সরকারি প্রশাসনে গতিশীলতা আনা, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং সামগ্রিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ২৩ দফার একগুচ্ছ কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। দেশের সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে এসব নির্দেশনা অনতিবিলম্বে বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এই সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রশাসন পরিচালনায় এ ধরনের সমন্বিত ও সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান এটিই প্রথম। এর আগে গত ১৫ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সচিবদের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই ২৩ দফা নির্দেশনা চূড়ান্ত করা হয়েছিল।
জারিকৃত নির্দেশনায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, পদোন্নতি, বদলি বা যেকোনো প্রশাসনিক সুবিধা লাভের জন্য তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে তদবির বা প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি এই অপচেষ্টার বিস্তারিত তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার অফিসিয়াল ব্যক্তিগত নথিতেও (ডসিয়ার) স্থায়ীভাবে লিপিবদ্ধ রাখা হবে।
প্রশাসনে দুর্নীতির লাগাম টানতে এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করতে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে আলাদা ‘অভ্যন্তরীণ কমিটি’ গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া একই কর্মকর্তা যাতে বারবার বিভিন্ন দপ্তর বা প্রকল্পের আওতায় বিদেশ ভ্রমণের সুযোগ না পান, সে বিষয়ে সচিবদের কড়া নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরকারি কর্মচারীদের সঠিক সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বাধ্যতামূলক ডিজিটাল হাজিরা চালু করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। উপস্থিতি পর্যবেক্ষণে আইসিটি বিভাগ একটি কেন্দ্রীয় ড্যাশবোর্ড তৈরি করবে, যার মাধ্যমে দেশের যেকোনো প্রান্তের সরকারি অফিসের উপস্থিতির হার তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে সরাসরি তদারকি করা যাবে।
কেনাকাটায় স্বচ্ছতা ফেরাতে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত কমিটিতে প্রস্তাব পাঠানোর আগেই বাজেট বরাদ্দ আছে কি না, তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ক্রয় প্রস্তাবের সারসংক্ষেপ ‘সরকারি ক্রয় বিধিমালা (পিপিআর), ২০২৫’-এর তপশিল-৭ মেনে প্রস্তুত করতে হবে এবং সভার অন্তত চার কার্যদিবস আগে তা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দিতে হবে।
বিভিন্ন সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে জমি কিংবা আইনি বিরোধের ক্ষেত্রে সরাসরি আদালতে না গিয়ে সমঝোতার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মধ্যস্থতায় আন্তঃমন্ত্রণালয় আলোচনার মাধ্যমে এসব অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিষ্পত্তির ওপর জোর দেওয়া হয়।
এ ছাড়া প্রশাসনিক কাঠামোকে আরও বেগবান করতে অপ্রয়োজনীয় পদ বিলুপ্তকরণ, শূন্য পদ দ্রুত পূরণ এবং প্রতি তিন মাস পরপর অর্গানোগ্রাম হালনাগাদ রাখার নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সরকারি প্রশাসনে গতিশীলতা আনা, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং সামগ্রিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ২৩ দফার একগুচ্ছ কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। দেশের সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে এসব নির্দেশনা অনতিবিলম্বে বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এই সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রশাসন পরিচালনায় এ ধরনের সমন্বিত ও সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান এটিই প্রথম। এর আগে গত ১৫ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সচিবদের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই ২৩ দফা নির্দেশনা চূড়ান্ত করা হয়েছিল।
জারিকৃত নির্দেশনায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, পদোন্নতি, বদলি বা যেকোনো প্রশাসনিক সুবিধা লাভের জন্য তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে তদবির বা প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি এই অপচেষ্টার বিস্তারিত তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার অফিসিয়াল ব্যক্তিগত নথিতেও (ডসিয়ার) স্থায়ীভাবে লিপিবদ্ধ রাখা হবে।
প্রশাসনে দুর্নীতির লাগাম টানতে এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করতে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে আলাদা ‘অভ্যন্তরীণ কমিটি’ গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া একই কর্মকর্তা যাতে বারবার বিভিন্ন দপ্তর বা প্রকল্পের আওতায় বিদেশ ভ্রমণের সুযোগ না পান, সে বিষয়ে সচিবদের কড়া নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরকারি কর্মচারীদের সঠিক সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বাধ্যতামূলক ডিজিটাল হাজিরা চালু করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। উপস্থিতি পর্যবেক্ষণে আইসিটি বিভাগ একটি কেন্দ্রীয় ড্যাশবোর্ড তৈরি করবে, যার মাধ্যমে দেশের যেকোনো প্রান্তের সরকারি অফিসের উপস্থিতির হার তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে সরাসরি তদারকি করা যাবে।
কেনাকাটায় স্বচ্ছতা ফেরাতে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত কমিটিতে প্রস্তাব পাঠানোর আগেই বাজেট বরাদ্দ আছে কি না, তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ক্রয় প্রস্তাবের সারসংক্ষেপ ‘সরকারি ক্রয় বিধিমালা (পিপিআর), ২০২৫’-এর তপশিল-৭ মেনে প্রস্তুত করতে হবে এবং সভার অন্তত চার কার্যদিবস আগে তা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দিতে হবে।
বিভিন্ন সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে জমি কিংবা আইনি বিরোধের ক্ষেত্রে সরাসরি আদালতে না গিয়ে সমঝোতার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মধ্যস্থতায় আন্তঃমন্ত্রণালয় আলোচনার মাধ্যমে এসব অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিষ্পত্তির ওপর জোর দেওয়া হয়।
এ ছাড়া প্রশাসনিক কাঠামোকে আরও বেগবান করতে অপ্রয়োজনীয় পদ বিলুপ্তকরণ, শূন্য পদ দ্রুত পূরণ এবং প্রতি তিন মাস পরপর অর্গানোগ্রাম হালনাগাদ রাখার নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

আপনার মতামত লিখুন