ভোরের স্নিগ্ধতায় এক কাপ কফি অনেকের কাছেই কেবল একটি পানীয় নয়, বরং নিত্যদিনের এক অবিচ্ছেদ্য অভ্যাস। তবে তীব্র স্বাদের ব্ল্যাক কফি সবার ভালো লাগে না। তাই দুধ মিশিয়ে লাতে, ক্যাপুচিনো বা মোচার মতো পানীয় বেছে নেন অনেকে।
দুধ যোগ করার ফলে কফির স্বাদ ও গঠন বদলে যায়। কিন্তু শুধু স্বাদের পরিবর্তন নয়, কফির উপাদান ও দুধের প্রোটিনের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়েও গবেষণা হয়েছে।
কফি ও দুধের উপাদানের মিথস্ক্রিয়া
কফিতে থাকা পলিফেনলসহ বিভিন্ন যৌগ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করতে পারে। অন্যদিকে দুধে রয়েছে প্রোটিন ও অ্যামিনো অ্যাসিড।
গবেষণাগারে কফির পলিফেনল ও দুধের প্রোটিন একসঙ্গে থাকলে কী ধরনের পরিবর্তন হয়, তা নিয়ে পরীক্ষা হয়েছে। ‘জার্নাল অব অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড ফুড কেমিস্ট্রি’-তে প্রকাশিত গবেষণাতেও এই মিথস্ক্রিয়া নিয়ে সম্ভাব্য প্রদাহবিরোধী প্রভাবের বিষয়টি উঠে এসেছে।
তবে গবেষণাগারে পাওয়া এসব ফলাফল থেকে দুধ-কফি পান করলে মানুষের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য উপকার নিশ্চিত—এমন সিদ্ধান্তে যাওয়া যায় না।
দুধে বদলে যায় কফির স্বাদ
দুধ কফির তীব্রতা ও তিক্ততা কিছুটা কমিয়ে দেয়। ফলে যারা ব্ল্যাক কফির স্বাদ পছন্দ করেন না, তাদের কাছে দুধযুক্ত কফি বেশি গ্রহণযোগ্য হতে পারে।
তবে দুধ সবার শরীরে একইভাবে সহনীয় নয়। কারও ক্ষেত্রে দুধ বা কফি—যেকোনো একটি উপাদানেই হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ল্যাকটোজ অসহিষ্ণু হলে কী করবেন
যাদের ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতা রয়েছে, তারা সাধারণ দুধ দিয়ে কফি পান করলে পেট ফাঁপা, গ্যাস, পেটে ব্যথা বা ডায়রিয়ার মতো উপসর্গ অনুভব করতে পারেন।
এ ধরনের সমস্যা হলে ল্যাকটোজ-ফ্রি দুধ বা সহনীয় কোনো বিকল্প ব্যবহার করা যেতে পারে। নিয়মিত সমস্যা হলে কারণ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
ওজন কমানোর সময় কফিতে নজর কোথায়?
ব্ল্যাক কফিতে সাধারণত ক্যালরি কম থাকে। কিন্তু দুধের সঙ্গে চিনি, সিরাপ, ক্রিম বা হুইপড ক্রিম যোগ করলে পানীয়টির মোট ক্যালরি অনেক বেড়ে যেতে পারে।
বিশেষ করে ক্যাফের ফ্লেভারযুক্ত কফিতে অতিরিক্ত চিনি ও অন্যান্য উপাদান থাকতে পারে। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণের সময় শুধু কফি খাচ্ছেন কি না, সেটি নয়—কফির সঙ্গে কী যোগ করছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
দুধ কি কফির সব গুণ নষ্ট করে?
