সংবাদ

বোকা প্রশ্ন বলে কিছু নেই, না জেনেই থাকা বড় ভুল


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১৭ পিএম

বোকা প্রশ্ন বলে কিছু নেই, না জেনেই থাকা বড় ভুল

‘এটা আবার কেমন প্রশ্ন!’—কথাটি শুনে অনেকেই পরেরবার প্রশ্ন করার সাহস হারিয়ে ফেলেন। কোনো বিষয় বুঝতে না পারলেও চুপ থাকেন, কারণ আশপাশের সবাই বিষয়টি জানে বলে মনে হয়। কখনো আবার ভয় থাকে, প্রশ্ন করলে অন্যরা তাঁকে কম বুদ্ধিমান ভাবতে পারে।

কিন্তু শেখার ক্ষেত্রে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—না জানা স্বাভাবিক, জানতে চাওয়াটাই গুরুত্বপূর্ণ।

ছোটবেলায় প্রশ্নের শেষ ছিল না

শৈশবে আমাদের প্রশ্নের কোনো শেষ থাকত না। আকাশ নীল কেন, চাঁদ কেন সঙ্গে সঙ্গে চলে, পিঁপড়া কীভাবে সারি বেঁধে হাঁটে কিংবা মাছ পানির নিচে কীভাবে শ্বাস নেয়—প্রতিটি বিষয়ই ছিল কৌতূহলের কারণ।

বড়রা কখনো উত্তর দিতেন, কখনো হাসতেন। কিন্তু প্রশ্ন করার প্রবণতাটিকে স্বাভাবিকভাবেই দেখা হতো।

সমস্যা তৈরি হয় বয়স বাড়ার সঙ্গে। তখন আমরা বুঝতে শুরু করি, কিছু প্রশ্নকে মানুষ ‘স্মার্ট’ আর কিছু প্রশ্নকে ‘বোকা’ হিসেবে দেখে।

না জানার ভয় শেখার পথে বাধা

অফিসে নতুন কোনো কাজ বুঝতে না পারলেও অনেকে প্রশ্ন করেন না। কোনো শব্দের অর্থ না জানলেও বন্ধুর সামনে স্বীকার করতে চান না। নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করতে সমস্যা হলেও সাহায্য চান না।

কারণ মনে হয়, ‘সবাই তো জানে, শুধু আমি জানি না।’

কিন্তু বাস্তবে কোনো বিষয় না জানা অপরাধ নয়। বরং না জেনে ভুল করার চেয়ে প্রশ্ন করে বিষয়টি পরিষ্কার করে নেওয়া অনেক বেশি কার্যকর।

একটি প্রশ্ন থেকেই শুরু হতে পারে নতুন শেখা

ধরুন, রান্নার সময় আপনার মনে হলো—পেঁয়াজ আগে ভাজা হয় কেন? প্রশ্নটি খুব সাধারণ। কিন্তু উত্তর খুঁজতে গিয়ে আপনি জানতে পারেন, তাপের প্রভাবে খাবারের স্বাদ, গন্ধ ও রঙে বিভিন্ন রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে।

অর্থাৎ একটি সাধারণ কৌতূহল থেকেই নতুন একটি বিষয় শেখা সম্ভব।

কর্মক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য। কোনো কাজ কেন একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে করা হচ্ছে, তা বুঝতে না পারলে প্রশ্ন করা উচিত। ‘এটা কেন এভাবে করতে হবে?’ বা ‘অন্যভাবে করলে কী সমস্যা হবে?’—এমন প্রশ্ন কাজের পদ্ধতি আরও ভালোভাবে বুঝতে সাহায্য করতে পারে।

তবে কৌতূহলেরও সীমা আছে

প্রশ্ন করা ভালো, কিন্তু সব বিষয়ে প্রশ্ন করার অধিকার আছে—এমন নয়। অন্যের ব্যক্তিগত জীবন, আয়, সম্পর্ক, শরীর বা পারিবারিক সমস্যা নিয়ে এমন প্রশ্ন করা উচিত নয়, যাতে তিনি অস্বস্তিতে পড়েন।

অর্থাৎ সত্যিকারের কৌতূহল এবং ব্যক্তিগত বিষয়ে অযাচিত হস্তক্ষেপ এক জিনিস নয়। প্রশ্নের বিষয়, সময় ও পরিবেশ বিবেচনা করাও জরুরি।

