরীর ও মনও প্রয়োজন। প্রয়োজনীয় বিশ্রাম নিয়ে দ্রুত সুস্থ হয়ে কাজে ফিরতে পারা ব্যক্তি ও কর্মস্থল—দুই পক্ষের জন্যই উপকারী হতে পারে।
তাই সত্যিই অসুস্থ হলে ছুটি নেওয়াকে দায়িত্বজ্ঞানহীনতা হিসেবে দেখার প্রয়োজন নেই। বরং প্রয়োজনের সময় শরীরকে বিশ্রাম দেওয়াও কর্মজীবনের ভারসাম্য বজায় রাখার অংশ।

সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জ্বর, মাথাব্যথা কিংবা শরীর খারাপ—চিকিৎসক বিশ্রাম নিতে বলেছেন। তারপরও অফিসে ছুটির কথা জানাতে গিয়ে অনেকের মনে হয়, ‘আজ না গেলে কি খুব সমস্যা হবে?’
শরীর বিশ্রাম চাইলেও অফিসের কাজ, সহকর্মী কিংবা বস কী ভাববেন—এসব চিন্তা মাথায় ঘুরতে থাকে। ফলে অসুস্থতার মধ্যেও অনেকে কাজে থাকার চেষ্টা করেন।
দায়িত্বশীলতার সঙ্গে ভুল ধারণা মিশে যায়
নিজের কাজের প্রতি যত্নশীল হওয়া অবশ্যই ভালো। কিন্তু অনেক সময় দায়িত্বশীলতার সঙ্গে এমন একটি ধারণা যুক্ত হয়ে যায় যে, কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা মানেই দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া।
কেউ ভাবতে পারেন, তিনি না থাকলে সহকর্মীদের বাড়তি কাজ করতে হবে। আবার কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ আটকে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকতে পারে।
কিন্তু অসুস্থ শরীর নিয়ে অফিসে উপস্থিত থাকলেই যে কাজ ভালো হবে, তা নয়। অসুস্থ অবস্থায় মনোযোগ ও কাজের দক্ষতা কমে যেতে পারে। ফলে কর্মঘণ্টা পূরণ হলেও কাজের মান প্রত্যাশিত নাও হতে পারে।
সবসময় অনলাইনে থাকার চাপ
বর্তমান কর্মসংস্কৃতিতে অফিসের সময়ের বাইরেও ই-মেইল, ফোন বা মেসেজের মাধ্যমে কাজে যুক্ত থাকার প্রবণতা বেড়েছে।
ফলে অনেকের কাছে ছুটি মানেও পুরোপুরি কাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া নয়। অসুস্থতার দিনেও ফোনে অফিসের বার্তা দেখা, জরুরি কাজের উত্তর দেওয়া কিংবা মিটিংয়ে যুক্ত হওয়ার অভ্যাস তৈরি হতে পারে।
এতে শরীর বিশ্রামে থাকলেও মন কাজের চাপ থেকে বের হতে পারে না।
‘আমার জন্য অন্যদের সমস্যা হবে’
ছোট দলে কাজ করলে এই অপরাধবোধ আরও বেশি হতে পারে। একজন কর্মী ছুটিতে গেলে তাঁর কিছু দায়িত্ব সাময়িকভাবে অন্যদের নিতে হয়।
তবে একটি সুস্থ কর্মপরিবেশে এমন ব্যবস্থা থাকা দরকার, যাতে একজন কর্মী অসুস্থ হলে পুরো কাজের প্রক্রিয়া থেমে না যায়। প্রয়োজনে দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া বা কাজের সময়সূচি সাময়িকভাবে পরিবর্তন করা কর্মস্থলের স্বাভাবিক ব্যবস্থাপনার অংশ।
অন্যরা কী ভাববে, সেই ভয়
‘ছুটি নিলে কি আমাকে অলস ভাববে?’—এমন প্রশ্নও অনেকের মনে আসে। বিশেষ করে কর্মক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় কাজ করাকে যখন সাফল্যের মাপকাঠি হিসেবে দেখা হয়, তখন নিজের অসুস্থতাকেও যথেষ্ট কারণ বলে মনে হতে নাও পারে।
কেউ হয়তো ভাবেন, ‘আরেকটু সহ্য করলেই অফিসে যেতে পারব।’ কিন্তু শরীরের প্রয়োজনকে বারবার উপেক্ষা করা সুস্থ থাকার জন্য ভালো অভ্যাস নয়।
নিজের জন্য যে প্রশ্নটি করতে পারেন
অসুস্থ অবস্থায় ছুটি নেওয়া নিয়ে দ্বিধা হলে নিজেকে একটি প্রশ্ন করা যায়—একই অবস্থায় কোনো সহকর্মী থাকলে তাকে কি অফিসে আসতে বলতেন?
যদি উত্তর হয় ‘বিশ্রাম নেওয়া উচিত’, তাহলে নিজের ক্ষেত্রেও একই যুক্তি প্রযোজ্য।
কাজ গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু নিয়মিত কাজ করার জন্য সুস্থ শরীর ও মনও প্রয়োজন। প্রয়োজনীয় বিশ্রাম নিয়ে দ্রুত সুস্থ হয়ে কাজে ফিরতে পারা ব্যক্তি ও কর্মস্থল—দুই পক্ষের জন্যই উপকারী হতে পারে।
তাই সত্যিই অসুস্থ হলে ছুটি নেওয়াকে দায়িত্বজ্ঞানহীনতা হিসেবে দেখার প্রয়োজন নেই। বরং প্রয়োজনের সময় শরীরকে বিশ্রাম দেওয়াও কর্মজীবনের ভারসাম্য বজায় রাখার অংশ।

আপনার মতামত লিখুন