দুধের প্রোটিন কফির কিছু পলিফেনলের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করতে পারে—এমন প্রমাণ রয়েছে। তবে দুধ মেশালেই কফির সব অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুণ নষ্ট হয়ে যায়, এমনটা বলার মতো যথেষ্ট প্রমাণ নেই।
আবার এই মিথস্ক্রিয়া মানুষের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যে কী প্রভাব ফেলে, সে বিষয়েও নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো গবেষণা এখনো সীমিত।
তাই দুধ দিয়ে কফি পান করা একেবারে ভালো বা খারাপ—এভাবে দেখার সুযোগ নেই। দুধ সহ্য করার ক্ষমতা, কফির পরিমাণ, চিনি ও অন্যান্য উপাদান এবং ক্যাফেইন শরীরে কী প্রভাব ফেলছে—এসব বিবেচনা করাই গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে কফি পান করার পর ঘুমে সমস্যা হলে বিকেল বা রাতের দিকে ক্যাফেইন এড়িয়ে চলা ভালো। আর নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যগত সমস্যা থাকলে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তনের আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ভোরের স্নিগ্ধতায় এক কাপ কফি অনেকের কাছেই কেবল একটি পানীয় নয়, বরং নিত্যদিনের এক অবিচ্ছেদ্য অভ্যাস। তবে তীব্র স্বাদের ব্ল্যাক কফি সবার ভালো লাগে না। তাই দুধ মিশিয়ে লাতে, ক্যাপুচিনো বা মোচার মতো পানীয় বেছে নেন অনেকে।
দুধ যোগ করার ফলে কফির স্বাদ ও গঠন বদলে যায়। কিন্তু শুধু স্বাদের পরিবর্তন নয়, কফির উপাদান ও দুধের প্রোটিনের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়েও গবেষণা হয়েছে।
কফি ও দুধের উপাদানের মিথস্ক্রিয়া
কফিতে থাকা পলিফেনলসহ বিভিন্ন যৌগ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করতে পারে। অন্যদিকে দুধে রয়েছে প্রোটিন ও অ্যামিনো অ্যাসিড।
গবেষণাগারে কফির পলিফেনল ও দুধের প্রোটিন একসঙ্গে থাকলে কী ধরনের পরিবর্তন হয়, তা নিয়ে পরীক্ষা হয়েছে। ‘জার্নাল অব অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড ফুড কেমিস্ট্রি’-তে প্রকাশিত গবেষণাতেও এই মিথস্ক্রিয়া নিয়ে সম্ভাব্য প্রদাহবিরোধী প্রভাবের বিষয়টি উঠে এসেছে।
তবে গবেষণাগারে পাওয়া এসব ফলাফল থেকে দুধ-কফি পান করলে মানুষের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য উপকার নিশ্চিত—এমন সিদ্ধান্তে যাওয়া যায় না।
দুধে বদলে যায় কফির স্বাদ
দুধ কফির তীব্রতা ও তিক্ততা কিছুটা কমিয়ে দেয়। ফলে যারা ব্ল্যাক কফির স্বাদ পছন্দ করেন না, তাদের কাছে দুধযুক্ত কফি বেশি গ্রহণযোগ্য হতে পারে।
তবে দুধ সবার শরীরে একইভাবে সহনীয় নয়। কারও ক্ষেত্রে দুধ বা কফি—যেকোনো একটি উপাদানেই হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ল্যাকটোজ অসহিষ্ণু হলে কী করবেন
যাদের ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতা রয়েছে, তারা সাধারণ দুধ দিয়ে কফি পান করলে পেট ফাঁপা, গ্যাস, পেটে ব্যথা বা ডায়রিয়ার মতো উপসর্গ অনুভব করতে পারেন।
এ ধরনের সমস্যা হলে ল্যাকটোজ-ফ্রি দুধ বা সহনীয় কোনো বিকল্প ব্যবহার করা যেতে পারে। নিয়মিত সমস্যা হলে কারণ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
ওজন কমানোর সময় কফিতে নজর কোথায়?
ব্ল্যাক কফিতে সাধারণত ক্যালরি কম থাকে। কিন্তু দুধের সঙ্গে চিনি, সিরাপ, ক্রিম বা হুইপড ক্রিম যোগ করলে পানীয়টির মোট ক্যালরি অনেক বেড়ে যেতে পারে।
বিশেষ করে ক্যাফের ফ্লেভারযুক্ত কফিতে অতিরিক্ত চিনি ও অন্যান্য উপাদান থাকতে পারে। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণের সময় শুধু কফি খাচ্ছেন কি না, সেটি নয়—কফির সঙ্গে কী যোগ করছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
দুধ কি কফির সব গুণ নষ্ট করে?
দুধের প্রোটিন কফির কিছু পলিফেনলের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করতে পারে—এমন প্রমাণ রয়েছে। তবে দুধ মেশালেই কফির সব অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুণ নষ্ট হয়ে যায়, এমনটা বলার মতো যথেষ্ট প্রমাণ নেই।
আবার এই মিথস্ক্রিয়া মানুষের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যে কী প্রভাব ফেলে, সে বিষয়েও নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো গবেষণা এখনো সীমিত।
তাই দুধ দিয়ে কফি পান করা একেবারে ভালো বা খারাপ—এভাবে দেখার সুযোগ নেই। দুধ সহ্য করার ক্ষমতা, কফির পরিমাণ, চিনি ও অন্যান্য উপাদান এবং ক্যাফেইন শরীরে কী প্রভাব ফেলছে—এসব বিবেচনা করাই গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে কফি পান করার পর ঘুমে সমস্যা হলে বিকেল বা রাতের দিকে ক্যাফেইন এড়িয়ে চলা ভালো। আর নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যগত সমস্যা থাকলে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তনের আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

আপনার মতামত লিখুন