শিশুদের প্রশ্ন থামিয়ে দেবেন না

শিশুরা স্বাভাবিকভাবেই অনেক প্রশ্ন করে। ‘এত প্রশ্ন করো কেন?’ বলে তাদের থামিয়ে দিলে কৌতূহল কমে যেতে পারে।

উত্তর জানা না থাকলে বড়রাও বলতে পারেন, ‘আমি জানি না, চলো একসঙ্গে খুঁজে দেখি।’ এতে শিশু বুঝতে শেখে যে কোনো কিছু না জানা লজ্জার বিষয় নয় এবং উত্তর খুঁজে বের করাও শেখার অংশ।

প্রশ্ন করলেই খুলবে নতুন দরজা

যে শব্দের অর্থ জানেন না, জিজ্ঞেস করুন। যে তথ্য নিয়ে সন্দেহ আছে, যাচাই করুন। যে বিষয়টি বুঝতে পারছেন না, সেটি পরিষ্কার করে নিন।

তবে প্রশ্ন করার আগে ভাবুন—এটি কি সত্যিই জানার প্রয়োজন, নাকি শুধু অন্যকে অস্বস্তিতে ফেলার জন্য জানতে চাইছেন?

কারণ কৌতূহল মানুষকে ছোট করে না। বরং একটি সাধারণ প্রশ্ন নতুন কোনো ধারণা, তথ্য কিংবা চিন্তার দরজা খুলে দিতে পারে।

জীবনের অনেক বড় শেখার শুরু হয় খুব ছোট একটি প্রশ্ন থেকে। তাই মাথায় আসা যুক্তিসঙ্গত প্রশ্নকে শুধু ‘বোকা’ মনে হবে বলে চেপে রাখার প্রয়োজন নেই। না জানা স্বাভাবিক; জানার ইচ্ছাই মানুষকে এগিয়ে নেয়।

বোকা প্রশ্ন বলে আসলে কিছু নেই—আছে শুধু এমন কিছু প্রশ্ন, যার উত্তর আমরা এখনো জানি না।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


বোকা প্রশ্ন বলে কিছু নেই, না জেনেই থাকা বড় ভুল

প্রকাশের তারিখ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

‘এটা আবার কেমন প্রশ্ন!’—কথাটি শুনে অনেকেই পরেরবার প্রশ্ন করার সাহস হারিয়ে ফেলেন। কোনো বিষয় বুঝতে না পারলেও চুপ থাকেন, কারণ আশপাশের সবাই বিষয়টি জানে বলে মনে হয়। কখনো আবার ভয় থাকে, প্রশ্ন করলে অন্যরা তাঁকে কম বুদ্ধিমান ভাবতে পারে।

কিন্তু শেখার ক্ষেত্রে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—না জানা স্বাভাবিক, জানতে চাওয়াটাই গুরুত্বপূর্ণ।

ছোটবেলায় প্রশ্নের শেষ ছিল না

শৈশবে আমাদের প্রশ্নের কোনো শেষ থাকত না। আকাশ নীল কেন, চাঁদ কেন সঙ্গে সঙ্গে চলে, পিঁপড়া কীভাবে সারি বেঁধে হাঁটে কিংবা মাছ পানির নিচে কীভাবে শ্বাস নেয়—প্রতিটি বিষয়ই ছিল কৌতূহলের কারণ।

বড়রা কখনো উত্তর দিতেন, কখনো হাসতেন। কিন্তু প্রশ্ন করার প্রবণতাটিকে স্বাভাবিকভাবেই দেখা হতো।

সমস্যা তৈরি হয় বয়স বাড়ার সঙ্গে। তখন আমরা বুঝতে শুরু করি, কিছু প্রশ্নকে মানুষ ‘স্মার্ট’ আর কিছু প্রশ্নকে ‘বোকা’ হিসেবে দেখে।

না জানার ভয় শেখার পথে বাধা

অফিসে নতুন কোনো কাজ বুঝতে না পারলেও অনেকে প্রশ্ন করেন না। কোনো শব্দের অর্থ না জানলেও বন্ধুর সামনে স্বীকার করতে চান না। নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করতে সমস্যা হলেও সাহায্য চান না।

কারণ মনে হয়, ‘সবাই তো জানে, শুধু আমি জানি না।’

কিন্তু বাস্তবে কোনো বিষয় না জানা অপরাধ নয়। বরং না জেনে ভুল করার চেয়ে প্রশ্ন করে বিষয়টি পরিষ্কার করে নেওয়া অনেক বেশি কার্যকর।

একটি প্রশ্ন থেকেই শুরু হতে পারে নতুন শেখা

ধরুন, রান্নার সময় আপনার মনে হলো—পেঁয়াজ আগে ভাজা হয় কেন? প্রশ্নটি খুব সাধারণ। কিন্তু উত্তর খুঁজতে গিয়ে আপনি জানতে পারেন, তাপের প্রভাবে খাবারের স্বাদ, গন্ধ ও রঙে বিভিন্ন রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে।

অর্থাৎ একটি সাধারণ কৌতূহল থেকেই নতুন একটি বিষয় শেখা সম্ভব।

কর্মক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য। কোনো কাজ কেন একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে করা হচ্ছে, তা বুঝতে না পারলে প্রশ্ন করা উচিত। ‘এটা কেন এভাবে করতে হবে?’ বা ‘অন্যভাবে করলে কী সমস্যা হবে?’—এমন প্রশ্ন কাজের পদ্ধতি আরও ভালোভাবে বুঝতে সাহায্য করতে পারে।

তবে কৌতূহলেরও সীমা আছে

প্রশ্ন করা ভালো, কিন্তু সব বিষয়ে প্রশ্ন করার অধিকার আছে—এমন নয়। অন্যের ব্যক্তিগত জীবন, আয়, সম্পর্ক, শরীর বা পারিবারিক সমস্যা নিয়ে এমন প্রশ্ন করা উচিত নয়, যাতে তিনি অস্বস্তিতে পড়েন।

অর্থাৎ সত্যিকারের কৌতূহল এবং ব্যক্তিগত বিষয়ে অযাচিত হস্তক্ষেপ এক জিনিস নয়। প্রশ্নের বিষয়, সময় ও পরিবেশ বিবেচনা করাও জরুরি।

শিশুদের প্রশ্ন থামিয়ে দেবেন না

শিশুরা স্বাভাবিকভাবেই অনেক প্রশ্ন করে। ‘এত প্রশ্ন করো কেন?’ বলে তাদের থামিয়ে দিলে কৌতূহল কমে যেতে পারে।

উত্তর জানা না থাকলে বড়রাও বলতে পারেন, ‘আমি জানি না, চলো একসঙ্গে খুঁজে দেখি।’ এতে শিশু বুঝতে শেখে যে কোনো কিছু না জানা লজ্জার বিষয় নয় এবং উত্তর খুঁজে বের করাও শেখার অংশ।

প্রশ্ন করলেই খুলবে নতুন দরজা

যে শব্দের অর্থ জানেন না, জিজ্ঞেস করুন। যে তথ্য নিয়ে সন্দেহ আছে, যাচাই করুন। যে বিষয়টি বুঝতে পারছেন না, সেটি পরিষ্কার করে নিন।

তবে প্রশ্ন করার আগে ভাবুন—এটি কি সত্যিই জানার প্রয়োজন, নাকি শুধু অন্যকে অস্বস্তিতে ফেলার জন্য জানতে চাইছেন?

কারণ কৌতূহল মানুষকে ছোট করে না। বরং একটি সাধারণ প্রশ্ন নতুন কোনো ধারণা, তথ্য কিংবা চিন্তার দরজা খুলে দিতে পারে।

জীবনের অনেক বড় শেখার শুরু হয় খুব ছোট একটি প্রশ্ন থেকে। তাই মাথায় আসা যুক্তিসঙ্গত প্রশ্নকে শুধু ‘বোকা’ মনে হবে বলে চেপে রাখার প্রয়োজন নেই। না জানা স্বাভাবিক; জানার ইচ্ছাই মানুষকে এগিয়ে নেয়।

বোকা প্রশ্ন বলে আসলে কিছু নেই—আছে শুধু এমন কিছু প্রশ্ন, যার উত্তর আমরা এখনো জানি না।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত